১৮ বছর পর চন্দ্রের রাশি কর্কটে কেতুর প্রবেশ! বছরের শেষে ৪ রাশির শুরু হবে সোনালি সময়, হবে কেরিয়ারে উন্নতি ও অর্থলাভ
কর্কট হলো একটি সংবেদনশীল ও জল তত্ত্বের রাশি, যার অধিপতি হলেন চন্দ্র। এই রাশিতে কেতুর দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনঃপ্রবেশ জ্যোতিষ মণ্ডলে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে ছায়া গ্রহ কেতুকে রহস্য, আধ্যাত্মিকতা, মোক্ষ, আকস্মিক পরিবর্তন এবং পূর্বজন্মের কর্মফলদায়ক গ্রহ হিসেবে মানা হয়। কেতু সর্বদা বক্রী বা বিপরীত গতিতে চালিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট রাশিতে প্রায় ১৮ মাস অবস্থান করে। বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকে অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে কেতু প্রায় ১৮ বছর পর ফের চন্দ্রের নিজস্ব রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করতে চলেছে।

কর্কট হলো একটি সংবেদনশীল ও জল তত্ত্বের রাশি, যার অধিপতি হলেন চন্দ্র। এই রাশিতে কেতুর দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনঃপ্রবেশ জ্যোতিষ মণ্ডলে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কর্কট রাশিতে কেতুর গোচরের ফলে মানসিক স্থিতি, আবেগ, পরিবার, প্রপার্টি এবং ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তগুলোতে বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। তবে কেতুর এই গোচর ৪টি বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বাম্পার সুযোগ, আকস্মিক আর্থিক উন্নতি এবং ক্যারিয়ারে প্রগতির পথ প্রশস্ত করতে চলেছে। কেতুর এই ১৮ বছর পরের বিশেষ গোচরে কোন ৪ রাশির সোনালী দিন শুরু হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ১৮ বছর পর চন্দ্রের রাশির কর্কটে কেতু গোচরের গুরুত্ব
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে কেতুকে কেবল অশুভ বা ছায়া গ্রহ ভাবা ভুল, কারণ শুভ ভাব বা স্থানে অবস্থান করলে কেতু মানুষকে রাতারাতি সাফল্য এনে দেয়:
- আকস্মিক সুযোগ ও কর্মফল: কেতু মানুষকে আকস্মিক পরিবর্তন ও নতুন দিগন্ত এনে দেয়। কর্মক্ষেত্রে এতদিন ধরে করা গোপন বা কঠোর পরিশ্রমের শুভ ফল কেতু প্রদান করে থাকে।
- তৃতীয়, ষষ্ঠ, দশম ও একাদশ ভাব: কেতু সাধারণত ৩, ৬, ১০ এবং ১১তম ভাবে শুভ ফল দান করে। তাই যাদের রাশিতে কেতুর অবস্থান এই ভাবগুলোতে পড়বে, তারা ক্যারিয়ার ও অর্থের দিক দিয়ে বিশেষ উপকৃত হবে।
২. কেতু গোচরে যে ৪ রাশির খুলবে ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার
ক) বৃষ রাশি (Taurus): বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কর্কট রাশিতে কেতুর গোচর ঘটবে তৃতীয় ভাবে (সাহস, পরাক্রম ও প্রচেষ্টা)। এর ফলে আপনার আত্মবিশ্বাস ও সাহসিকতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নিজের প্রচেষ্টায় নতুন নতুন সাফল্য অর্জিত হবে। কাজের সূত্রে লাভজনক দূরবর্তী ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন যোগাযোগের মাধ্যমে বড় লাভ পাবেন এবং আর্থিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হবে।
খ) কন্যা রাশি (Virgo): কন্যা রাশির জাতকদের জন্য কেতুর এই গোচর একাদশ ভাব অর্থাৎ আয় ও লাভের স্থানে অবস্থান করবে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটি আপনার জন্য সেরা সময় হতে চলেছে। আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হওয়ার সাথে সাথে পুরনো কোনো বিনিয়োগ থেকেও অপ্রত্যাশিত মোটা অঙ্কের রিটার্ন মিলতে পারে। চাকরিজীবীরা পদোন্নতি পাবেন এবং ব্যবসায়ীদের ক্লায়েন্ট বেস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতকদের জন্য কেতু দশম ভাব অর্থাৎ কর্ম, চাকরি ও সামাজিক প্রতিপত্তির ঘরে গোচর করবে। ফলে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রমোশন বা ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের সেই ইচ্ছা পূরণ হবে। চাকরি পরিবর্তন বা নতুন কাজের সন্ধান পেতে পারেন। ব্যবসায়ীরা নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন এবং সমাজে আপনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
ঘ) কুম্ভ রাশি (Aquarius): কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কেতু ষষ্ঠ ভাব (প্রতিযোগিতা, চাকরি ও সংকট কাটানো) স্পর্শ করবে। যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য চমৎকার ফল মিলবে। চাকরিজীবীরা অফিসে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। আইনি ঝামেলা বা পুরনো ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রবল যোগ রয়েছে। হঠাৎ প্রাপ্তি আপনার আর্থিক ভীত শক্ত করবে।
৩. কেতুর শুভ ফল বজায় রাখতে সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
কেতু গোচরের সময় অতিরিক্ত শুভ ফল পেতে এবং কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে কিছু সাধারণ শাস্ত্রীয় পরামর্শ মেনে চলুন:
- শ্রী গণেশের পূজা: প্রতি বুধবার ভগবান শ্রী গণেশকে কচি সবুজ দুর্বা নিবেদন করুন এবং 'ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।
- কুকুর ও পশুপাখির সেবা: অনাথ বা পথকুকুরদের নিয়মিত রুটি বা খাদ্যসামগ্রী খাওয়ালে কেতুর অশুভ ছায়া কাটে এবং শুভ প্রভাব বাড়ে।
- দান-ধ্যান: তিল, কম্বল বা কালো-সাদা রঙের বস্ত্র অনাথ বা দুঃস্থ মানুষদের দান করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক।
২০২৬ সালের ৫ ডিসেম্বরের এই কেতু গোচর বৃষ, কন্যা, তুলা ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ক্যারিয়ার ও আর্থিক জীবনে নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ। ধৈর্য ধরে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে জীবনের এই সোনালী সময় স্থায়ী সমৃদ্ধি এনে দেবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


