কর্কট রাশিতে বিরল ‘চতুর্গ্রহী যোগ’! ১১ অগস্ট থেকে ভাগ্য চকমাবে এই ৩ রাশির, মিলবে রাজকীয় সাফল্য
কর্কট রাশিতে আত্মার কারক সূর্য, মনের কারক চন্দ্র, বুদ্ধির কারক বুধ এবং জ্ঞানের কারক দেবগুরু বৃহস্পতির উপস্থিতি একসঙ্গে রাজযোগের মতো শক্তিশালী শুভ ফল প্রদান করবে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে একাধিক গ্রহ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট রাশিতে একত্রিত হয়, তখন বিশেষ যোগ ও সংযোগের সৃষ্টি হয়। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ মহাকাশে একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও শক্তিশালী জ্যোতিষীয় ঘটনা ঘটতে চলেছে। ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চন্দ্রদেব কর্কট রাশিতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত সূর্য, দেবগুরু বৃহস্পতি এবং বুধের সাথে তাঁর সংযোগ ঘটবে। এর ফলে কর্কট রাশিতে তৈরি হবে এক বিরল ‘চতুর্গ্রহী যোগ’ (Chaturgrahi Yog)।

একই রাশিতে সূর্য, চন্দ্র, বৃহস্পতি ও বুধ—এই চার প্রধান গ্রহের মিলন জ্যোতিষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত শুভ ও অলৌকিক বলে বিবেচিত। এই চতুর্গ্রহী যোগের প্রভাবে বেশ কয়েকটি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে এক অভাবনীয় ও রাজকীয় সুবর্ণ সময় শুরু হতে চলেছে। ১১ আগস্টের এই দুর্লভ চতুর্গ্রহী যোগ এবং কোন কোন রাশির ভাগ্যের চাকা ঘুরবে, তা জেনে নিন।
জ্যোতিষ মতে, কর্কট হলো চন্দ্রের নিজস্ব রাশি এবং দেবগুরু বৃহস্পতির তুঙ্গ রাশি (Exalted Sign)। এই রাশিতে আত্মার কারক সূর্য, মনের কারক চন্দ্র, বুদ্ধির কারক বুধ এবং জ্ঞানের কারক দেবগুরু বৃহস্পতির উপস্থিতি একসঙ্গে রাজযোগের মতো শক্তিশালী শুভ ফল প্রদান করবে। এই চার গ্রহের মিলনে জাতকের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ভাগ্য আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে।
চতুর্গ্রহী যোগের শুভ প্রভাবে ভাগ্য খুলবে যে ৩ রাশির
- কর্কট রাশি: যেহেতু আপনার নিজের রাশিতেই এই চতুর্গ্রহী যোগ গঠিত হচ্ছে, তাই এর সবচেয়ে বড় সুফল আপনিই পেতে চলেছেন। আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সমাজে আপনার সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়বে। ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি বা বড় সুযোগ এবার হাতের মুঠোয় আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আশাতীত আর্থিক মুনাফা অর্জিত হবে।
- কন্যা রাশি: কন্যা রাশির জাতকদের জন্য এই দুর্লভ যোগ এক অমূল্য বরদান হিসেবে প্রমাণিত হবে। আপনার আয়ের ঘরে এই চতুর্গ্রহী রাজযোগ তৈরি হওয়ার কারণে আয়ের একাধিক নতুন উৎস তৈরি হবে। পুরোনো বিনিয়োগ বা আটকে থাকা টাকা হঠাৎ ফেরত পেয়ে ব্যাংক ব্যালেন্স চমৎকারভাবে বাড়বে। শেয়ার বাজার বা লটারির মতো ক্ষেত্র থেকেও অপ্রত্যাশিত ধনলাভের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
- মীন রাশি: মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময়টি পরম ভাগ্যশালী। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বিরাট সাফল্য পেতে পারেন। সন্তানের পক্ষ থেকে কোনো সুসংবাদ আপনার মন আনন্দে ভরিয়ে দেবে। কাজের সূত্রে দূরভ্রমণ বা বিদেশ যাত্রার সুযোগ আসতে পারে এবং ভাগ্য আপনাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করবে।
শুভ প্রভাব ধরে রাখার জন্য জ্যোতিষীয় পরামর্শ
চতুর্গ্রহী যোগের শুভ শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে এবং জীবনে ইতিবাচক প্রবাহ ধরে রাখতে কিছু সহজ কাজ করা অত্যন্ত ফলদায়ক:
১. প্রতিদিন সকালে উদীয়মান সূর্যদেবকে তামার পাত্রে জল অর্পণ করুন এবং ওঙ্কার জপ করুন।
২. শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ ও জল ঢেলে অভিষেক করুন, কারণ ভগবান শিব হলেন চন্দ্রের অধিপতি।
৩. বৃহস্পতিবারে বয়স্ক ব্যক্তি বা শিক্ষকদের আশীর্বাদ নিন এবং সাধ্যমতো চানা ডাল বা হলুদ ফল দান করুন।
গ্রহের এমন বিরল ও শুভ সংযোগ মানবজীবনে বহু বছর পর পর আসে। আগস্ট মাসের এই অলৌকিক চতুর্গ্রহী যোগ সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং সৎ মনোভাবের সাথে কাজ করা মানুষের জীবনে অভূতপূর্ব সাফল্য ও সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


