গ্রহদোষ কাটাতে চান? ভাদ্রপদ অমাবস্যায় রাশি অনুযায়ী করুন এই বিশেষ দান
২০২৬ সালের ভাদ্রপদ অমাবস্যার পুণ্য তিথির সঠিক সময়সূচী, তাৎপর্য এবং ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বিশেষ দান সম্পর্কিত তথ্য জেনে নিন।
সনাতন বৈদিক ধর্মে ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিটি অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে, ভাদ্রপদ অমাবস্যায় তীর্থস্নান, দান-ধ্যান, শ্রাদ্ধ এবং পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং পিতৃপুরুষের পরম আশীর্বাদ পাওয়া যায়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই দিনে রাশি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু জিনিস দান করলে জন্মকুণ্ডলীতে থাকা পিতৃ দোষ, কালসর্প দোষ এবং বিভিন্ন গ্রহজনিত সমস্যা নিমেষেই কেটে যায়।

২০২৬ সালের ভাদ্রপদ অমাবস্যার পুণ্য তিথির সঠিক সময়সূচী, তাৎপর্য এবং ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বিশেষ দান সম্পর্কিত তথ্য জেনে নিন।
ভাদ্রপদ অমাবস্যা ২০২৬-এর সঠিক সময়সূচী ও ধর্মীয় তাৎপর্য
বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্রপদ অমাবস্যা তিথির সূচনা ও উদয়া তিথির সময়সূচী নিম্নরূপ:
- অমাবস্যা তিথি শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
- অমাবস্যা তিথি সমাপ্তি: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার)
- স্নান ও দানের পুণ্য মুহূর্ত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে উদয়া তিথিতে পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করে তর্পণ ও দান-ধ্যান করা শাস্ত্রসম্মত।
- ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্রপদ অমাবস্যায় কৃত তর্পণ পিতৃপুরুষকে সন্তুষ্ট করে এবং সংসারে বংশবৃদ্ধি, ধনধান্য ও সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে আসে।
ভাদ্রপদ অমাবস্যায় ১২টি রাশি অনুযায়ী কী দান করবেন?
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, নিজের রাশি অনুযায়ী শস্য, বস্ত্র বা দ্রব্য দান করলে গ্রহরাজ প্রসন্ন হন এবং পিতৃ দোষ শান্ত হয়:
- ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা ভাদ্রপদ অমাবস্যার দিন গম, লাল বস্ত্র বা গুড় দান করুন। এতে শারীরিক কষ্ট দূর হবে ও কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসবে।
- খ) বৃষ রাশি (Taurus): বৃষ রাশির জাতকদের জন্য চাল, সাদা তিল, দুধ বা সাদা বস্ত্র দান করা শুভ। এতে আর্থিক সংকট কেটে গিয়ে জীবনে স্থায়িত্ব আসবে।
- গ) মিথুন রাশি (Gemini): মিথুন রাশির জাতক-জাতিকারা অনাথ বা অসচ্ছলদের সবুজ মুগ ডাল, সবুজ শাকসবজি বা বস্ত্র দান করুন। এতে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসায়িক লাভ বাড়বে।
- ঘ) কর্কট রাশি (Cancer): কর্কট রাশির জাতকদের অমাবস্যার দিন রুপোর বস্তু, দুধ, মিছরি বা সাদা তিল দান করা উচিত। এতে মানসিক অস্থিরতা কেটে যাবে।
- ঙ) সিংহ রাশি (Leo): সিংহ রাশির জাতক-জাতিকারা তামার পাত্র, লাল চন্দন, গম বা জাফরান দান করুন। এতে সমাজে মান-সম্মান ও প্রতিপত্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
- চ) কন্যা রাশি (Virgo): কন্যা রাশির জাতকরা পশুপাখিকে সবুজ ঘাস খাওয়ান এবং অসহায় মানুষদের ছাতা বা সবুজ ফল দান করুন। এতে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দূর হবে।
- ছ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ঘি, সাদা চাল বা মিষ্টি খাবার দান করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এতে দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে।
- জ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির জাতকরা মসুর ডাল, লাল বস্ত্র বা গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টি দান করুন। এতে রক্তঘটিত সমস্যা ও শত্রুর ভয় দূর হবে।
- ঝ) ধনু রাশি (Sagittarius): ধনু রাশির জাতক-জাতিকারা ছোলার ডাল, হলুদ বস্ত্র, বই বা হলুদ ফল দান করুন। এতে ভাগ্য বৃদ্ধি পাবে ও বাধা কেটে যাবে।
- ঞ) মকর রাশি (Capricorn): মকর রাশির জাতকদের জন্য কালো তিল, ছাতা, সর্ষের তেল বা চামড়ার জুতো দান করা অত্যন্ত শুভ। এতে শনিদেবের কোপ শান্ত হয়।
- ট) কুম্ভ রাশি (Aquarius): কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকারা কালো কম্বল, লোহাজাতীয় বস্তু বা ছাতুর তৈরি খাবার দান করুন। এতে কেরিয়ারে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাধা দূর হবে।
- ঠ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতকরা হলুদ বস্ত্র, কলা, ছোলার ডাল বা ধর্মীয় বই দান করুন। এতে মনস্তাত্ত্বিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রগতি মিলবে।
অমাবস্যা তিথিতে পিতৃ তর্পণ ও পুজোর মূল নিয়মাবলী
- নদী বা জলাশয়ে স্নান: অমাবস্যার দিন সকালে উদীয়মান সূর্যের সামনে নদীতে বা স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করা উচিত।
- দক্ষিণমুখী তর্পণ: পিতৃতর্পণের সময় দক্ষিণ দিকে মুখ করে হাতে কাঁচা দুধ, তিল ও জল নিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদন করুন।
- অন্ন দান (পঞ্চবলি): অমাবস্যায় তৈরি খাবার থেকে কিছু অংশ কাক, গরু, কুকুর ও পিঁপড়েকে খেতে দেওয়া অত্যন্ত পুণ্যজনক কাজ।
ভাদ্রপদ অমাবস্যা হলো পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার এবং নিজের রাশি অনুযায়ী দানে গ্রহদোষ কাটানোর এক বিশেষ শুভ সুযোগ। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও দান-ধ্যান করলে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও পারিবারিক শান্তি সুনিশ্চিত হয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


