এর নাম গজকেশরী যোগ! এই পরম শুভ যোগে ৪ রাশি এবার হারানো সম্মান ফিরে পাবে, হাতে আসবে টাকাকড়ি
চন্দ্রদেব তাঁর স্বক্ষেত্র জলতত্ত্বের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করেছেন, যেখানে আগে থেকেই দেবগুরু বৃহস্পতি অবস্থান করছিলেন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবগুরু বৃহস্পতি (Jupiter) এবং মনের কারক গ্রহ চন্দ্রের (Moon) সংযোগ বা কেন্দ্রভাবে অবস্থানকে অত্যন্ত অলৌকিক ও শুভ বলে মনে করা হয়। এই দুই শুভ গ্রহ যখন একসঙ্গে অবস্থান করেন বা একে অপরের কেন্দ্রে থাকেন, তখন মহাকাশে পরম শক্তিশালী ও রাজকীয় ‘গজকেশরী যোগ’ (Gajkesari Yog) গঠিত হয়।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, চন্দ্রদেব তাঁর স্বক্ষেত্র জলতত্ত্বের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করেছেন, যেখানে আগে থেকেই দেবগুরু বৃহস্পতি অবস্থান করছিলেন। ফলে কর্কট রাশিতে চন্দ্র ও দেবগুরুর এই পরম শুভ মিলনে নির্মিত হয়েছে পরম ধনবর্ষী গজকেশরী যোগ। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, স্বরাশি কর্কটে এই যোগের গঠন জাতকদের জীবনে গজ অর্থাৎ হাতির মতো শক্তি, স্থিরতা এবং কেশরী অর্থাৎ সিংহের মতো তেজ, খ্যাতি ও নেতৃত্ব প্রদান করে। কর্কট রাশিতে গজকেশরী যোগের প্রভাবে বিশেষ ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে কেরিয়ারে শুভ পদোন্নতি, ব্যবসায় নতুন সুযোগ এবং বিপুল ধনলাভের পথ খুলবে। এই যোগে কোন ৪ রাশির ভাগ্যে সোনালী দিন আসছে—জেনে নিন।
১. কর্কট রাশিতে গজকেশরী যোগের বৈদিক ও জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবগুরু ও চন্দ্রের মিলনকে পরম মানসিক শান্তি ও বৈভবের বার্তা মানা হয়:
- মন ও বুদ্ধির ভারসাম্য: গজকেশরী যোগের প্রভাবে জাতকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মেধা এবং আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা কঠিন পরিস্থিতিকে সহজে জয় করতে সাহায্য করে।
- রাজকীয় সুখ ও কেরিয়ারে উন্নতি: শিক্ষা, আইটি, ব্যাঙ্কিং, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সাহিত্য, প্রপার্টি এবং স্বাধীন ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এই শুভ যোগে নজিরবিহীন আর্থিক সফলতা পান।
২. কর্কট রাশিতে গজকেশরী যোগে কপাল খুলবে যে ৪ রাশির
ক) কর্কট রাশি (Cancer): কর্কট রাশির লগ্ন বা প্রথম ভাবেই গজকেশরী রাজযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে থাকা দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হবে। অফিসে বসেরা আপনার কাজে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি (Promotion) বা ইনসেনটিভ দিতে পারেন। সমাজে আপনার মান-সম্মান ও সুনাম বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
খ) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির চতুর্থ ভাব অর্থাৎ সুখ, মাতা ও সম্পত্তি স্থানে এই শুভ যোগ গঠিত হচ্ছে। এর ফলে জমি-জমা, ফ্ল্যাট বা নতুন বাহন কেনার বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আর্থিক লাভের নতুন পথ খুলে যাবে এবং আকস্মিক বকেয়া টাকা ফেরত পেয়ে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বৃদ্ধি পাবে।
গ) কন্য রাশি (Virgo): কন্যা রাশির একাদশ ভাব অর্থাৎ লাভ ও আয়ের ঘরে গজকেশরী যোগের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। ফলে আপনার উপার্জনের একাধিক উৎস তৈরি হতে চলেছে। ব্যবসায়ীরা নতুন বড় লাভজনক চুক্তি সম্পাদন করতে সফল হবেন। দূরবর্তী শুভ ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেকে প্রচুর আর্থিক সাফল্য মিলবে।
ঘ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির দশম ভাব অর্থাৎ কর্ম ও কেরিয়ারের ঘরে এই শক্তিশালী রাজযোগ নির্মিত হচ্ছে। এর ফলে চাকরির সন্ধানে থাকা প্রার্থীরা নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদের অফার পেতে পারেন। আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতার পূর্ণ মূল্যায়ন হবে। যৌথ ব্যবসায় নতুন সাফল্য আসবে এবং পারিবারিক জীবনে সুখ ফিরবে।
৩. দেবগুরু বৃহস্পতি ও চন্দ্রদেবের পূর্ণ কৃপা লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
গজকেশরী যোগের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং গ্রহদের আশীর্বাদ বজায় রাখতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলতে পারেন:
- শিবলিঙ্গে জলাভিষেক: প্রতি সোমবারে কাঁচা দুধ ও গঙ্গাজল মিশিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করুন এবং ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন।
- শ্রীহরি বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর আরাধনা: প্রতি বৃহস্পতিবারে ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর পুজো করুন এবং তুলসী পাতা নিবেদন করুন।
- দান-ধ্যান: সোমবারে চাল বা চিনি এবং বৃহস্পতিবারে চনার ডাল বা হলুদ বস্ত্র দুঃস্থদের দান করা পরম কল্যাণকর।
২০২৬-এর এই সময়ে কর্কট রাশিতে তৈরি হওয়া 'গজকেশরী যোগ' কর্কট, মেষ, কন্যা ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, আত্মবিশ্বাস ও কেরিয়ারে উচ্চ সাফল্যের এক অনবদ্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। সঠিক লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাসের সাথে সুযোগগুলো কাজে লাগালে জীবনে স্থায়ী উন্নতি সুনিশ্চিত হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


