কোষ্ঠীতে কেতু দুর্বল? জানুন কেতু দোষের প্রধান ১০টি লক্ষণ ও এর হাত থেকে মুক্তির অলৌকিক উপায়
কোষ্ঠীতে কেতু দোষ বা দুর্বল কেতু থাকলে তা জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর সংকেত দিতে শুরু করে। আপনার জন্মছক বা কোষ্ঠীতে কেতু দুর্বল থাকলে কোন কোন লক্ষণগুলো দেখা যায়, জেনে নিন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে কেতুকে একটি ছায়া গ্রহ এবং মোক্ষ, বৈরাগ্য, বিভ্রান্তি ও আকস্মিক ঘটনার কারক গ্রহ বলে গণ্য করা হয়। কোষ্ঠীতে কেতুর অবস্থান শুভ থাকলে মানুষ অলৌকিক আধ্যাত্মিক শক্তি, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারে। কিন্তু যদি কোষ্ঠীতে কেতু অশুভ, পীড়িত বা দুর্বল অবস্থায় থাকে, তবে তা মানুষের জীবনকে মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তোলে।

কোষ্ঠীতে কেতু দোষ বা দুর্বল কেতু থাকলে তা জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর সংকেত দিতে শুরু করে। আপনার জন্মছক বা কোষ্ঠীতে কেতু দুর্বল থাকলে কোন কোন লক্ষণগুলো দেখা যায় এবং কেতু দোষ কাটানোর সহজ শাস্ত্রীয় উপায় কী, জেনে নিন।
১. কোষ্ঠীতে কেতু দুর্বল বা অশুভ থাকার ১০টি প্রধান লক্ষণ
- ১. তীব্র মানসিক অস্থিরতা ও ডিপ্রেশন: কোনো কারণ ছাড়াই অহেতুক ভয়, দুশ্চিন্তা, একাকীত্ব এবং অবসাদ গ্রাস করা কেতু দোষের প্রধান লক্ষণ।
- ২. আকস্মিক ধনহানি ও আর্থিক ক্ষতি: ব্যবসা বা বিনিয়োগে বারবার হঠাৎ বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া এবং অর্থ সঞ্চয়ে চরম ব্যর্থ হওয়া।
- ৩. জয়েন্ট বা হাড়ের তীব্র যন্ত্রণা: হাঁটু, কোমর বা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে স্থায়ী ব্যথা এবং বাত বা অর্থ্রাইটিসের সমস্যা দেখা দেওয়া।
- ৪. ত্বক ও চর্মরোগের সমস্যা: স্কিন অ্যালার্জি, ফোঁড়া, দাদ বা এমন কোনো চর্মরোগ হওয়া যা চিকিৎসা সত্ত্বেও সহজে সারতে চায় না।
- ৫. প্রস্রাব বা কিডনির সমস্যা: মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI), প্রস্রাবে জ্বালাভাব কিংবা কিডনি সংক্রান্ত শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়া।
- ৬. সন্তান সংক্রান্ত সমস্যা: সন্তান লাভে অহেতুক বাধা তৈরি হওয়া কিংবা সন্তানের শরীর অনবরত অসুস্থ থাকা।
- ৭. সিদ্ধান্তহীনতা ও মনোযোগের অভাব: যেকোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এবং সবসময় বিভ্রান্ত বা কনফিউজড থাকা।
- ৮. আইনি ঝামেলা ও পারিবারিক বিবাদ: কারণে-অকারণে মিথ্যা অপবাদ, আইনি লড়াই বা মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়া এবং পরিবারে অনাবশ্যক অশান্তি হওয়া।
- ৯. দুর্ঘটনা বা চোট-আঘাতের ঝুঁকি: ঘন ঘন কোনো যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটা বা ধারালো কোনো বস্তু থেকে আঘাত পেয়ে রক্তপাতের মুখোমুখি হওয়া।
- ১০. অদ্ভুত বা কুৎসিত স্বপ্ন দেখা: রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার সাপ, কোনো ভয়াল মূর্তির স্বপ্ন দেখা অথবা হঠাৎ চমকে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
২. কেতু দোষ কাটাতে এবং কেতুকে শক্তিশালী করতে জাদুকরী প্রতিকার
- গণেশ উপাসনা: কেতু দোষ কাটাতে ভগবান গণেশের উপাসনা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিকার। প্রতিদিন সকালে গণপতি বাপ্পাকে দূর্বা নিবেদন করুন এবং 'ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।
- পশুপাখির সেবা (বিশেষত কুকুর): রাস্তার কুকুরকে প্রতিদিন তেল মাখানো রুটি বা বিস্কুট খাওয়ালে কেতু দেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
- দান-ধ্যান: অনাথ বা দুস্থ মানুষকে কম্বল, কালো তিল, ছাতা বা তিলের তৈরি মিষ্টি দান করা শুভ বলে মনে করা হয়।
- কেতু বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন নিয়ম করে 'ওঁ কেতবে নমঃ' অথবা 'ওঁ স্রাং শ্রীং স্রৌং সঃ কেতবে নমঃ' মন্ত্র ১০৮ বার জপ করলে কেতুর অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
কোষ্ঠীতে কেতুর অশুভ প্রভাব থাকলে ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে এর লক্ষণগুলো চেনা এবং শাস্ত্রীয় প্রতিকার মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। ইষ্টদেবের আরাধনা ও সৎ কর্মের মাধ্যমে কেতুর প্রতিকূল প্রভাব কাটিয়ে জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


