শুক্রবারে মা দুর্গার বিশেষ আরতি, জেনে নিন সঠিক নিয়মকানুন, প্রয়োজনীয় উপাচার ও শক্তিশালী মন্ত্র

দেবীর কৃপা পেতে শুক্রবারে আরতি করার কিছু নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম ও বিধান মেনে চলা জরুরি। শুক্রবারে মা দুর্গার আরতি কীভাবে করা উচিত, আরতির সময় কী কী উপাচার প্রয়োজন, সঠিক সময় ও শক্তিশালী মন্ত্রগুলি কী কী?

Published on: Oct 2, 2026, 07:24:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

সনাতন হিন্দু ধর্মে দেবী দুর্গাকে পরমাশক্তি ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জননী হিসেবে মান্য করা হয়। সপ্তাহে প্রতিদিন দেবী দুর্গার পুজো ও আরতির গুরুত্ব থাকলেও শুক্রবারের দিনটি মা দুর্গা ও দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা লাভের জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। শুক্রবারে ভক্তিকুল নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে মা দুর্গার আরতি নিবেদন করলে গৃহের সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়, পারিবারিক সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায় এবং জীবনে ধন-ধান্যের অভাব চিরতরে মিটে যায়।

শুক্রবারে মা দুর্গার বিশেষ আরতি, জেনে নিন শক্তিশালী মন্ত্র
শুক্রবারে মা দুর্গার বিশেষ আরতি, জেনে নিন শক্তিশালী মন্ত্র

তবে দেবীর কৃপা পেতে শুক্রবারে আরতি করার কিছু নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম ও বিধান মেনে চলা জরুরি। শুক্রবারে মা দুর্গার আরতি কীভাবে করা উচিত, আরতির সময় কী কী উপাচার প্রয়োজন, সঠিক সময় ও শক্তিশালী মন্ত্রগুলি কী কী—তা নিয়ে একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. আরতির প্রয়োজনীয় উপাচার ও প্রস্তুতি

মা দুর্গার আরতি শুরু করার আগে পুজোর স্থান পবিত্র করা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • প্রদীপ ও পঞ্চপ্রদীপ: তামার বা কাঁসার পঞ্চপ্রদীপে ঘি বা তিল তেল দিয়ে ৫টি সলতে জ্বালানো উত্তম।
  • ধূপ ও ধুনো: ধূপকাঠি এবং গুগল-ধুনোর সুগন্ধি ধোঁয়া পরিবেশকে ইতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ করে তোলে।
  • শঙ্খ ও ঘণ্টার ধ্বনি: আরতির সময়ে শঙ্খধ্বনি এবং ঘণ্টা বাজানো অত্যন্ত শুভ।
  • আরতি নিবেদনের শুভ বস্তু: পুষ্প বা লাল ফুল (জবা ফুল দেবী দুর্গার পরম প্রিয়), কর্পূর, চামর এবং পরিচ্ছন্ন সাদা বা লাল সুতি কাপড়।

২. শুক্রবারে মা দুর্গার আরতি করার সঠিক নিয়মকানুন

শাস্ত্র মতে দেবী দুর্গার আরতি করার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও ক্রম বজায় রাখা আবশ্যক:

আচমন ও সংকল্প: আরতি শুরুর আগে হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার লাল বা হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করুন। এরপর আচমন করে মা দুর্গার ধ্যান করুন।

আরতির সঠিক ঘূর্ণন নিয়ম:

  • দেবীর চরণ কমলে ৪ বার প্রদীপ ঘোরাতে হয়।
  • দেবীর নাভি দেশে ২ বার প্রদীপ ঘোরাতে হয়।
  • দেবীর শ্রীমুখে ১ বার প্রদীপ ঘোরাতে হয়।
  • সবশেষে দেবীর সর্বাঙ্গে অর্থাৎ পুরো প্রতিমা বা ছবির সামনে ৭ বার প্রদীপ ঘোরাতে হয়। (মোট ১৪ বার ঘোরানোর প্রথা রয়েছে)।

শঙ্খধ্বনি ও কর্পূর আরতি: পঞ্চপ্রদীপের আরতি শেষে লাল ফুল অর্পণ করে কর্পূর আরতি নিবেদন করতে হয়। আরতির সময়ে ধুনো দেওয়া ও শঙ্খধ্বনি করা পরম কল্যাণকর।

ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা: আরতি সমাপ্ত হওয়ার পর হাত জোর করে মা দুর্গার চরণে আরতির আলো গ্রহণ করুন এবং পুজোয় কোনো ত্রুটি থাকলে দেবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

৩. দেবী দুর্গার আরতির মূল মন্ত্র ও জপ মন্ত্র

আরতির সময় ও আরতির শেষে দেবী দুর্গার এই পরম শক্তিশালী মন্ত্রগুলি পাঠ করলে দেবীর বিশেষ কৃপা লাভ হয়:

  • দেবী দুর্গার আরতি মন্ত্র (জয় অম্বে গৌরী):

"জয় অম্বে গৌরী, মৈয়া জয় শ্যামা গৌরী।

তুমকো নিশদিন ধ্যাবত, হরি ব্রহ্মা শিবরী॥"

  • দেবী দুর্গার মহাসিদ্ধ মন্ত্র:

"সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।

শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥"

  • দেবী দুর্গার বীজ মন্ত্র (আরতির পর ১০৮ বার জপ করা শুভ):

"ওঁ ঐঁ হ্রীঁ ক্লীঁ চামুণ্ডায়ৈ বিচ্চে॥"

৪. শুক্রবারে দেবী দুর্গার আরতি করার বিশেষ অলৌকিক ফল

  • আর্থিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি: শুক্রবারে দেবী দুর্গা ও মা লক্ষ্মীর আরাধনা একযোগে সম্পন্ন হওয়ায় অর্থকষ্ট ও ঋণগ্রস্ততা থেকে মুক্তি মেলে।
  • পারিবারিক সুখ ও শান্তি: দেবী দুর্গার কৃপায় গৃহের বাস্তুদোষ ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং পারিবারিক সম্পর্কে প্রীতি ও বন্ধন দৃঢ় হয়।
  • ভয় ও শত্রু নাশ: দেবীর আরতির আলো ও ধুনোর গন্ধে গ্রহদোষ ও মানসিক দুশ্চিন্তা কেটে যায়।

শুক্রবারে নিষ্ঠা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং শুদ্ধ মনে মা দুর্গার আরতি করলে দেবী প্রসন্ন হন এবং ভক্তের সমস্ত মাক্সিক ইচ্ছা পূরণ করেন। সঠিক নিয়ম ও মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে আরতি নিবেদন করে দেবীর অশেষ আশীর্বাদ লাভ করুন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More