Vedic astrology: মনের চাবিকাঠি চন্দ্রের হাতে! কুষ্টির ১২টি ঘরে চন্দ্র থাকলে কী হয়? জানুন বিখ্যাত ‘ফলদীপিকা’র ব্যাখ্যা

Moon in 12 houses effects: চন্দ্র যদি শুভ অবস্থানে থাকে, তবে জাতক অত্যন্ত শান্ত, দয়ালু এবং সৃজনশীল হন। অন্যদিকে চন্দ্র দুর্বল বা পাপদৃষ্ট হলে তা মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করে।

Published on: Jul 2, 2026, 16:10:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Chandra in twelve houses: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্র বা চন্দ্রদেবকে মনের কারক গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রখ্যাত জ্যোতিষ গ্রন্থ ‘ফলদীপিকা’ (Phaladeepika) অনুসারে, কোনো জাতক বা জাতিকার জন্মকুণ্ডলীর ১২টি ঘরে চন্দ্রের অবস্থান তাঁর মানসিকতা, স্বাস্থ্য, আবেগ, ভাগ্য এবং জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। চন্দ্র যেহেতু অত্যন্ত দ্রুত গতিশীল একটি গ্রহ, তাই এর সামান্য পরিবর্তনও মানুষের মেজাজ ও ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলে।

মনের চাবিকাঠি চন্দ্রের হাতে! কুষ্টির ১২টি ঘরে চন্দ্র থাকলে কী হয়?
মনের চাবিকাঠি চন্দ্রের হাতে! কুষ্টির ১২টি ঘরে চন্দ্র থাকলে কী হয়?

কুণ্ডলীর প্রথম থেকে দ্বাদশ ঘরে চন্দ্রের অবস্থান কেমন প্রভাব ফেলে—তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

চন্দ্র যদি শুভ অবস্থানে থাকে, তবে জাতক অত্যন্ত শান্ত, দয়ালু এবং সৃজনশীল হন। অন্যদিকে চন্দ্র দুর্বল বা পাপদৃষ্ট হলে তা মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করে। নিচে ১২টি ঘরে চন্দ্রের ফল সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

প্রথম থেকে চতুর্থ ভাব: রূপ, ধন ও সুখের বিচার

  • প্রথম ঘর (লগ্ন): প্রথম ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত আকর্ষক রূপ ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। এরা সাধারণত দয়ালু ও ভ্রমণপ্রিয় হন। তবে চন্দ্র দুর্বল হলে জাতক কিছুটা চঞ্চল মনের হতে পারেন।
  • দ্বিতীয় ঘর: ধন ও বাণীর ঘরে চন্দ্রের অবস্থান জাতককে সুবক্তা এবং ধনী করে তোলে। এরা পারিবারিক সুখ লাভ করেন এবং সমাজে অত্যন্ত সমাদৃত হন।
  • তৃতীয় ঘর: এই ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত পরাক্রমী, সাহসী এবং বুদ্ধিমান হন। ভাইবোনেদের সাথে এদের সম্পর্ক ভালো থাকে এবং এরা নিজের চেষ্টায় জীবনে উন্নতি করেন।
  • চতুর্থ ঘর: সুখ ও মাতার ঘরে চন্দ্র অবস্থান করলে জাতক সমস্ত ধরণের জাগতিক সুখ, যেমন— ভালো বাড়ি ও গাড়ির মালিক হন। মায়ের সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর থাকে এবং এদের মানসিক শান্তি বজায় থাকে।

পঞ্চম থেকে অষ্টম ভাব: শিক্ষা, শত্রু ও আয়ু

  • পঞ্চম ঘর: এটি বুদ্ধি ও সন্তানের ঘর। এখানে চন্দ্র থাকলে জাতক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, ধার্মিক এবং একজন ভালো পরামর্শদাতা হন। এরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে সফল হন।
  • ষষ্ঠ ঘর: ষষ্ঠে চন্দ্রের অবস্থান খুব একটা শুভ মনে করা হয় না। জাতক পেটের সমস্যা বা ঠাণ্ডা লাগার ধাত সংক্রান্ত রোগে ভুগতে পারেন। তবে এরা শত্রুদের ওপর বিজয়ী হন।
  • সপ্তম ঘর: বিবাহের ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত সুন্দর, গুণী এবং বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী লাভ করেন। ব্যবসা বা পার্টনারশিপের কাজে এরা ভালো সাফল্য পান।
  • অষ্টম ঘর: অষ্টম ভাবকে জ্যোতিষে আয়ু ও সংকটের ঘর বলা হয়। এখানে চন্দ্র থাকলে জাতকের স্বাস্থ্য কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং মনের মধ্যে এক ধরণের অজানা ভয় কাজ করে। তবে এদের আধ্যাত্মিক যোগ থাকে।

নবম থেকে দ্বাদশ ভাব: ভাগ্য, কর্ম ও মোক্ষ

  • নবম ঘর: ভাগ্যের ঘরে চন্দ্রের উপস্থিতি জাতককে পরম ভাগ্যবান করে তোলে। এরা ধর্মপরায়ণ, সৎ এবং তীর্থভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। সমাজে এদের মান-সম্মান থাকে আকাশছোঁয়া।
  • দশম ঘর: কর্মক্ষেত্রে দশম চন্দ্র জাতককে অত্যন্ত সফল ব্যবসায়ী বা উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরিজীবী করে তোলে। এরা যেকোনো কাজে খুব দ্রুত নেতৃত্ব দিতে পারেন।
  • একাদশ ঘর: আয়ের ঘরে চন্দ্রের অবস্থান জাতককে দীর্ঘায়ু এবং অত্যন্ত ধনী করে তোলে। বিভিন্ন উৎস থেকে এদের অর্থ উপার্জন হয় এবং বন্ধুদের থেকে এরা সবসময় সাহায্য পান।
  • দ্বাদশ ঘর: ব্যয়ের ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক কিছুটা চিন্তাশীল বা একাকীত্ব পছন্দ করতে পারেন। এদের খরচের হাত বেশি থাকে, তবে বৈদেশিক সূত্রে বা বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে এদের ভাগ্যোদয়ের সম্ভাবনা থাকে।

‘ফলদীপিকা’ গ্রন্থ অনুযায়ী, চন্দ্রের অবস্থান মানুষের ভেতরের মানসিক শক্তিকে ফুটিয়ে তোলে। তবে কুষ্টিতে চন্দ্রের এই ফলের তীব্রতা চন্দ্রের দশা, মহাদশা এবং শুভ বা অশুভ গ্রহের দৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More