Ashadha Amavasya unlucky zodiac signs: আগামিকাল বৃহস্পতির অস্ত ও আষাঢ় অমাবস্যার সংযোগ! সাবধান হবেন কোন কোন রাশির জাতক
Guru Asta 14 July 2026 effects: এই দিনে একদিকে যেমন পবিত্র ‘আষাঢ়ী অমাবস্যা’ (Ashadha Amavasya) তিথি পড়ছে, অন্যদিকে তেমনই সৌভাগ্য ও জ্ঞানের কারক গ্রহ ‘গুরু’ বা বৃহস্পতি অস্ত (Guru Asta) যেতে চলেছেন।
Jupiter combust in Taurus astrology: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের অবস্থান পরিবর্তন এবং বিশেষ তিথির সংযোগ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে দেবগুরু বৃহস্পতির অবস্থান এবং অমাবস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ তিথি যখন একই সময়ে মিলে যায়, তখন মহাকাশে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আগামিকাল ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। এই দিনে একদিকে যেমন পবিত্র ‘আষাঢ়ী অমাবস্যা’ (Ashadha Amavasya) তিথি পড়ছে, অন্যদিকে তেমনই সৌভাগ্য ও জ্ঞানের কারক গ্রহ ‘গুরু’ বা বৃহস্পতি অস্ত (Guru Asta) যেতে চলেছে। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, এই দুই বড় ঘটনার মেলবন্ধন কিছু নির্দিষ্ট রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও অশুভ প্রমাণিত হতে পারে। কোন কোন রাশির জাতকদের এই সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং এর পেছনের জ্যোতিষ সমীকরণ কী, জেনে নিন।
সনাতন ধর্মে বৃহস্পতি গ্রহকে সুখ, সমৃদ্ধি, বিবাহ এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক বলে মনে করা হয়। যখন কোনো গ্রহ সূর্যের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন সেটি নিজের প্রভাব হারিয়ে ফেলে, যাকে জ্যোতিষের ভাষায় ‘অস্ত’ যাওয়া বলা হয়। ১৪ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা দেবগুরুর এই অস্ত দশা এবং একই সাথে আষাঢ় অমাবস্যার অন্ধকার তিথি মানুষের মানসিক ও জাগতিক জীবনে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন এই সংযোগকে জটিল মনে করা হচ্ছে?
জ্যোতিষীদের মতে, বৃহস্পতি অস্ত যাওয়ার অর্থ হলো জীবনের শুভ শক্তির প্রকাশ সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যাওয়া। এই সময়ে যেকোনো ধরণের শুভ বা মাঙ্গলিক কাজ (যেমন বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা নতুন ব্যবসা শুরু) করা শাস্ত্রে নিষিদ্ধ থাকে। এর সাথে অমাবস্যার তিথি যুক্ত হওয়ায় নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
অশুভ প্রভাবে থাকা রাশিগুলোর তালিকা ও সতর্কতা
১৪ জুলাইয়ের এই দ্বৈত মহাজাগতিক ঘটনার কারণে মূলত কিছু রাশির জাতক-জাতিকাদের অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বড় ধরণের ওঠানামা দেখা দিতে পারে:
- আর্থিক অনটন ও লোকসান: যে সমস্ত রাশির জাতকদের কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তাঁদের এই সময়ে যেকোনো ধরণের বড় আর্থিক লেনদেন বা নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকা উচিত। শেয়ার বাজার বা লটারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থ খাটালে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
- কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ: অফিসে বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। আপনার কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় মনে ক্ষোভ ও হতাশা জন্মাতে পারে। এই সময়ে চাকরি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
- দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ: গুরু অস্ত যাওয়ার কারণে পারিবারিক সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর সাথে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বড় বিবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে নিজের কথাবার্তা এবং রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
- স্বাস্থ্য ও মানসিক উদ্বেগ: অমাবস্যা ও গুরুর অস্ত দশার সম্মিলিত প্রভাবে জাতকদের মধ্যে এক ধরণের মানসিক অস্থিরতা, ক্লান্তি এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুরনো কোনো রোগ নতুন করে চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অশুভ প্রভাব কাটানোর জ্যোতিষীয় প্রতিকার
এই কঠিন সময়ে গ্রহের অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু বিশেষ প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে। ১৪ জুলাই আষাঢ় অমাবস্যার দিনে পবিত্র নদীতে বা স্নানের জলে সামান্য গঙ্গা জল মিশিয়ে স্নান করা উচিত। এই দিনে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দেওয়া এবং ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এছাড়া অভাবী মানুষকে হলুদ রঙের খাদ্যশস্য (যেমন ছোলার ডাল বা কলা), বস্ত্র অথবা সর্ষের তেল দান করলে বৃহস্পতি ও শনিদেব উভয়েরই কৃপা লাভ হয়, যা জীবনের সমস্ত সংকট দূর করতে সাহায্য করে।
মহাকাশের এই গ্রহগত অবস্থান আমাদের জীবনে সাময়িক পরীক্ষা নিতে পারে। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের এই গণনা আমাদের সতর্ক করার একটি মাধ্যম মাত্র। এই অশুভ সময়ে যেকোনো প্রকার তাড়াহুড়ো না করে, ধৈর্য ধরে এবং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারলে এই কঠিন সময় সহজেই পার করে দেওয়া সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


