পৃথিবী পুত্রের জলতত্ত্বের রাশিতে মহাগোচর! ৪ রাশির ফিরবে ভাগ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখটা ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখুন
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মঙ্গল দেব মিথুন রাশি থেকে বেরিয়ে জলতত্ত্বের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করবেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে কর্কট রাশিতে মঙ্গলের প্রবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্দোলনকারী গোচর হিসেবে গণ্য করা হয়।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শক্তি, সাহস, আত্মবিশ্বাস, পরাক্রম, ভূমি, সম্পদ এবং নেতৃত্বের প্রধান প্রতীক ও গ্রহমণ্ডলীর সেনাপতি হলেন মঙ্গল দেব (Mars)। জ্যোতিষ মতে, মঙ্গলের গতিবিধি ও রাশি পরিবর্তন মানবজীবনের আর্থিক সিদ্ধান্ত, কেরিয়ারে উন্নতি এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মঙ্গল দেব মিথুন রাশি থেকে বেরিয়ে জলতত্ত্বের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করবেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে কর্কট রাশিতে মঙ্গলের প্রবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্দোলনকারী গোচর হিসেবে গণ্য করা হয়। এই গোচরের শুভ প্রভাবে বিশেষ ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে কেরিয়ারে উল্কা গতিতে অগ্রগতি, অফিসে আটকে থাকা পদোন্নতি (Promotion), প্রপার্টি ডিলিং থেকে লাভ এবং থমকে থাকা অর্থ পাওয়ার শুভ পথ প্রশস্ত হবে। কর্কট রাশিতে মঙ্গলের এই মহাগোচরে কোন ৪ রাশির ভাগ্যে সোনালী দিন আসছে—জেনে নিন।
১. কর্কট রাশিতে মঙ্গলের গোচরের বৈদিক ও জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে সেনাপতি মঙ্গলের গোচরকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কর্মমুখী সময় বলে মনে করা হয়:
- সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার: মঙ্গলের শুভ প্রভাবে মানুষের কাজের প্রতি একাগ্রতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কঠিন বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
- কেরিয়ার, প্রপার্টি ও ব্যবসায় সাফল্য: রিয়েল এস্টেট, জমি-জমা, গৃহনির্মাণ, প্রতিরক্ষা খাত, খেলাধুলা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি এবং নতুন ব্যবসা শুরুর সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এই গোচরকালে দুর্দান্ত আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
২. ১৮ সেপ্টেম্বরের পর মঙ্গলের গোচরে কপাল খুলবে যে ৪ রাশির
ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির নিজস্ব অধিপতি গ্রহ হলেন স্বয়ং মঙ্গল দেব। মঙ্গলের এই গোচর মেষ রাশির চতুর্থ ভাব অর্থাৎ সুখ ও সম্পত্তি স্থানকে সক্রিয় করবে। নতুন বাড়ি, জমি বা গাড়ি কেনার বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নপূরণ হতে পারে। অফিসে বসেরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেবেন। আর্থিক সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে।
খ) কর্কট রাশি (Cancer): মঙ্গল দেব স্বয়ং কর্কট রাশির লগ্ন বা প্রথম ভাবে প্রবেশ করছেন। ফলে কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের ব্যক্তিত্বে এক অভূতপূর্ব তেজ, সাহস ও আকর্ষণ ফুটে উঠবে। আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায় লাভজনক নতুন চুক্তি সম্পাদনে সফল হবেন এবং পারিবারিক জীবন সুমধুর থাকবে।
গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতকদের জন্য মঙ্গলের এই গোচর দশম ভাব অর্থাৎ কর্ম ও কেরিয়ারের স্থানকে বলীয়ান করবে। অফিসে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি (Promotion) বা ইনসেনটিভ হাতে পেতে পারেন। নতুন চাকরির সন্ধানে থাকা প্রার্থীরা নামী সংস্থায় ভালো অফার লেটার পেতে পারেন।
ঘ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির অধিপতিও মঙ্গল দেব। মঙ্গলের এই রাশি পরিবর্তন বৃশ্চিক রাশির ভাগ্যস্থানকে বল প্রদান করবে। ফলে আপনার আটকে থাকা সমস্ত শুভ কাজ গতি পাবে। কাজের সূত্রে দূরবর্তী সফর হতে পারে, যা ভবিষ্যতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লাভ এনে দেবে। আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি মিলবে।
৩. মঙ্গল দেবের পূর্ণ শুভ ফল লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
মঙ্গলের এই মহাগোচরের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং গ্রহদোষ প্রশমিত করতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করতে পারেন:
- হনুমানজির আরাধনা: প্রতি মঙ্গলবারে শ্রী হনুমান চালিশা বা বজরং বাণ পাঠ করুন। হনুমানজিকে লাল সিন্দুর ও বুন্দির ভোগ নিবেদন করা পরম শুভ।
- লাল বস্তু দান: মঙ্গলবারে দুঃস্থ মানুষদের মসুর ডাল, গুড় বা লাল বস্ত্র দান করুন।
- মঙ্গল বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে ‘ওঁ ক্রাঁ ক্রীং ক্রৌং সঃ ভৌমায় নমঃ’ মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করলে মানসিক স্থিরতা বাড়ে এবং কাজের শক্তি দ্বিগুণ হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কর্কট রাশিতে মঙ্গলের এই মহাগোচর মেষ, কর্কট, তুলা ও বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, আত্মবিশ্বাস ও কেরিয়ারে সাফল্যের এক অনবদ্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসছে। সঠিক লক্ষ্য ও দূরদর্শিতার সাথে পদক্ষেপ নিলে এই সময় আপনার জীবনে স্থায়ী প্রগতি সুনিশ্চিত করবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


