Bhoot Chaturdashi 2025 14 Shaak: ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়ার প্রথা প্রচলিত? জেনে নিন শাস্ত্রমত

Bhoot Chaturdashi 2025 14 Shaak List: ভূত চতুর্দশীতে মোট ১৪টি শাক খাওয়ার রীতি। কিন্তু শাস্ত্রমতে কোন কোন শাক এই তালিকায় রাখা উচিত? জেনে নিন তালিকা।

Published on: Oct 18, 2025, 19:00:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভূত চতুর্দশীর দিনটি বাঙালি সংস্কৃতিতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কালীপুজোর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। এই দিনে ১৪ শাক খাওয়া এবং ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়ার প্রথা প্রচলিত?
ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়ার প্রথা প্রচলিত?

১৪ শাক রান্নার প্রথা

ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক খাওয়ার প্রথাটি মূলত এই সময়ে প্রকৃতির পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শরৎকাল থেকে শীতকালে প্রবেশের এই সন্ধিক্ষণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে এই বিশেষ শাকগুলি খাওয়ার চল।

১. ওল শাক (ওল গাছের পাতা), ২. বেথো শাক (বেতো), ৩. কালকাসুন্দা শাক (কালকাসুন্দে), ৪. সর্ষে শাক (সরিষা), ৫. নিম পাতা, ৬. জয়ন্তী শাক, ৭. শালিঞ্চা শাক (শাঞ্চে), ৮. হেলেঞ্চা শাক (হিঞ্চে), ৯. পলতা শাক (পটল পাতা), ১০. শুলফা শাক (শেলুকা বা শতপুষ্প), ১১. গুলঞ্চ শাক, ১২. কেঁউ শাক, ১৩. ঘেঁটু শাক, ১৪. শুশনি শাক।

ভূত চতুর্দশী পালনের নেপথ্যে পৌরাণিক কাহিনি

নরকাসুর বধ

এটি 'নরক চতুর্দশী' নামেও পরিচিত। পুরাণ অনুসারে, এই তিথিতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী সত্যভামা মিলিতভাবে পরাক্রমশালী দানব নরকাসুরকে বধ করে পৃথিবীর ১৬,০০০ নারীকে তার বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন। এই বিজয়কে উদযাপন করতে এবং নরকের অন্ধকার দূর করতে পরের দিন দীপাবলি উৎসব পালন করা হয়।

রাজা বলির মর্ত্যে আগমন

অন্য একটি প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, দৈত্যরাজ বলি ছিলেন এক ধার্মিক ও দাতা রাজা। ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার রূপে বলির কাছে তিন পা জমি ভিক্ষা চাইলে, বলি তা দান করেন। বামন তখন এক পায়ে স্বর্গ, দ্বিতীয় পায়ে মর্ত্য এবং তৃতীয় পা রাখার জন্য বলির মস্তকে রাখেন এবং তাঁকে পাতালে প্রেরণ করেন। বলির দানে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে আশীর্বাদ করেন যে, তিনি প্রতি বছর কার্তিক মাসের এই চতুর্দশী তিথিতে তাঁর অনুচর ভূত-প্রেতদের সঙ্গে মর্ত্যে এসে পুজো গ্রহণ করতে পারবেন। সেই বিশ্বাস থেকেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ কামনায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়।

চৌদ্দ পুরুষের উদ্দেশ্যে প্রদীপ

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর দিন স্বর্গ ও নরকের দরজা খুলে যায় এবং গৃহস্থের ১৪ পুরুষের আত্মা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাঁদের আগমন ও প্রস্থানের পথ আলোকিত করে রাখার জন্যই বাড়ির প্রতিটি অন্ধকার কোণে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং ১৪ শাক নিবেদন করা হয়।