মঙ্গল ও বৃহস্পতির অলৌকিক যুতি! তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী নীচভঙ্গ রাজযোগ, কপাল খুলবে ৩ রাশির, মিলবে পদোন্নতি ও বাম্পার অর্থ
কর্কট রাশিতে মঙ্গল ও দেবগুরু বৃহস্পতির বিরল মহাসংযোগের ফলে গঠিত হতে চলেছে এই অলৌকিক নীচভঙ্গ রাজযোগ।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবগুরু বৃহস্পতি এবং গ্রহের সেনাপতি মঙ্গলের সহাবস্থান বা যুতিকে অত্যন্ত শুভ ও পরাক্রমশালী বলে গণ্য করা হয়। দেবগুরু বৃহস্পতি হলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধন ও সৌভাগ্যের কারক; অন্যদিকে মঙ্গল হলেন শক্তি, সাহস, ল্যান্ড-প্রপার্টি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিকৃতি। যখন কোনো গ্রহ তার নীচ রাশিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও অপর একটি শক্তিশালী শুভ গ্রহের ইতিবাচক প্রভাবে তার সমস্ত নীচত্ব বা অশুভ প্রভাব দূর করে পরম শুভ ফল দিতে শুরু করে, তখন বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে জন্ম নেয় পরম রাজকীয় ‘নীচভঙ্গ রাজযোগ’ (Neech Bhang Rajyog)।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী সময়ে কর্কট রাশিতে মঙ্গল ও দেবগুরু বৃহস্পতির বিরল মহাসংযোগের ফলে গঠিত হতে চলেছে এই অলৌকিক নীচভঙ্গ রাজযোগ। জ্যোতিষীদের মতে, এই শুভ যোগ তৈরি হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে থমকে থাকা কেরিয়ারে অভূতপূর্ব গতি আসবে। বিশেষ করে কর্কট, সিংহ ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রমোশন, আকস্মিক বিপুল ধনলাভ এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের এক ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। এই বিশেষ রাজযোগের শুভ প্রভাবে কোন ৩ রাশির জীবনে গোল্ডেন টাইম শুরু হচ্ছে—জেনে নিন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে 'নীচভঙ্গ রাজযোগ'-এর বিশেষ গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, নীচভঙ্গ রাজযোগ সাধারণ শুভ যোগের চেয়েও বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও দ্রুত ফলদায়ক:
- প্রতিকূলতার পর অলৌকিক সাফল্য: নীচভঙ্গ রাজযোগের মূল বিশেষত্ব হলো, এটি জাতককে কঠিন প্রতিকূলতা ও বাধা থেকে বের করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।
- কেরিয়ার, রিয়েল এস্টেট ও প্রশাসনিক খাতে দারুণ লাভ: সেনাপতি মঙ্গল ও দেবগুরু বৃহস্পতির শক্তির মিলনে ভূমি, রিয়েল এস্টেট, সেনা, পুলিশ, ব্যাঙ্কিং, প্রযুক্তি, আইন ও প্রশাসনিক পদের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা নজিরবিহীন মান-সম্মান ও সাফল্য অর্জন করেন।
নীচভঙ্গ রাজযোগে ভাগ্য চমকাবে যে ৩ রাশির
ক) কর্কট রাশি (Cancer): কর্কট রাশির লগ্ন বা প্রথম ভাবেই গঠিত হতে চলেছে এই পরম শুভ নীচভঙ্গ রাজযোগ। লগ্ন স্থানে মঙ্গল ও দেবগুরু বৃহস্পতির এই যোগ কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। কেরিয়ারে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সমস্ত অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা দূর হবে। চাকুরিজীবীরা কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের শুভ নজর পাবেন এবং বড় কোনো প্রমোশন বা বেতন বৃদ্ধির সুসংবাদ পেতে পারেন।
খ) সিংহ রাশি (Leo): সিংহ রাশির দ্বাদশ भाव ও ভাগ্যভাবে এই মহাসংযোগের শুভ প্রভাব পড়তে চলেছে। সিংহ রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি আন্তর্জাতিক কাজ বা বৈদেশীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে বাম্পার মুনাফা এনে দেবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বড় অঙ্কের টাকা ফেরত পাওয়ার পথ প্রশস্থ হবে। ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক কাজের প্রতি মানসিক আকর্ষণ বাড়বে। ব্যবসায়ীরা নতুন বড় বিনিয়োগ করে বিপুল লাভ অর্জনে সক্ষম হবেন।
গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির দশম भाव অর্থাৎ কর্মভাবে গঠিত হতে চলেছে এই শক্তিশালী রাজযোগ। কর্মক্ষেত্রে আপনার নেওয়া সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতা সর্বত্র প্রশংসিত হবে। বেকার যুবকরা নতুন আকর্ষণীয় চাকরির অফার পেতে পারেন। রিয়েল এস্টেট, জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদ বা পুরোনো প্রপার্টি কেনাবেচায় বিপুল আর্থিক লাভ হবে। সমাজে আপনার প্রভাব ও প্রতিপত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
নীচভঙ্গ রাজযোগের শতভাগ শুভ ফল লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
এই রাজযোগের পূর্ণ আশীর্বাদ পেতে এবং মঙ্গল ও বৃহস্পতির শুভ শক্তি বহুগুণ বাড়াতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করা যেতে পারে:
- শ্রী হনুমান ও বিষ্ণু পুজো: প্রতি মঙ্গলবারে হনুমান চালিসা পাঠ করুন এবং বৃহস্পতিবার দেবগুরু বৃহস্পতি ও ভগবান বিষ্ণুর সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
- জল ও গুড় দান: প্রতি মঙ্গলবারে দুঃস্থদের গুড়, তিল বা লাল বস্ত্র দান করা এবং গুরুজনদের সম্মান করা অত্যন্ত শুভ।
- মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে 'ওঁ গুরবে নমঃ' এবং 'ওঁ অঙ্গারকায় নমঃ' মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করলে গ্রহের শুভ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
মঙ্গল ও বৃহস্পতির এই অলৌকিক যুতিতে তৈরি হতে চলা ‘নীচভঙ্গ রাজযোগ’ কর্কট, সিংহ ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কেরিয়ার, অর্থ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার দিক থেকে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা করছে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও ইতিবাচক মানসিকতার সাথে এগিয়ে চললে এই সময়টি আপনার জীবনে শুভ পরিবর্তন সুনিশ্চিত করবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


