৪ অক্টোবর দেবগুরু ও চন্দ্রের মহা মিলনে গঠিত হচ্ছে গজকেশরি রাজযোগ! ৩ রাশির জীবনে শুরু হবে গোল্ডেন টাইম
আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চন্দ্রদেবের স্থান পরিবর্তনের ফলে মহাকাশে তৈরি হতে চলেছে এই পরম কাঙ্ক্ষিত গজকেশরি যোগ। সিংহ রাশি বা গজকেশরির নিজস্ব শুভ প্রভাবযুক্ত স্থানে গঠিত হতে চলা এই রাজযোগের প্রভাবে নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের কেরিয়ার ও আর্থিক পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক মোড় আসতে চলেছে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবগুরু বৃহস্পতি ও চন্দ্রদেবের শুভ সহাবস্থান বা যুতিকে অত্যন্ত পবিত্র, রাজকীয় এবং অলৌকিক ফলদায়ক বলে গণ্য করা হয়। বৈদিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, যখন শুভ গ্রহ দেবগুরু বৃহস্পতি এবং মন ও অনুভূতির কারক চন্দ্রদেব একই রাশিতে অবস্থান করেন অথবা একে অপরের সাথে কেন্দ্র যোগে (১ম, ৪র্থ, ৭ম বা ১০ম ভাবে) অবস্থান করেন, তখন গঠিত হয় জ্যোতিষশাস্ত্রের অন্যতম ধনাত্মক ও মহা ভাগ্যবদলকারী 'গজকেশরি রাজযোগ' (Gajkesari Rajyog)।

জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চন্দ্রদেবের স্থান পরিবর্তনের ফলে মহাকাশে তৈরি হতে চলেছে এই পরম কাঙ্ক্ষিত গজকেশরি যোগ। সিংহ রাশি বা গজকেশরির নিজস্ব শুভ প্রভাবযুক্ত স্থানে গঠিত হতে চলা এই রাজযোগের প্রভাবে নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের কেরিয়ার ও আর্থিক পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক মোড় আসতে চলেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা উদ্ধার, নতুন বাহন বা প্রপার্টি ক্রয়, ব্যবসায় রেকর্ড মুনাফা এবং কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মেষ, সিংহ ও বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকারা গজকেশরি রাজযোগে সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন। এই পরম শুভ যোগে কোন ৩ রাশির জীবনে সোনালী অধ্যায় শুরু হতে চলেছে—জেনে নিন।
১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে 'গজকেশরি রাজযোগ'-এর বিশেষ গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে 'গজ' অর্থে হাতী (যা শক্তি ও ধৈর্যের প্রতীক) এবং 'কেশরি' অর্থে সিংহ (যা সাহসিকতা ও নেতৃত্বের প্রতীক):
- মান-সম্মান ও খ্যাতির প্রবৃদ্ধি: গজকেশরি রাজযোগের প্রভাবে জাতকের মেধা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ এবং সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
- আকস্মিক ধনলাভ ও সাফল্য: ব্যাঙ্কিং, শিক্ষা, রিয়েল এস্টেট, রাজনীতি, প্রশাসনিক পদ, শেয়ার বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা গজকেশরি যোগের শুভ প্রভাবে রাতারাতি বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন।
২. ৪ অক্টোবরের গজকেশরি রাজযোগে ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলবে যে ৩ রাশির
ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির পঞ্চম ও নবম ভাবকে বলীয়ান করবে দেবগুরু ও চন্দ্রদেবের এই মহা সংযোগ। ফলে মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের আয়ের একাধিক নতুন রাস্তা সুগম হবে। চাকুরিজীবীরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রমোশন বা বড় পদ পেতে পারেন। শেয়ার বাজার বা পুরোনো কোনো সুযোগ থেকে আকস্মিক বিপুল রিটার্ন মিলতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টি বরদানস্বরূপ।
খ) সিংহ রাশি (Leo): সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই গজকেশরি রাজযোগ চরম ভাগ্যোদয় নিয়ে আসতে চলেছে। আপনার আত্মবিশ্বাস ও কাজের প্রতি একাগ্রতা সর্বত্র প্রশংসিত হবে। ব্যবসায়ীরা নতুন প্রজেক্ট বা বড় ক্লায়েন্টদের সাথে শুভ চুক্তিতে পৌঁছাবেন। নতুন বাহন, জমি বা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন সফল হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের যোগ তৈরি হচ্ছে।
গ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির কর্ম ভাব ও ভাগ্য স্থান শক্তিশালী হওয়ায় চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী—উভয় তরফের জন্যই শুভ সময়ের সূচনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা যেকোনো সরকারি বা আইনি জটিলতার দ্রুত সমাধান মিলবে। কর্মক্ষেত্রে আপনার নেওয়া সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ফলে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ব্যবসায়ীদের জমানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. গজকেশরি রাজযোগের শতভাগ শুভ ফল লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
৪ অক্টোবর গঠিত গজকেশরি রাজযোগের পরম আশীর্বাদ পেতে এবং দেবগুরু ও চন্দ্রদেবের কৃপা বজায় রাখতে কিছু সহজ বৈদিক নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে:
- শিবলিঙ্গে দুধ ও জল নিবেদন: প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারে শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ ও গঙ্গার জল অর্পণ করুন এবং 'ওঁ নমঃ শিবায়' মন্ত্র জপ করুন।
- মা লক্ষ্মীর পুজো ও ক্ষীর নিবেদন: ঘরের ঠাকুরঘরে মা লক্ষ্মী ও বিষ্ণুদেবের পুজো করে চালের ক্ষীর ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন।
- বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন স্নানের পর অন্তত ১০৮ বার 'ওঁ গুরবে নমঃ' এবং 'ওঁ সোমায় নমঃ' মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত কল্যাণকর।
৪ অক্টোবর ২০২৬-এ গঠিত গজকেশরি রাজযোগ মেষ, সিংহ ও বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থ, গাড়ি-বাড়ি লাভ ও কেরিয়ারে বিপুল অগ্রগতির এক ঐতিহাসিক সুযোগ নিয়ে এসেছে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও ইতিবাচক মানসিকতার সাথে এগিয়ে চললে এই সময়টিতে জীবনে চিরস্থায়ী সুখ ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


