কে দক্ষিণাকালী? কালীপুজোর আগে জেনে নিন মায়ের এই রূপের কথা

এই রূপটি একই সঙ্গে ভয়ংকর এবং ভক্তের প্রতি দয়ালু। দেবী কালীর এই বিশেষ অবতারের পিছনের পৌরাণিক গল্প এবং এর গভীর তাৎপর্য ভক্তদের কাছে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

Published on: Oct 18, 2025, 12:05:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মা কালীর যতগুলি রূপ প্রচলিত আছে, তার মধ্যে দক্ষিণাকালী সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাধারণত পূজিত রূপ। এই রূপটি একই সঙ্গে ভয়ংকর এবং ভক্তের প্রতি দয়ালু। দেবী কালীর এই বিশেষ অবতারের পেছনের মাইথোলজিক্যাল গল্প এবং এর গভীর তাৎপর্য হিন্দু ভক্তদের কাছে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

কে এই দক্ষিণাকালী?
কে এই দক্ষিণাকালী?

দক্ষিণাকালী কে?

দক্ষিণাকালী হলেন দেবী কালীর সেই বিশেষ রূপ, যেখানে তিনি দক্ষিণ দিকে মুখ করে অবস্থান করেন। হিন্দু তন্ত্রমতে, দক্ষিণ দিককে সাধারণত মোক্ষ বা মুক্তি লাভের দিক মনে করা হয়। দক্ষিণাকালী ভক্তদের মোক্ষ প্রদান করেন এবং ভয় ও বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

তাঁর রূপের বর্ণনা:

ডান হাত: তাঁর দুটি ডান হাত বর (আশীর্বাদ) এবং অভয় (ভয় দূর করা) মুদ্রায় থাকে। এই রূপেই তিনি ভক্তদের প্রতি দয়ালু।

  • বাম হাত: তাঁর দুটি বাম হাতে সদ্য কাটা একটি নরমুণ্ড এবং খড়্গ থাকে। এটি দুষ্ট শক্তি এবং অহংকার বিনাশের প্রতীক।
  • গায়ের রং: তাঁর গায়ের রং গভীর কালো, যা অসীমতা এবং সকল রং শোষণের প্রতীক।
  • জিহ্বা ও দাঁত: প্রসারিত জিহ্বা এবং দাঁত তার ভয়ংকর এবং সংহারিণী রূপকে তুলে ধরে।

পুরাণ গল্প: শিবের বুকে কালীর পদার্পণ

দক্ষিণাকালী রূপের উৎপত্তি নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রচলিত পৌরাণিক গল্পটি হলো শিবের বুকে দেবীর আরোহণের কাহিনি।

প্রাচীনকালে দারুক নামক এক শক্তিশালী অসুর ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে স্বর্গ ও মর্ত্যে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। সেই অসুরকে বধ করা সাধারণ দেবতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। দারুকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা তখন দেবী মহামায়ার শরণাপন্ন হন।

১. দেবী কালীর আবির্ভাব: দেবতাদের প্রার্থনায় দেবী মহামায়া ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হন। সেই রূপই হলো কালী। তিনি দারুক অসুরকে বধ করেন।

২. ক্রোধের বশে সংহার: কিন্তু দারুককে বধ করার পরেও দেবীর ক্রোধ শান্ত হলো না। তিনি উন্মত্তের মতো ত্রিলোকজুড়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলেন। তাঁর তাণ্ডবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে চলে গেল। দেবতারা তাঁকে শান্ত করতে পারছিলেন না।

৩. শিবের হস্তক্ষেপ: যখন দেবতারা ব্যর্থ হলেন, তখন মহাদেব শিব পরিস্থিতি শান্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। দেবী যখন তাণ্ডব করছিলেন, শিব তখন একটি শিশুর রূপ ধারণ করে তাঁর পথে শুয়ে পড়লেন।

৪. দক্ষিণাকালীর আবির্ভাব: যখন দেবী কালী নৃত্যের ছন্দে শিবের বুকে পা রাখলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি তাঁর স্বামীর ওপর পা রেখেছেন। স্বামীর বুকে পা রেখে তাঁর জিহ্বা বের হয়ে গেল লজ্জায় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ স্থির হয়ে গেলেন। এই লজ্জার ভঙ্গিমাতেই দেবীর ক্রোধ প্রশমিত হলো। এই বিশেষ রূপ যেখানে দেবী শিবের বুকে দণ্ডায়মান, সেটিই দক্ষিণাকালী নামে পরিচিত।

এই গল্পটির গভীর তাৎপর্য হলো—শিব (স্থির চৈতন্য) এবং কালী (সক্রিয় শক্তি) একে অপরের পরিপূরক। শক্তি নিয়ন্ত্রিত না হলে তা সংহার ডেকে আনে, আর শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল জ্ঞান।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More