রাহু-কেতুর প্রলয়ঙ্করী গোচর! কুম্ভ ও সিংহ রাশিতে অশুভ ছায়া, ৫ রাশি সাবধান
রাহু ও কেতুর এই যৌথ গোচর সমস্ত ১২টি রাশির ওপর প্রভাব ফেললেও বিশেষ ৫টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ ও কষ্টের কারণ হতে পারে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু এবং কেতুকে ছায়া গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হলেও মানবজীবন ও বিশ্বরাজনীতিতে এদের প্রভাব অপরিসীম। রাহু এবং কেতু সবসময় বক্রী বা উল্টো চালে ভ্রমণ করে এবং একটি নির্দিষ্ট রাশিতে প্রায় ১৮ মাস অবস্থান করে। ২০২৬ সালে রাহু ও কেতু তাদের রাশি পরিবর্তন করে যথাক্রমে কুম্ভ রাশি (Aquarius) এবং সিংহ রাশিতে (Leo) প্রবেশ করতে চলেছে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, রাহু ও কেতুর এই যৌথ গোচর সমস্ত ১২টি রাশির ওপর প্রভাব ফেললেও বিশেষ ৫টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ ও কষ্টের কারণ হতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক অস্থিরতা ও স্বাস্থ্যহানির মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে তাদের। ২০২৬ সালে রাহু-কেতুর কুম্ভ ও সিংহ রাশির গোচরে কোন ৫ রাশিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে হবে—তা নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ২০২৬ সালে রাহু-কেতু গোচরের জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহুকে বিভ্রান্তি, আকস্মিক সংকট, মোহ এবং আনপ্রিডিক্টেবল পরিণতির কারক গ্রহ বলা হয়। অন্যদিকে কেতু হলো মুক্তি, বিচ্ছিন্নতা, মানসিক অসন্তোষ এবং গোপন ব্যাধির প্রতীক।
- কুম্ভে রাহু: কুম্ভ হলো শনির নিজস্ব স্বক্ষেত্র। শনির রাশিতে রাহুর প্রবেশ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে টানাপোড়েন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত জীবনে চরম সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি করে।
- সিংহে কেতু: সিংহ হলো সূর্যের নিজস্ব স্বক্ষেত্র। সূর্যের রাশিতে কেতুর অবস্থান জাতকের আত্মবিশ্বাস, মান-সম্মান এবং পিতৃতুল্য ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।
২. রাহু-কেতুর গোচরে বিপদের মুখে যে ৫টি রাশি
ক) কুম্ভ রাশি (Aquarius): যেহেতু রাহু স্বয়ং কুম্ভ রাশিতেই (প্রথম ভাব বা লগ্ন) প্রবেশ করবে এবং সপ্তম ভাবে কেতুর প্রভাব থাকবে, তাই এই রাশির জাতকদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তি চরম আকার নিতে পারে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায় বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। দাম্পত্য জীবন ও পার্টনারশিপ ব্যবসায় অনভিপ্রেত বিতর্ক ও ফাটল দেখা দিতে পারে।
খ) সিংহ রাশি (Leo): সিংহ রাশির লগ্নে কেতু এবং সপ্তম ভাবে রাহুর অবস্থান থাকবে। ফলে সিংহ রাশির জাতকদের আত্মবিশ্বাসে টান পড়বে এবং সামাজিক মান-সম্মানহানির ঝুঁকি থাকবে। চোখের সমস্যা, পেটের রোগ বা অজ্ঞাত কোনো শারীরিক কষ্টে ভুগতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে অনাবশ্যক বিবাদ এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় চাকরি বা পদ হারানোর ভয় থাকবে।
গ) কর্কট রাশি (Cancer): রাহু আপনার অষ্টম ভাব এবং কেতু দ্বিতীয় ভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এটি দুর্ঘটনা, হঠাৎ গুপ্ত সংকট এবং পারিবারিক অশান্তির ঘর। আর্থিক লেনদেনে চরম সাবধানতা অবলম্বন করুন; কাউকে টাকা ধার দিলে তা ডুবে যেতে পারে। রাস্তায় সাবধানে চলাফেরা করুন এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকুন।
ঘ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির জন্য রাহু চতুর্থ এবং কেতু দশম ভাবকে প্রভাবিত করবে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ এবং মানসিক অস্থিরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পৈতৃক সম্পত্তি বা জমিজমা কেনাবেচা নিয়ে পরিবারে রক্তক্ষয়ী বিবাদ হতে পারে। মায়ের শারীরিক স্বাস্থ্যের হঠাৎ অবনতি আপনার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ঙ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের দ্বাদশ ভাবে রাহু ও ষষ্ঠ ভাবে কেতুর অবস্থান হঠাৎ বড় ধরণের খরচের বোঝা এনে ফেলতে পারে। আইনি ঝামেলা বা কোর্ট-কাচারির মামলায় জড়ানোর প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে গুপ্ত শত্রুরা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে, তাই নিজের গোপন কথা কারও সাথে শেয়ার করবেন না।
৩. রাহু-কেতুর প্রলয়ঙ্করী অশুভ প্রভাব কাটাতে অব্যর্থ প্রতিকার
রাহু ও কেতুর কুপ্রভাব এড়িয়ে চলতে এবং জীবনে শান্তি বজায় রাখতে জ্যোতিষশাস্ত্রসম্মত কিছু সহজ কাজ নিয়মিত করুন:
- ভগবান শিবের আরাধনা: প্রতিদিন সকালে শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ ও জল ঢেলে নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করুন।
- ভৈরব চালিশা ও হনুমান চালিশা পাঠ: প্রতি শনিবার ভৈরব চালিশা ও হনুমান চালিশা পাঠ করলে রাহু-কেতুর ছায়া কেটে যায়।
- দান-ধ্যান: দুঃস্থ বা কুষ্ঠ রোগীদের কালো তিল, কম্বল, রাঙা ছাতা বা অড়হর ডাল দান করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের রাহু-কেতুর এই বিশেষ গোচর সতর্ক থাকার এক কড়া বার্তা দেয়। কুম্ভ, সিংহ, কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন রাশির জাতকরা যদি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেন, তবে এই কঠিন সময়কেও সফলভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


