এই বছর বিজয়া দশমী তারিখ, তিথি, পুজো বিধি ও আবহমান ঐতিহ্যের মাহাত্ম্য জেনে নিন আজই
দুর্গোৎসব ২০২৬-এর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার শুভ তারিখ ও সময় কখন, এই রীতির শাস্ত্রীয় বিধান ও পুজো পদ্ধতি কী এবং বাঙালির সংস্কৃতিতে এর বিশেষ তাৎপর্য কী—জেনে নিন
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ লগ্ন অর্থাৎ শুভ বিজয়া দশমী মানেই একাধারে মায়ের মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিষাদ, অন্যদিকে সিঁদুর খেলার আনন্দ-উচ্ছ্বাস। বিজয়া দশমীর সকালে প্রতিমা নিরঞ্জনের পূর্বে বিবাহিত নারীদের মণ্ডপে মণ্ডপে 'সিঁদুর খেলা' (Sindoor Khela) বঙ্গীয় দুর্গোৎসবের এক অনন্য, প্রাণবন্ত ও সুপ্রাচীন রীতি। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, উমা রূপী মা দুর্গা এক বছরের জন্য বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে আগমন করেন এবং দশমীর দিনে পুনরায় স্বামী মহাদেবের আলয় কৈলাসে ফিরে যান। তাই ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর পূর্বে সধবা নারীরা দেবীকে সিঁদুর, মিষ্টি ও পানের বরন দিয়ে বিদায় জানান এবং পরস্পরের গালে ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দীর্ঘ সধবা জীবন ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন।

দুর্গোৎসব ২০২৬-এর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার শুভ তারিখ ও সময় কখন, এই রীতির শাস্ত্রীয় বিধান ও পুজো পদ্ধতি কী এবং বাঙালির সংস্কৃতিতে এর বিশেষ তাৎপর্য কী—জেনে নিন।
১. দুর্গোৎসব ২০২৬: বিজয়া দশমী ও সিঁদুর খেলার শুভ তারিখ ও সময় (Date & Timing)
বৈদিক পঞ্জিকা ও শাস্ত্রীয় পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী ও সিঁদুর খেলার নির্ধারিত তারিখ নিচে উল্লেখ করা হলো:
- বিজয়া দশমীর শুভ তারিখ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ (মঙ্গলবার)।
- দশমী তিথি সূচনার সময়: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ রাত থেকেই দশমী তিথি শুরু হচ্ছে।
- সিঁদুর খেলার শুভ সময়কাল (Shubh Muhurat): ২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ০৬:২৫ মিনিট থেকে সকাল ০৮:৪০ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার অপরাজিতা পুজো ও দশমী বিহিত পুজো সমাপ্তির পর সকাল ০৯:০০ টা থেকে দুপুর ১২:৩০ টার মধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা সম্পাদন করা সবচেয়ে শুভ বলে মান্য করা হয়।
২. সিঁদুর খেলার শাস্ত্রীয় পুজো বিধি ও ধারাবাহিক নিয়মাবলী (Rituals)
শাস্ত্র মতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের পূর্বে সিঁদুর খেলা ও দেবী বরনের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়:
- ১. দর্পণ বিসর্জন ও অপরাজিতা পুজো: দশমীর সকালে দেবীর ঘট নাড়ানো হয় এবং দর্পণ (আয়না) বিসর্জনের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এরপর অপরাজিতা লতার পুজো করে দেবীর চরণে প্রণাম জানানো হয়।
- ২. দেবীর বরন ও পান-মিষ্টি নিবেদন: বিবাহিত নারীরা ডালায় সিঁদুর, পান-সুপুরি, ধান-দূর্বা, মিষ্টি ও প্রদীপ নিয়ে দেবীর সামনে উপস্থিত হন। এরপর পানের পাতা দিয়ে দেবীর মুখ স্পর্শ করিয়ে মিষ্টি মুখ করানো হয়।
- ৩. দেবীর চরণে ও সিঁথিতে সিঁদুর অর্পণ: বরন ডালা থেকে শুদ্ধ সিঁদুর প্রথমে মা দুর্গা, শ্রী লক্ষ্মী ও শ্রী সরস্বতীর চরণে ও সিঁথিতে অর্পণ করা হয়।
- ৪. পরস্পরকে সিঁদুর দান ও শুভেচ্ছা বিনিময়: দেবীর বরন শেষ হলে নারীরা প্রথমে বয়োজ্যেষ্ঠদের চরণে সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করেন এবং সমবয়সীদের সিঁথিতে ও গালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপর মিষ্টি মুখ করিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
৩. বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য (Significance)
সিঁদুর খেলা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বঙ্গীয় সমাজের নারীশক্তির মেলবন্ধন ও সৌহার্দ্যের প্রতীক:
- অখণ্ড সৌভাগ্য ও জীবনের কল্যাণ: সনাতন ধর্মে সিঁদুর হলো সৌভাগ্যের প্রতীক। দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে তা ধারণ করলে সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
- কন্যা রূপী উমাকে বিদায় ও পারিবারিক ভালোবাসা: বাঙালি পরিবারে দুর্গাপুজোকে ঘরের মেয়ের বাপের বাড়িতে আগমন হিসেবে দেখা হয়। তাই দশমীর দিন মেয়েকে বাপের বাড়ি থেকে বিদায় জানানোর সময় যেমন মিষ্টি ও সিঁদুর দিয়ে বরণ করা হয়, মায়ের ক্ষেত্রেও সেই একই আবেগ কাজ করে।
- সামাজিক মেলবন্ধন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা: বর্তমানে সিঁদুর খেলা ভৌগোলিক ও সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে এক সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারীদের একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২১ অক্টোবর ২০২৬-এর বিজয়া দশমী বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলা। বিষাদ আর আনন্দের এই সন্ধিক্ষণে মা দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ ও শুভ বিজয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সমগ্র বাঙালির ঘরে নেমে আসুক চিরস্থায়ী সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


