Guru Purnima puja: আষাঢ় পূর্ণিমা ও গুরু পূর্ণিমায় বিরল শুভ যোগে স্নান ও দানের মহাপুণ্য! জানুন শুভ সময় ও সঠিক নিয়ম

Ashadha Purnima Guru Purnima 2026: আষাঢ় পূর্ণিমার পবিত্র দিনে পবিত্র নদী বা গঙ্গাস্নান করে অন্ন, বস্ত্র ও তিল দান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে মুছে যায় এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি উপচে পড়ে।

Published on: Jul 29, 2026, 09:40:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Snan Daan auspicious muhurat timing: সনাতন ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথির এক বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। এই পবিত্র দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘আষাঢ় পূর্ণিমা’ এবং ‘গুরু পূর্ণিমা’ (Guru Purnima) হিসেবে পরম ভক্তিভরে উদযাপিত হয়। এই দিনটি মূলত সমস্ত গুরুজন, শিক্ষক এবং পথপ্রদর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পাশাপাশি মহাভারতের রচিয়তা মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মজয়ন্তী হিসেবে গণ্য করা হয়।

আষাঢ় পূর্ণিমা ও গুরু পূর্ণিমায় বিরল শুভ যোগে স্নান ও দানের মহাপুণ্য!
আষাঢ় পূর্ণিমা ও গুরু পূর্ণিমায় বিরল শুভ যোগে স্নান ও দানের মহাপুণ্য!

এই বছরের আষাঢ় পূর্ণিমার বিশেষ পুণ্য তিথিতে স্নান, দান ও গুরুর আরাধনার জন্য দুর্লভ এবং অত্যন্ত শুভ কিছু গ্রহীয় যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এই শুভ মুহূর্তে স্নান-দান ও গুরু পূজনের সঠিক নিয়ম, সময়সূচী এবং এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব জেনে নিন।

আষাঢ় পূর্ণিমার পবিত্র দিনে পবিত্র নদী বা গঙ্গাস্নান করে অন্ন, বস্ত্র ও তিল দান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে মুছে যায় এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি উপচে পড়ে।

আষাঢ় পূর্ণিমার শুভ মুহূর্ত ও স্নান-দানের সময়সূচী

আষাঢ় পূর্ণিমা বা গুরু পূর্ণিমার দিনে ভক্তরা সারা দিনব্যাপী শুভ যোগের মধ্যে পূজার্চনা ও দানধ্যান করার সুযোগ পাবেন:

  • স্নান ও দানের মুহূর্ত: ব্রাহ্ম মুহূর্তে অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বে পবিত্র নদীতে বা বাড়িতে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান সম্পন্ন করা সবচেয়ে উত্তম।
  • শুভ যোগের প্রভাব: এই দিন মহাদেব ও পরমাত্মা বিষ্ণুর কৃপাদৃষ্টি অর্জনের জন্য এক বিশেষ শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে, যা স্নান, তর্পণ ও দানের প্রভাবকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

গুরু পূর্ণিমা ও আষাঢ় পূর্ণিমার পূজাবিধি

আষাঢ় পূর্ণিমার সকালে সঠিক প্রথা ও ভক্তিমনে নিম্নে উল্লিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা উচিত:

১. পবিত্র স্নান ও সংকল্প: সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার শুভ্র বা হলুদ পোশাক পরিধান করুন। এরপর মনে মনে ঈশ্বর ও গুরুকে স্মরণ করে পুজো ও ব্রতের সংকল্প নিন।

২. গুরু ও মহর্ষি বেদব্যাসের পূজা: একটি পবিত্র বেদীতে মহর্ষি বেদব্যাস ও আপনার দীক্ষাগুরুর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে চন্দন, হলুদ ফুল, ফল ও মিষ্টি অর্পণ করুন। গুরুর চরণ স্পর্শ করে প্রনাম করে তাঁর থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করুন।

৩. চন্দ্রদেব ও সত্যনারায়ণ পুজো: আষাঢ় পূর্ণিমার সন্ধ্যায় চন্দ্রদেবকে কাঁচা দুধ ও জল মিশিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন। পাশাপাশি ঘরে শ্রী সত্যনারায়ণ কথা বা বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করলে পারিবারিক কলহ দূর হয় এবং আর্থিক সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

গুরু পূর্ণিমা ও আষাঢ় পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

  • মহর্ষি বেদব্যাস জয়ন্তী: বেদকে চার ভাগে বিভক্তকারী মহর্ষি বেদব্যাস এই পূর্ণিমা তিথিতেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এটিকে ব্যাস পূর্ণিমা বলা হয়।
  • দান-ধ্যানের অলৌকিক ফল: এই বিশেষ দিনে চাল, গম, তিল, হলুদ বস্ত্র, গুড় ও ছোলার ডাল অভাবীদের দান করলে কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি গ্রহ শক্তিশালী হয় এবং ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলে যায়।

আষাঢ় পূর্ণিমা কেবল একটি পঞ্জিকার তিথি নয়, এটি জীবনকে সুপথে চালিত করার এবং গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক পরম পুণ্য দিন। এই শুভ মুহূর্তে নিষ্ঠাভরে স্নান-দান ও গুরুপূজা সম্পন্ন করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও পরম আত্মিক উন্নতি লাভ হয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More