মকর সংক্রান্তির দিনে এই বিশেষ ছড়া বলে বাঁধা হয় ‘বাউনি’! জানেন তা কী?

পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ জনপ্রিয় একটি উৎসব। নানা আচার-অনুষ্ঠান, পুজোর পাশাপাশি এদিন বিশেষ বিশেষ পিঠেও রান্না করা হয়। সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ উপলক্ষ্যেই এই বিশেষ উৎসব হয়। নতুন চাল আর গুড়ের সুবাসে ভরে ওঠে বাংলার প্রতিটি বাড়ি।

Published on: Jan 13, 2026 10:30 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ জনপ্রিয় একটি উৎসব। নানা আচার-অনুষ্ঠান, পুজোর পাশাপাশি এদিন বিশেষ বিশেষ পিঠেও রান্না করা হয়। সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ উপলক্ষ্যেই এই বিশেষ উৎসব হয়। নতুন চাল আর গুড়ের সুবাসে ভরে ওঠে বাংলার প্রতিটি বাড়ি।

মকর সংক্রান্তির দিনে এই বিশেষ ছড়া বলে বাঁধা হয় বাউনি! জানেন তা কী?
মকর সংক্রান্তির দিনে এই বিশেষ ছড়া বলে বাঁধা হয় বাউনি! জানেন তা কী?

পৌষ সংক্রান্তি কীভাবে পালিত হয়?

সংক্রান্তি মানে এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে সূর্যের স্থানান্তর। পৌষ সংক্রান্তি মানে সূর্যের মকর রাশিতে স্থানান্তর বোঝায়। মকর সংক্রান্তিকে উত্তরায়ণ বা সূর্যের উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করার দিনও বলা হয়। এটা একটা শুভ নতুন সময়ের সূচনা। তাই এদিন বাঙালি বাড়িতেও নতুন ফসলকে এই পৌষ সংক্রান্তির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।

বাংলার অন্যতম প্রধান খাদ্য ভাত। আর এই ভাতের চাল যে ধান থেকে আসে তা এই সময় ঘরে তোলা উপলক্ষ্যেই হয় এই সুন্দর উদযাপন। যেহেতু ফসল কাটার মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ফসল ঘরে আসে, তাই পৌষ সংক্রান্তির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে নতুন চাল। তবে যে কোনও নতুন বা শুভ মিষ্টি মুখ ছাড়া কি সম্পূর্ণ হয়? আর বাঙালিরা যে বেশ ভোজন রসিক সে কথা বলাই বাহুল্য। ফলে নতুন চালের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় শীতের নতুন গুড়। আর তা দিয়েই বানানো পিঠেপুলি ও পায়েস দিয়ে এই তিনটি দিন উদযাপনের মাতেন বঙ্গসন্তানরা।

সকলেই তাঁদের ঘর আগের দিন থেকে পরিষ্কার করেন, চাল গুঁড়ো দিয়ে আঁকেন আল্পনা। তারপর পাতা এবং ধান দিয়ে ছোট ছোট করে থোকা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একেই বাউনি বলে। বিশ্বাস করা হয় এতে ঘরের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। এদিন বাড়িতে নতুন মাটির হাঁড়ি আনতে হয়। তাতে তো বটেই তাছাড়াও বাড়ির দরজাতেও বাঁধতে হয় বাউনি। সঙ্গে বলতে হয় বিশেষ এক ছড়াও। জানেন তা কী? ‘আউনি-বাউনি কোথাও না যেও, ৩ দিন ঘরে বসে পিঠেপুলি খেও।’ এই ছড়া না বললে কিন্তু এই উৎসবের অনেকটাই ফাঁকি।

এরপর শীতের ফসল ও গুড় দিয়ে দেবী লক্ষ্মীর পুজো হয়। এই সময় নতুন মাটির হাঁড়ি এনে তাতে প্রথম ভাত রান্না করা হয়। লক্ষ্মী পুজোতেও ধানের শীষ দেওয়া হয়, যা সম্পদের প্রতীক।

তারপর নতুন চাল বেটে তার সঙ্গে গুড়, দুধ মিশিয়ে ভাপা পিঠে, পুলি পিঠে, দুধপুলি, আসকে পিঠে, পাটিসাপটা, গোকুল পিঠে, নতুন গুড়ের পায়েস -সহ নানা পদ রান্না করে উদযাপনে মেতে ওঠেন বাঙালিরা।