শনিবার হনুমান চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা
জ্যোতিষ এবং সনাতন ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, বাজরংবলী হলেন কলিযুগের জাগ্রত দেবতা। তিনি ভক্তবাৎসল এবং আশু ফলদায়ক। বিশেষ করে শনিবার দিনে যিনি শ্রদ্ধা ও পরম ভক্তিতে পবনপুত্রের স্মরণ নেন, শনিদেবও তাঁর প্রতি প্রসন্ন থাকেন।
সনাতন ধর্মে মঙ্গলবার ও শনিবার—এই দুই দিনই মহাবীর শ্রী হনুমানজির আরাধনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত ফলদায়ী বলে বিবেচিত। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবের কোপ, সাড়ে সাতি বা ঢাইয়ার অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে শনিবারে হনুমানজির পূজা এবং ‘শ্রী হনুমান চালিশা’ (Hanuman Chalisa) পাঠকে পরম মহৌষধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহাকবি গোস্বামী তুলসীদাস বিরচিত ৪০টি পদ ও দোহার এই ঐশ্বরিক স্তোত্রটি ভক্তদের জীবন থেকে সমস্ত ভয়, ব্যাধি, দুশ্চিন্তা, ঋণ এবং গ্রহদোষ দূর করে দেয়। শনিবারে হনুমান চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ হনুমান চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।
জ্যোতিষ এবং সনাতন ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, বাজরংবলী হলেন কলিযুগের জাগ্রত দেবতা। তিনি ভক্তবাৎসল এবং আশু ফলদায়ক। বিশেষ করে শনিবার দিনে যিনি শ্রদ্ধা ও পরম ভক্তিতে পবনপুত্রের স্মরণ নেন, শনিদেবও তাঁর প্রতি প্রসন্ন থাকেন।
শনিবার হনুমান চালিশা পাঠের মহিমান্বিত উপকারিতা
প্রতি শনিবারে নিয়ম মেনে হনুমান চালিশা জপ করলে ভক্তের জীবনে নানা আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক সুফল মেলে:
- শনির সাড়ে সাতি ও ঢাইয়ার কষ্ট লাঘব: পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শ্রী হনুমানজি শনিদেবকে রাবণ বা মেঘনাদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন। সেই সময় শনিদেব বচন দিয়েছিলেন যে, যাঁরা হনুমানজির আরাধনা করবেন, তাঁদের শনিদেব কখনও পীড়ন করবেন না। তাই শনিবারে হনুমান চালিশা পাঠ করলে শনির সাড়ে সাতি ও ঢাইয়ার প্রভাবে সৃষ্ট আর্থিক ও মানসিক কষ্ট নিমেষে কেটে যায়।
- ভয়, সংকট ও ভূত-প্রেত বাধা বিনাশ: ‘ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ’—চালিশার এই পদের মতোই যে কোনো অজানা ভয়, মানসিক আতঙ্ক, নজর দোষ ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায়।
- শারীরিক শক্তি ও দীর্ঘদিনের ব্যাধি মুক্তি: ‘নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা’—দীর্ঘদিন ধরে চলা শারীরিক যন্ত্রণা ও জটিল ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত এই চালিশা পাঠ অতুলনীয়।
- আত্মবিশ্বাস ও কাজে সফলতা: পড়ালেখা, চাকরির পরীক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এই অলৌকিক চালিশা।
জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি
জ্যোতিষীদের মতে, শনিবারে রক্তবর্ণ বা লাল বস্ত্র পরে এবং সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বেলে হনুমান চালিশা পাঠ করলে শরীরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে। ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, শনিদেবের অশুভ দশা কাটাতে কেবল শনি চালিশাই নয়, বরং হনুমান চালিশা পাঠ করা অনেক বেশি দ্রুত ফলদায়ক।
শনিবার হনুমান চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম
১. শুদ্ধতা ও পোশাক: শনিবার সকালে বা সন্ধ্যায় স্নান সেরে পরিষ্কার লাল, হলুদ বা গাঢ় রঙের পোশাক পরুন।
২. আসন ও প্রদীপ: পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে কুশের বা লাল কাপড়ের আসনে বসুন। শ্রী হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে সর্ষের তেল বা চামেলির তেলের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান।
৩. ভোগ ও অর্ঘ্য: বাজরংবলীকে সিঁদুর, লাল ফুল, তুলসী পাতা এবং গুড়-ছোলা, বুন্দিয়া বা বেসনের লাড্ডু ভোগ নিবেদন করুন।
৪. একাগ্র পাঠ: শ্রী রামচন্দ্রের নাম স্মরণ করে মন শান্ত রেখে ১, ৩, ৭ বা ১১ বার স্পষ্ট উচ্চারণে হনুমান চালিশা পাঠ করুন।
৫. আরতি: পাঠ শেষে হনুমানজির আরতি করুন এবং প্রসাদ বিতরণ করুন।
সম্পূর্ণ শ্রী হনুমান চালিশা (Bengali Script)
শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মন মুকুর সুধারি।
বরনউ রঘুবর বিমল যশ, জো দায়কু ফল চারি।।
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবনকুমার।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি, হরহু কলেশ বিকার।।
জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর। জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর।।
রামদূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনি পুত্র পবনসুত নামা।।
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী।।
কনকন বরণ বিরাজ সুবেশা। কানন কুন্ডল কুঞ্চিত কেশা।।
হাথ বজ্র ও ধ্বজা বিরাজে। কাঁধে মূঞ্জ জেনেঊ সাজে।।
শংকর সুবন কেসরীনন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন।।
বিদ্যাবান গুণী অতি চতুর। রাম কাজ করিাবে কো আতুর।।
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রাম লখন সীতা মন বসিয়া।।
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হি দিখাওয়া। বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জলাওয়া।।
ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংভারে।।
লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি ওর লায়ে।।
রঘুপতি কীन्ही বহু প্রশংসা। তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাইয়া।।
সহস বদন তুমহরো যশ গাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কন্ঠ লগাবৈ।।
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা।।
জম কুবের দিগপাল জহা তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহা তে।।
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজ পদ দীন্হা।।
তুমহরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লঙ্কেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা।।
জুগ সহস্র যোজন পর ভানু। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানু।।
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী।।
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহরে তেতে।।
রাম দুআরে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে।।
সব সুখ লহৈ তুমহারী শরনা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না।।
আপন তেজ তুমহারো আপৈ। তীনো লোক হাংক তে কাঁপৈ।।
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ।।
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা।।
সংকট তে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ।।
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা।।
ঔর মনোরথ জো কোঈ লাবৈ। সোঈ অমিত জীবন ফল পাবৈ।।
চারো যুগ প্রতাপ তুমহারা। হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।।
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকন্দন রাম দুলারে।।
অষ্ট সিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্হ জানকী মাতা।।
রাম রসায়ন তুমহরে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা।।
তুমহরে ভজন রাম কো পাবৈ। জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরা বৈ।।
অন্ত কাল রঘুবর পুর জায়ী। জহা জন্ম হরি ভক্ত কহায়ী।।
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ। হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ।।
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বলবিরা।।
জয় জয় জয় হনুমান গোসাঈ। কৃপা করো গুরু দেব কী নাই।।
জো শত বার পাঠ কর কোঈ। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ।।
জো যহ পঢ়ৈ হনুমান চালীসা। হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা।।
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা।।
পবনতনয় সংকট হরন, মঙ্গল মুরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয় বহহু সুর ভূপ।।
পবনপুত্র হনুমানজি হলেন বীরত্ব ও ভক্তির চরম প্রতীক। প্রতি শনিবারে কোনো অহংকার না রেখে কেবল ভক্তিমনে এই সম্পূর্ণ চালিশা পাঠ করলে শনির সাড়ে সাতির কষ্ট কাটে এবং সংসারে পরম শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


