Garuda Purana : মৃত্যুর পর ১৩ দিন পর কী ঘটে এক আত্মার সঙ্গে? জানুন কী বলা হয়েছে গরুড় পুরাণে
Garuda Purana On Death: মৃত্যুর ১৩ দিন পর মানুষের আত্মার সঙ্গে কী ঘটে? কী বলছে গরুড় পুরাণ? জানুন বিশদে।
গরুড় পুরাণ হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাণ, যেখানে জীবন, মৃত্যু এবং মৃত্যু পরবর্তী আত্মার যাত্রা নিয়ে সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। গরুড় পুরাণ মতে, মানুষের মৃত্যুর পর ১৩ দিনের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

মৃত্যুর ১৩ দিন পর যা হয়
গরুড় পুরাণ অনুসারে, আত্মা দেহ ত্যাগের পর প্রথম ১৩ দিন পর্যন্ত নিজের পরিবারের মধ্যেই অবস্থান করে। এই সময় আত্মা বুঝতে পারে না যে সে আর শারীরিক রূপে উপস্থিত নেই। সে তার প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তাদের ডাকে, কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে বা তাকে দেখতে পায় না। এটি আত্মার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা।
মৃত্যুর পর এই ১৩ দিন সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ও পিণ্ডদান করা হয়। গরুড় পুরাণ মতে—
দেহ গঠনের সমাপ্তি: মৃতের উদ্দেশ্যে দেওয়া পিণ্ডদান বা অন্ন-জল দ্বারা আত্মা ধীরে ধীরে একটি সূক্ষ্ম দেহ গঠন করে। মৃত্যুর দশম দিনে আত্মার ক্ষুধা অনুভূত হয় এবং ত্রয়োদশ দিনে সেই সূক্ষ্ম দেহ পূর্ণতা লাভ করে।
যমলোকে যাত্রা শুরু: যখন ত্রয়োদশ দিনে বা তেরো দিনের কার্য সম্পন্ন হয়, তখন যমদূতগণ আত্মাকে আর থাকতে দেন না। এই দিনে পূর্ণাঙ্গ সূক্ষ্ম দেহ নিয়ে আত্মা যমলোকে যাত্রা শুরু করে। যারা জীবিতকালে সৎকর্ম করেছেন এবং যাদের জন্য নিয়ম মেনে পিণ্ডদান করা হয়েছে, তাদের পথ তুলনামূলকভাবে কম কষ্টদায়ক হয়।
আরও পড়ুন - Budh Astrology: সংসারে আসছে বৈভবের জোয়ার, বুধের বক্রীতে প্রেম জমে ক্ষীর হবে ৫ রাশির
কর্মফল অনুযায়ী গতি: এই যাত্রাটি অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘ (অনেক বর্ণনায় ৪৭ দিনের), যেখানে আত্মাকে বৈতরণী নদী পার হতে হয়। পিণ্ডদানের ফলে প্রাপ্ত শক্তি আত্মাকে এই কঠিন পথ পার হতে সাহায্য করে। যারা জীবদ্দশায় পাপ করেছেন, তাদের এই যাত্রা হয় ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক।
শান্তি ও মোক্ষলাভের সূচনা: ১৩ দিনের শ্রাদ্ধ ও অন্যান্য নিয়ম পালনের মাধ্যমে মৃতের আত্মা শান্তি পায় এবং তার পারলৌকিক যাত্রার পথে সহায়তা লাভ করে। যদি কোনো শ্রাদ্ধ বা পিণ্ডদান না করা হয়, তবে আত্মার মুক্তি লাভ কঠিন হয় এবং সে যমলোকে কষ্ট পায়।
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এখানে লেখা সব কথা আগামী দিনে সত্য প্রমাণিত হবে, এমন দাবি করা হচ্ছে না। জ্যোতিষশাস্ত্র সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন বা কোনও সমস্যার সমাধানের জন্য পেশাদার জ্যোতিষীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
E-Paper

