সনাতন ধর্মে এত শক্তিশালী মন্ত্র কমই আছে! এতে খুশি হন গণপতি, মেটে অভাব, কীভাবে পাঠ করবেন জানুন

আপনি কি জানেন, মাঙ্গলিক কার্যের পাশাপাশি মানুষের মনের গভীর আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য গণেশ শাস্ত্রে কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে? এখনই জেনে নিন। 

Published on: Feb 07, 2026 1:14 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সনাতন ধর্মে ভগবান গণেশকে বলা হয় 'বিঘ্নহর্তা' এবং 'সিদ্ধিদাতা'। যেকোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে তাঁর আরাধনা করা আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য। কিন্তু আপনি কি জানেন, মাঙ্গলিক কার্যের পাশাপাশি মানুষের মনের গভীর আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য গণেশ শাস্ত্রে কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে?

সনাতন ধর্মে এত শক্তিশালী মন্ত্র কমই আছে! এতে খুশি হন গণপতি, মেটে অভাব
সনাতন ধর্মে এত শক্তিশালী মন্ত্র কমই আছে! এতে খুশি হন গণপতি, মেটে অভাব

জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে গণেশ মন্ত্রের মহিমা এবং তা পাঠের সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন।

সিদ্ধিদাতা গণেশের শক্তিশালী মন্ত্র

মনস্কামনা পূরণের জন্য সবথেকে কার্যকর মন্ত্রটি হলো গণেশ গায়ত্রী মন্ত্র এবং 'সিদ্ধি বিনায়ক' মন্ত্র।

১. গণেশ গায়ত্রী মন্ত্র: ‘ওঁ একদন্তায় বিদ্মহে বক্রতুণ্ডায় ধীমহি তন্নো দন্তিঃ প্রচোদয়াৎ।’

২. মনোবাঞ্ছা পূরণের মূল মন্ত্র: ‘ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ।’

এই মন্ত্রটি ছোট মনে হলেও এর কম্পন (Vibration) অত্যন্ত শক্তিশালী। জ্যোতিষীদের মতে, এই ধ্বনি সরাসরি আমাদের আজ্ঞাচক্রকে প্রভাবিত করে বাধা দূর করে।

মন্ত্র পাঠের সঠিক পদ্ধতি: নিয়ম মেনে ফল পান দ্রুত

গণেশ মন্ত্র জপের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে তা অতি দ্রুত কার্যকর হয়:

  • ব্রহ্ম মুহূর্ত: প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে বা সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে এই মন্ত্র জপ করা সবথেকে উত্তম।
  • আসন ও দিক: কুশের আসন বা লাল রঙের কম্বলের আসনে বসে উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে জপ করুন।
  • রুদ্রাক্ষ বা চন্দনের মালা: ১০৮ বার (এক মালা) জপ করা অত্যন্ত শুভ। এর জন্য রুদ্রাক্ষ বা লাল চন্দনের মালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ভোগ নিবেদন: পুজোর সময় ভগবান গণেশকে দূর্বা ঘাস এবং মোদক বা লাড্ডু অর্পণ করুন। তিনি এতে অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
  • সংকল্প: জপ শুরু করার আগে মনে মনে নিজের লক্ষ্য বা আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে 'সংকল্প' করুন।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে গণেশকে 'কেতু' গ্রহের অধিপতি দেব হিসেবে মানা হয়।

  • গ্রহদোষ খণ্ডন: যাদের কোষ্ঠীতে বুধ বা কেতু গ্রহ দুর্বল, তাদের জীবনে নানা চড়াই-উতরাই দেখা দেয়। গণেশ মন্ত্র জপ করলে এই দুই গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব দূর হয়।
  • বাধা মুক্তি: জ্যোতিষীদের মতে, শনির সাড়ে সাতি বা রাহুর দশায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য 'বিঘ্নহর্তা'র আরাধনা এক অভেদ্য বর্মের মতো কাজ করে।
  • বুদ্ধি ও ব্যবসায় উন্নতি: বুধ গ্রহ বুদ্ধির কারক। গণেশের উপাসনা করলে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, যা শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে আসে।

ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে যদি এই মন্ত্র পাঠ করা যায়, তবে তা কেবল জাগতিক সুখ নয়, বরং মানসিক শান্তিও প্রদান করে। মনে রাখবেন, মন্ত্রের শক্তির সাথে নিজের প্রচেষ্টাও জরুরি। গণপতির আশীর্বাদ আপনার প্রচেষ্টাকে সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দেবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More