Guru Purnima puja vidhi: গুরু পূর্ণিমায় কার কার পূজা করা উচিত? জানুন কৃপা পাওয়ার সঠিক পূজাবিধি ও শুভ আচার
Guru Purnima 2026 whom to worship: সনাতন শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেবো মহেশ্বরঃ’। অর্থাৎ গুরু হলেন সাক্ষাৎ ত্রিমূর্তি—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের রূপ। গুরু পূর্ণিমার দিনে নিষ্ঠাভরে পূজা সম্পন্ন করলে জীবনে সমস্ত মানসিক অশান্তি ও কুণ্ডলীর গ্রহদোষ বিনষ্ট হয়।
Lord Vishnu and Veda Vyasa puja: গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) বা ব্যাস পূর্ণিমা সনাতন সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে এক পরম পবিত্র ও মহিমান্বিত উৎসব। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের এই পূর্ণিমা তিথিতে জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অজ্ঞানতা দূর করে সত্যের পথ দেখানো গুরুলোক, শিক্ষক এবং ঈশ্বররূপী পথপ্রদর্শকদের প্রতি পরম ভক্তিভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বৈদিক ঐতিহ্য মতে, এই পবিত্র দিনটি বেদকে চার ভাগে বিভক্তকারী মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মজয়ন্তী হিসেবেও সারাবিশ্বে উদযাপিত হয়।

গুরু পূর্ণিমার পরম শুভ দিনে কেবল দীক্ষাগুরু বা শিক্ষকদেরই নয়, বরং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরম গুরু দেবতা এবং মাতাপিতার আরাধনা করারও বিশেষ শাস্ত্রীয় তাৎপর্য রয়েছে। এই পবিত্র তিথিতে পরম কৃপা লাভ করতে কার কার পূজা করা উচিত, কীভাবে আরতি ও আরাধনা করবেন এবং ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখার নিয়মগুলো কী—তা জেনে নিন।
সনাতন শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেবো মহেশ্বরঃ’। অর্থাৎ গুরু হলেন সাক্ষাৎ ত্রিমূর্তি—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের রূপ। গুরু পূর্ণিমার দিনে নিষ্ঠাভরে পূজা সম্পন্ন করলে জীবনে সমস্ত মানসিক অশান্তি ও কুণ্ডলীর গ্রহদোষ বিনষ্ট হয়।
গুরু পূর্ণিমায় যাঁদের পূজা করা পরম আবশ্যক
গুরু পূর্ণিমার দিন সকালে নিম্নে উল্লিখিত মহিমান্বিত সত্তা ও গুরুজনদের আরাধনা করা অত্যন্ত শুভ ও পরম ফলদায়ক বলে মনে করা হয়:
- মহর্ষি বেদব্যাস পূজা: ভগবান শ্রী বিষ্ণুর অবতার হিসেবে বিবেচিত মহর্ষি বেদব্যাস হলেন বিশ্বের আদিগুরু। এই দিনে বেদব্যাসের ছবি বা মূর্তিতে চন্দন, রলি ও হলুদ ফুল অর্পণ করে ধূপ-প্রদীপ জ্বেলে পুজো করা উচিত।
- নিজস্ব দীক্ষাগুরু বা শিক্ষা গুরু পূজা: যাঁদের নিজস্ব দীক্ষাগুরু বা আধ্যাত্মিক গুরু রয়েছেন, তাঁরা গুরুর শ্রীচরণ ধৌত করে চরণামৃত গ্রহণ করুন। গুরুকে হলুদ বস্ত্র, ফল, মিষ্টি ও সাধ্যমতো দক্ষিণা নিবেদন করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করা সর্বশ্রেষ্ঠ বলে গণ্য হয়।
- দেবগুরু বৃহস্পতি ও শ্রী হরি বিষ্ণু পূজা: জগতে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের মূল উৎস হলেন দেবগুরু বৃহস্পতি এবং শ্রী হরি বিষ্ণু। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুকে তুষ্ট করতে বিষ্ণু সহস্রনাম বা ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করা উচিত, যা কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি গ্রহকে শক্তিশালী করে।
- প্রথম গুরু মাতাপিতা পূজা: মানবজীবনের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ গুরু হলেন জন্মদাত্রী মা এবং পিতা। গুরু পূর্ণিমায় পিতামাতার চরণ স্পর্শ করে প্রণাম জানানো এবং তাঁদের খুশী রাখা যেকোনো বড় পূজার চেয়েও বেশি পুণ্য প্রদান করে।
গুরু পূর্ণিমার সহজ ও নিখুঁত পূজাবিধি
১. স্নান ও সঙ্কল্প: গুরু পূর্ণিমার দিন সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান সম্পন্ন করুন। পরিষ্কার শুভ্র বা হলুদ পোশাক পরিধান করে মনের মধ্যে ঈশ্বর ও গুরুকে স্মরণ করে পূজার সংকল্প নিন।
২. বেদী সাজানো: পূজার স্থানে একটি পরিষ্কার কাঠের পিঁড়িতে হলুদ কাপড় বিছিয়ে মহর্ষি বেদব্যাস, ভগবান বিষ্ণু এবং নিজের গুরুর ছবি স্থাপন করুন।
৩. ভোগ ও তিলক নিবেদন: সকল দেব-গুরুদের কপালে চন্দন ও হলুদের তিলক লাগান। তাঁদের তুলসী পাতা, ছোলার ডাল, গুড় এবং হলুদ রঙের মিষ্টি ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন।
৪. গুরু মন্ত্র ও আরতি: ফুল ও প্রদীপ হাতে নিয়ে গুরু স্তোত্র ও আরতি পাঠ করুন। পূজা শেষে পরিবারের সকলের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করুন।
গুরু পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মহত্ত্ব
গুরু পূর্ণিমা আমাদের শেখায় অহংকার ত্যাগ করে গুরুর শরণাপন্ন হতে। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে গুরুর দেখান পথই মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই পবিত্র দিনে অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষা সামগ্রী অভাবী শিশুদের দান করলে পরিবারে স্থায়ী সুখ, শান্তি ও ধনের বৃদ্ধি ঘটে।
আষাঢ় পূর্ণিমার এই মহাপুন্য তিথিতে পরম ভক্তিভরে গুরু ও দেব-দেবীদের স্মরণ করলে জীবনের সব পাপ দূর হয় এবং পরম মুক্তির পথ সুগম হয়। তাই আত্মিক উন্নতির জন্য এই শুভ দিনে গুরুজনদের সম্মান জানান এবং তাঁদের কৃপা লাভ করে জীবনকে ধন্য করুন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


