পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুদ্ধিদাতা বুধের মহাগোচর! ৩ রাশির ভালো সময় শুরু হবে এবার, মিলবে কেরিয়ারে দুর্দান্ত সাফল্য
বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, গ্রহরাজ বুধ খুব শীঘ্রই শুক্র গ্রহের স্বক্ষেত্র পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে (Purva Phalguni Nakshatra) প্রবেশ করতে চলেছেন। পূর্ব ফাল্গুনী হলো ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে ১১তম নক্ষত্র, যার অধিপতি গ্রহ হলেন ধন, প্রেম ও বৈভবের কারক শুক্র (Venus)।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহমণ্ডলীর রাজকুমার তথা বুদ্ধি, বাচনিক প্রভাব, বাণিজ্য, গণিত, যুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতীক ও কারক গ্রহ হলো বুধ (Mercury)। বুধের রাশি পরিবর্তনের পাশাপাশি তার নক্ষত্র পরিবর্তনও মানবজীবনের আর্থিক সিদ্ধান্ত, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং কেরিয়ারের গতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, গ্রহরাজ বুধ খুব শীঘ্রই শুক্র গ্রহের স্বক্ষেত্র পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে (Purva Phalguni Nakshatra) প্রবেশ করতে চলেছেন। পূর্ব ফাল্গুনী হলো ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে ১১তম নক্ষত্র, যার অধিপতি গ্রহ হলেন ধন, প্রেম ও বৈভবের কারক শুক্র (Venus)। বুদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার কারক বুধ যখন শুক্রের নক্ষত্রমণ্ডলে প্রবেশ করেন, তখন জ্যোতিষ মণ্ডলে এক অত্যন্ত বলশালী এবং লাভজনক সংযোগ তৈরি হয়। পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের এই গোচরের সুপ্রভাবে বিশেষ ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে কেরিয়ারের উল্কা গতিতে প্রগতি, ব্যবসায় বাম্পার লাভ এবং হঠাৎ আকস্মিক অর্থপ্রাপ্তির রাজকীয় সুযোগ আসতে চলেছে। পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের গোচরে কোন ৩ রাশির ভাগ্যে সোনালী দিন আসছে—তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের গোচরের বৈদিক ও জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রের নক্ষত্রে বুধের অবস্থানকে বস্তুগত সুখ এবং বুদ্ধির সঠিক ব্যবহারের শ্রেষ্ঠ সময় মানা হয়:
- বুদ্ধি ও বৈভবের সংমিশ্রণ: বুধের তীক্ষ্ণ অ্যানালিটিক্যাল স্কিল বা বিশ্লেষণ ক্ষমতার সাথে শুক্রের সৃজনশীলতা ও সমৃদ্ধি যুক্ত হওয়ায় জাতক যেকোনো কঠিন ব্যবসায়িক বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিখুঁতভাবে নিতে সক্ষম হন।
- বাণিজ্য, মিডিয়া ও ফ্যাশনে সাফল্য: আইটি, ফ্যাশন, গ্ল্যামার, ডিজিটাল মার্কেটিং, লেখালেখি, ব্যাঙ্কিং এবং স্বাধীন ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এই গোচরকালে দুর্দান্ত সম্মান ও লাভজনক সুযোগ পেয়ে থাকেন।
২. পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের গোচরে কপাল খুলবে যে ৩ রাশির
ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বুধের এই নক্ষত্র গোচর পঞ্চম ভাব (বিদ্যা, বুদ্ধি ও আকস্মিক অর্থ) সক্রিয় করবে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন প্রার্থীরা দারুণ খবর পেতে পারেন। শেয়ার বাজার বা পুরনো কোনো সুচিন্তিত বিনিয়োগ থেকে হঠাৎ মোটা অঙ্কের মুনাফা হাতে আসতে পারে। সন্তান সংক্রান্ত কোনো সুসংবাদে পরিবারে আনন্দের আমেজ থাকবে।
খ) মিথুন রাশি (Gemini): মিথুন রাশির নিজস্ব অধিপতি গ্রহ হলেন স্বয়ং বুধদেব। ফলে আপনার চতুর্থ ভাব অর্থাৎ সুখ, গৃহ, প্রপার্টি ও যানবাহনের ঘরে এই গোচরের শুভ প্রভাব পড়বে। নতুন বাড়ি বা পছন্দের গাড়ি কেনার বহুদিনের স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে আপনার বাচনিক দক্ষতার জোরে আটকে থাকা বড় প্রজেক্টগুলো দ্রুত গতি পাবে। পারিবারিক জীবনে শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
গ) কুম্ভ রাশি (Aquarius): কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বুধের এই গোচর সপ্তম ভাব (ব্যবসা ও জীবনসঙ্গী) স্পর্শ করায় ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বড় কোনো মোড় আসতে পারে। অংশীদারি বা যৌথ ব্যবসায় নতুন কোনো লাভজনক ডিল সই হতে পারে। জীবনসঙ্গীর পূর্ণ সমর্থন ও পরামর্শ আপনার কেরিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সামাজিক ক্ষেত্রে আপনার মান-সম্মান ও আকর্ষণ শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. বুধ দেবের পূর্ণ শুভ ফল লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের এই গোচরের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং গ্রহের শুভ শক্তি বৃদ্ধি করতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করতে পারেন:
- শ্রী গণেশের পূজা: প্রতি বুধবারে ভগবান শ্রী গণেশকে কচি সবুজ দুর্বা নিবেদন করুন এবং ‘ওঁ বুং বুধায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন।
- পশুপাখির সেবা: বুধবারে সবুজ ঘাস গো-মাতাকে খাওয়ানো এবং পাখিদের ভিজানো মুগ ডাল খেতে দেওয়া অত্যন্ত শুভ।
- সবুজ বস্ত্র বা দান: দুঃস্থ বা অসহায় মানুষদের সবুজ রঙের বস্ত্র বা সবুজ মুগ ডাল দান করলে অর্থনৈতিক জটিলতা কেটে যায়।
পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে বুধের এই মহাগোচর মেষ, মিথুন ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য আর্থিক স্বাবলম্বিতা, ব্যবসায় প্রগতি এবং কেরিয়ারে উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসছে। সঠিক লক্ষ্য ও দূরদর্শিতার সাথে পদক্ষেপ নিলে এই সময় আপনার জীবনে স্থায়ী সফলতা নিয়ে আসবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


