Nal Sankranti 2025: গর্ভস্থ প্রকৃতির পুজো আশ্বিনের শেষে, ভূত চতুর্দশীতেই কেন পালিত হয় নল সংক্রান্তি?

Nal Sankranti 2025 Myth And History: গর্ভস্থ প্রকৃতির পুজো হয় আশ্বিনের শেষে। ভূত চতুর্দশীতেই পালন করা হয় নল সংক্রান্তি। কিন্তু কেন?

Published on: Oct 19, 2025, 21:30:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নল সংক্রান্তি প্রধানত রাঢ়-বাংলার গ্রামীণ কৃষক সমাজের একটি লোক উৎসব। আশ্বিন মাসের শেষ দিনে পালিত এটি মূলত কৃষি উৎসব। তবে এর গুরুত্ব এর লোকাচার ও লোকবিজ্ঞানের সুন্দর মিশ্রণে।

ভূত চতুর্দশীতেই কেন পালিত হয় নল সংক্রান্তি?
ভূত চতুর্দশীতেই কেন পালিত হয় নল সংক্রান্তি?

নল সংক্রান্তি পালনের কারণ

নল সংক্রান্তি পালনের মূল উদ্দেশ্য হল ফসলের সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধি কামনা। এই সময়ে ধান গাছে সবেমাত্র ফুল আসে এবং ধানের শীষে চাল জমতে শুরু করে। এই ধানকে কৃষকরা গর্ভস্থ নারীরূপে পুজো করেন। ধান গাছকে গর্ভবতী মা হিসেবে গণ্য করে তার সাধভক্ষণের একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান এই নল সংক্রান্তি।

কৃষি ও প্রকৃতি পুজো

প্রকৃতি ও কৃষির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই পালিত হয় নল উৎস৪ব। সশীর্ষ ধানকে লক্ষ্মীদেবীর প্রতীক ও গর্ভস্থ নারী মনে করে পুজো করা হয়, যাতে ধানের ফলন ভালো হয় এবং ঘরে লক্ষ্মী আসে।

পোকা-মাকড় ও রোগ নিবারণ

এই সময়ে ধানে পোকা বা 'শনি'-র উপদ্রব বাড়ে। নল সংক্রান্তির আচার-অনুষ্ঠান এই পোকাদের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করার একটি প্রাচীন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। নলগাছের সাথে দশ-বারো প্রকারের ভেষজ (যেমন নিম, কালমেঘ, তুলসী ইত্যাদি) কচি করে কুচি করে বেঁধে জমিতে পুঁতে দেওয়া হয়। এই ভেষজের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ কীটনাশকের মতো কাজ করে, যা পোকা-মাকড়কে দূরে সরিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন - Kali Puja 2025 Wishes: কালীপুজোয় প্রিয়জনদের জানান শুভেচ্ছাবার্তা! কী লিখবেন? রইল সেরা ১০ মেসেজের খোঁজ

আরও পড়ুন - Kali Puja 2025 Kiriteswari Temple: কিরীটেশ্বরী সতীপীঠের মন্দির গড়েন স্বয়ং রানি ভবানী, কুষ্ঠ থেকেও মুক্তি দেন মা

স্বাস্থ্য সুরক্ষা

এই নল বাঁধায় ব্যবহৃত নিম ও কালমেঘের মতো ভেষজগুলিকে পরদিন সকালে হলুদ, আতপ চালের বাটা ও চিংড়ি মাছের সাথে মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের ও গৃহপালিত গরুকে খাওয়ানোর রীতি আছে। কৃষকদের বিশ্বাস, এর ফলে সারা বছর শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভেষজগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লোকাচার ও প্রথার সংরক্ষণ

এটি গ্রাম বাংলার এক প্রাচীন লোকাচার, যা চিরায়ত কৃষি সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। নল পুঁতে দেওয়ার সময় কৃষক বলেন, "নল পড়ল ভুঁয়ে, যা শনি তুই উত্তর মুয়ে," যার অর্থ, শনি (পোকা-মাকড়) উত্তর দিকে চলে যাক এবং ফসল রক্ষা পাক। নল সংক্রান্তি কেবল একটি উৎসব নয়, এটি গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের একাত্মতার প্রতীক।