'রড দিয়ে...,' গোয়ার অভিশপ্ত নাইটক্লাবের বিস্ফোরক অভিযোগ তরুণীর, লুথরা ভাইদের...

পাসপোর্ট বাতিলের পরপরই থাইল্যান্ডে সৌরভ লুথরা ও গৌরব লুথরাকে আটক করে সেখানকার পুলিশ।

Published on: Dec 12, 2025 12:02 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এই মূহুর্তে খবরের শিরোনামে রয়েছে গোয়ার নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন।’ এই ঘটনার পরেই দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন নাইটক্লাবের দুই মালিক। যদিও দু'জনকেই ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিনা লাইসেন্সেই ক্লাব চালাচ্ছিলেন গৌরব ও সৌরভ লুথরা। পাশাপাশি এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরেই কোনও সাহায্য না করেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন তাঁরা। এবার লুথরা ভাইদের বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল।

গোয়ার অভিশপ্ত নাইটক্লাবের বিস্ফোরক অভিযোগ তরুণীর (সৌজন্যে টুইটার )
গোয়ার অভিশপ্ত নাইটক্লাবের বিস্ফোরক অভিযোগ তরুণীর (সৌজন্যে টুইটার )

জানা গিয়েছে, লুথরা ভাইদের মালিকানাধীন গোয়ার ওই নাইটক্লাবে গত মাসে এক তরুণী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করা হয়েছিল। এরপর ওই নাইটক্লাবের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বৈভব চান্দেল নামে মুম্বইয়ের এক মহিলা। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার দিন ক্লাবের কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে অভদ্রভাবে কথা বলেছিলেন, অনুপযুক্ত আচরণ করেছিলেন এবং রড দিয়ে তাঁদের আঘাত করেছিলেন। ক্লাবটি একটি শ্বাসরোধকারী। কারণ এর প্রবেশপথ এবং প্রস্থানপথ মাত্র একটি। মহিলার অভিযোগ, 'আমি ১ নভেম্বর আমার তুতো ভাইদের সঙ্গে রোমিও লেনে গিয়েছিলাম। আমরা মোট ১৩ জন ছিলাম। ক্লাবটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যেখানে ঢুকলেই দমবন্ধ হয়ে যাবে। এর প্রবেশপথ এবং প্রস্থানপথ মাত্র একটি। কর্মীরা আমাদের সঙ্গে অভদ্রভাবে আচরণ করেছিলেন। আমরা যখন ভোর ৩টের দিকে ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলাম, তখন একটি ভারী চেয়ার আমাদের পথে আটকে ছিল। আমরা সেটিকে সরিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমারা বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওই ক্লাবের ম্যানেজার আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং আমাদের বলেন, আমরা ক্লাবের আসবাবপত্র নষ্ট করেছি। এরপর আমার ভাইদের কলার ধরেন তিনি। আমরা যখন ক্ষমা চেয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন সে সমস্ত নিরাপত্তা কর্মী, বাউন্সারদের ডাকে। তারা আমাদের তাড়া করতে শুরু করে। আমাদের গায়ে হাত তোলে। আমাদের তাঁরা রড দিয়ে মারধর করে। তারা আমার বোনের বুকে আঘাত করে, তাঁরা তাঁকে এত জোরে ধাক্কা দিয়েছিল যে, সে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে যায়। এরপর তারা আমাদের প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করে দেয়। যাতে আমরা বের হতে না পারি। এরপর একজন বাউন্সার রড নিয়ে আমার ভাইয়ের দিকে ছুটে আসেন। তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করেন। এরপর আমি কোনওভাবে আমার ভাইকে সেখান থেকে টেনে বের করি। কর্মীরা আমাদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন। সবাই গুরুতর আহত হওয়ায়, আমরা সকালে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি পুলিশে এফআইআর দায়ের করি।' তিনি ক্লাবের ম্যানেজার অজয় কবিটকর, আর এক কর্মী জুনায়েদ আলি এবং নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

অন্যদিকে, গোয়ার আরপোরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর পরে তদন্তে নেমে যে সব প্রাথমিক তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে তৎপর হয় ইন্টারপোল। পাসপোর্ট বাতিলের পরপরই থাইল্যান্ডে সৌরভ লুথরা ও গৌরব লুথরাকে আটক করে সেখানকার পুলিশ। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবের মালিক এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই লুক আউট সার্কুলার জারি করেছিল গোয়া পুলিশ। ইন্টারপোল এরপর ব্লু কর্নার নোটিস জারি করে আন্তর্জাতিক নজরদারি শুরু করে। তারপরেই দুই ভাইকে পাকড়াও করে থাইল্যান্ড পুলিশ। গোয়া সরকারের অনুরোধে বিদেশ মন্ত্রক তাদের পাসপোর্ট বাতিল করতেই বিদেশে লুথরা ভাইদের গতিবিধির উপর নজরদারি জোরদার হয়। এদিকে, দিল্লির এক আদালত বুধবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করে। ফলে দেশে ফিরে এলে লুথরা ভাইদের গ্রেফতার হওয়া কার্যত নিশ্চিত। আর তাই লুথরা ভাইদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে লুথরা ভাইদের থাই কর্মকর্তারা ব্যাংককে নিয়ে আসছেন। সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভারতের একটি আইনি দল অভিযুক্তদের হেফাজতে নেবে। দুই ভাইকে সুয়ান ফ্লু ইমিগ্রেশন ডিটেকশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং নির্বাসনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই থাকবে।