Bhishma Panchak Vrat: কার্তিক মাসের শেষ ৫ দিন কেন পালিত হয় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত? জানুন ব্রত পালনের নিয়ম

Kartik Month 2025 Bhishma Panchak Vrat: কার্তিক মাসের শেষ পাঁচ দিন ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত পালিত হয়। কিন্তু কেন এই ব্রত পালন করা হয়? জানুন এর মাহাত্ম্য, ফল ও রীতি।

Published on: Oct 31, 2025, 16:00:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতটি কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি (দেবোত্থানী একাদশী) থেকে শুরু হয় এবং পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ধরে পালিত হয়। এটি 'বিষ্ণু পঞ্চক' নামেও পরিচিত।

কার্তিক মাসের শেষ ৫ দিন কেন পালিত হয় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত?
কার্তিক মাসের শেষ ৫ দিন কেন পালিত হয় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত?

কেন পালন করা হয়?

ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত পালনের নেপথ্যে রয়েছে মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর মহাত্মা ভীষ্ম শরশয্যায় শয়ন করেছিলেন। তিনি তখন দেহত্যাগ করার জন্য উপযুক্ত সময়ের (উত্তরায়ণ) অপেক্ষা করছিলেন। কার্তিক মাসের এই শেষ পাঁচ দিন তিনি কঠিন উপবাস ও ধ্যান করেছিলেন, এমনকি জল যাঞ্চা পর্যন্ত করেছিলেন। তখন অর্জুন তাঁর জন্য বাণবিদ্ধ করে গঙ্গাজল এনেছিলেন। ভীষ্মদেবের এই অবিচল ভক্তি এবং ত্যাগ দেখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত প্রসন্ন হন। তিনি ভীষ্মদেবকে বর দেন যে, কার্তিক মাসের শুক্লা একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত যে সকল ব্যক্তি ভীষ্মের সন্তুষ্টির জন্য অর্ঘ্যদান করে পাঁচ দিন ব্রত পালন করবে, তারা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গমন করবে।

আরও পড়ুন - দেবোত্থানী একাদশীতে রবি যোগ! হরির কৃপায় অর্থভাগ্য চমকাবে কাদের? দেখে নিন লিস্ট

আরও পড়ুন - অতিরিক্ত ভাবনার কারণে মনে নানা আশঙ্কা দানা বাঁধে? চাণক্য নীতি মেনে কী করণীয়

মাহাত্ম্য ও ফল

ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতকে সর্বপ্রধান ব্রত হিসেবে গণ্য করা হয়। পদ্মপুরাণ, স্কন্দপুরাণ ও গরুড়পুরাণ সহ বিভিন্ন শাস্ত্রে এর মাহাত্ম্য বর্ণিত আছে।

চাতুর্মাস্য ব্রতের ফল: যে সকল ব্যক্তি কোনও কারণে সারা বছর বা চাতুর্মাস্য ব্রত (চার মাসব্যাপী ব্রত) পালন করতে পারেননি, তারা কেবল এই পাঁচ দিন ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত পালন করে সমগ্র চাতুর্মাস্য ব্রতের ফল লাভ করতে পারেন।

ভক্তি ও মোক্ষ লাভ: এই ব্রত অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তিকে ভগবানের প্রতি প্রেম (ভক্তি) প্রদান করে এবং সকল পাপ থেকে মুক্ত করে বিষ্ণুসদনে (মোক্ষ) গমন করতে সাহায্য করে।

শ্রীহরি ও ভীষ্মদেবের সন্তুষ্টি: এই পাঁচ দিন ভক্তি সহকারে শ্রীরাধাসহ শ্রীহরিকে গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ ও ফল দ্বারা অর্চনা করলে ভগবান বাসুদেব (শ্রীকৃষ্ণ), দেবী গঙ্গা এবং মহাত্মা ভীষ্মদেব প্রসন্ন হন।

কীভাবে পালন করবেন এই ব্রত?

এই দিনে পঞ্চগব্য, চন্দন জল, চন্দন এবং কুমকুম দিয়ে শ্রী হরির পুজো করুন। আল্লাহকে ধূপ, ফল ও ফুল নিবেদন করুন। এই সময় ৫ দিনের জন্য ঈশ্বরের সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে। সন্ধ্যেয় কার্তিক শুক্লা একাদশী থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত, ভীষ্ম পঞ্চকের দিন ভগবানের কীর্তন করুন।