আজ গণেষ চতুর্থী, জেনে নিন পুজোর শুভ সময়, নির্ঘণ্ট এবং প্রতিষ্ঠার নিয়ম

গণেশ চতুর্থীর পুণ্য তিথিতে কখন শুরু হচ্ছে পুজোর সেরা শুভ মুহূর্ত? কখন করবেন মূর্তি প্রতিষ্ঠা, মধ্যাহ্ন পুজো ও আরতি? চাঁদের দর্শন এড়ানোর সঠিক সময় কোনটি?

Published on: Sep 14, 2026, 08:04:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সনাতন হিন্দু ধর্মে সিদ্ধিদাতা ভগবান শ্রী গণেশের পুজো ও আরাধনার গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো মাঙ্গলিক কাজের সূচনা বা নতুন শুভ কাজ শুরুর আগে বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা করা সনাতন ধর্মের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে অত্যন্ত ধুমধাম ও ভক্তিভরে পালিত হয় শুভ গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi)। জ্যোতিষ শাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে ভক্তদের ঘরে ঘরে আগমন ঘটে বিঘ্নবিনাশক গণপতির।

আজ গণেষ চতুর্থী, জেনে নিন পুজোর শুভ সময়, নির্ঘণ্ট এবং প্রতিষ্ঠার নিয়ম
আজ গণেষ চতুর্থী, জেনে নিন পুজোর শুভ সময়, নির্ঘণ্ট এবং প্রতিষ্ঠার নিয়ম

২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর পুণ্য তিথিতে কখন শুরু হচ্ছে পুজোর সেরা শুভ মুহূর্ত? কখন করবেন মূর্তি প্রতিষ্ঠা, মধ্যাহ্ন পুজো ও আরতি? চাঁদের দর্শন এড়ানোর সঠিক সময় কোনটি?—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও শাস্ত্রীয় বিধান জেনে নিন।

আজ গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর সঠিক সময়সূচী ও পুজোর শুভ মুহূর্ত

বৈদিক পঞ্জিকা ও সিদ্ধান্ত জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন মধ্যাহ্নকাল বা দুপুরবেলাই শ্রী গণেশের পুজো ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলে গণ্য করা হয়। কারণ বিশ্বাস করা হয়, ভাদ্রপদ শুক্ল চতুর্থীর মধ্যাহ্নকালেই ভগবান গণপতির জন্ম হয়েছিল।

  • চতুর্থী তিথি সূচনা: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) ভোর ০৩:১২ মিনিটে।
  • চতুর্থী তিথি সমাপ্তি: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত ১২:০৮ মিনিটে।
  • মধ্যাহ্ন গণেশ পুজো ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার শুভ মুহূর্ত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১:০৩ মিনিট থেকে দুপুর ০১:৩২ মিনিট পর্যন্ত। (মোট স্থায়িত্ব: ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট)।
  • চন্দ্র দর্শন নিষেধের সময়: আজ সকালে ০৩:১২ মিনিট থেকে রাত ০৮:৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে ভুলবশত চাঁদ দর্শন করলে 'মিথ্যা কলঙ্ক' বা মিথ্যা অপবাদের সম্মুখীন হতে হয়।

ঘরে কীভাবে করবেন গণেশ চতুর্থীর শুভ পুজো ও প্রতিষ্ঠা?

গণেশ চতুর্থীর দিন গণপতি বাপ্পাকে ঘরে এনে সঠিক নিয়মে পুজো করলে সংসারের যাবতীয় বিঘ্ন ও অমঙ্গল নিমেষে কেটে যায়:

  • মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও সঙ্কল্প: সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ বস্ত্র পরিধান করুন। এরপর ঈশান কোণে (উত্তর-পূর্ব দিক) একটি কাঠের পিঁড়ির ওপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে গণেশ মূর্তি স্থাপন করুন। গণপতির ডান দিকে জলের কলশ এবং চালভরা পাত্র রাখুন।
  • প্রিয় ভোগ ও দ্রব্যাদি অর্পণ: শ্রী গণেশকে অত্যন্ত প্রিয় কচি দুর্বা ঘাস (কমপক্ষে ২১টি দুর্বার আঁটি), লাল চন্দন, সুগন্ধি রজনীগন্ধা বা গাদা ফুল এবং সিন্দুর অর্পণ করুন। মোদক ও বেসনের লাড্ডু গণপতি বাপ্পার সবচেয়ে প্রিয় ভোগ, তাই প্রসাদ হিসেবে মোদক বা লাড্ডু নিবেদন করা আবশ্যক।
  • মন্ত্র জপ ও আরতি: পুজোর সময় 'ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ' বা 'ওঁ একদন্তায় বিদ্মহে বক্রতুণ্ডায় ধীমহি তন্নো দন্তী প্রচোদয়াৎ' মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করুন। এরপর ধূপ, দীপ ও পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে সপরিবারে আনন্দঘন পরিবেশে গণপতি বাপ্পার আরতি সম্পন্ন করুন।

গণেশ চতুর্থীতে গ্রহদোষ ও জীবনের বিঘ্ন কাটাতে বিশেষ প্রতিকার

আজকের এই পুণ্য তিথিতে সিদ্ধিদাতা গণেশের কৃপায় জীবনের যেকোনো গ্রহজনিত বাধা এবং মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ উপায় রয়েছে:

  • বুধ ও কেতু গ্রহের শুভ প্রভাব বৃদ্ধি: কোষ্ঠীতে বুধ ও কেতু গ্রহের অশুভ প্রভাব দূর করতে গণেশজিকে ২১টি দুর্বা এবং সবুজ মুগ ডাল নিবেদন করুন। এতে ব্যবসায় সফলতা ও বিদ্যার্থীদের স্মৃতিশক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
  • অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে: আর্থিক সমস্যা বা দীর্ঘদিনের ঋণ থেকে মুক্তি পেতে আজকের দিনে শুভ মুহূর্তে গণপতিকে গুড় ও শামীর পাতা অর্পণ করুন। এতে মা লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের যৌথ আশীর্বাদ বজায় থাকে।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এই পরম পবিত্র গণেশ চতুর্থীর শুভ দিনে সঠিক মধ্যাহ্ন মুহূর্তে সিদ্ধিদাতা গণপতির আরাধনা ও প্রতিষ্ঠা করলে গৃহে সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে। বাপ্পার আশীর্বাদে সমস্ত ভক্তের জীবন বাধা-মুক্ত ও আনন্দময় হয়ে উঠুক।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More