শনিবার শনি চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শনিদেব হলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ দেবতা। তিনি মানুষের কর্ম অনুযায়ী শুভ বা অশুভ ফল প্রদান করেন। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে শনিদেবের আরাধনা করেন, শনিদেব তাঁর ওপর প্রসন্ন হয়ে জীবনের সমস্ত সংকট হরণ করেন।

Published on: Aug 15, 2026, 07:15:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সনাতন ধর্মে শনিবার দিনটি ন্যায়ের দেবতা ও কর্মফল দাতা শনিদেবের আরাধনার জন্য পরম পুণ্যময় ও শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত। বৈদিক জ্যোতিষ ও সনাতন ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শনিবারে শনিদেবের কৃপা লাভের জন্য ব্রত পালন এবং স্তোত্র পাঠের বিশেষ মহিমা রয়েছে। ‘শ্রী শনি চালিশা’ (Shri Shani Chalisa) হলো শনিদেবের রূপ, মাহাত্ম্য, শক্তি এবং কৃপাবারি সম্বলিত ৪০টি পদের এক ঐশ্বরিক আধ্যাত্মিক স্তোত্র।

শনিবার শনি চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
শনিবার শনি চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

প্রতি শনিবারে নিয়ম মেনে পরম ভক্তিভরে শনি চালিশা পাঠ করলে জীবনের সমস্ত মানসিক কষ্ট, বাধা-বিপত্তি, অশুভ গ্রহদশা এবং আর্থিক অনটন নিমেষে দূর হয়ে যায়। শনিবার শনি চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ শনি চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শনিদেব হলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ দেবতা। তিনি মানুষের কর্ম অনুযায়ী শুভ বা অশুভ ফল প্রদান করেন। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে শনিদেবের আরাধনা করেন, শনিদেব তাঁর ওপর প্রসন্ন হয়ে জীবনের সমস্ত সংকট হরণ করেন।

শনিবার শনি চালিশা পাঠের অশেষ উপকারিতা

প্রতি শনিবারে শ্রী শনি চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • শনির সাড়ে সাতি ও ঢাইয়ার কষ্ট প্রশমন: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, কুণ্ডলীতে শনির সাড়ে সাতি বা ঢাইয়ার প্রভাব থাকলে শনিবারে শনি চালিশা পাঠ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি শনির কোপ থেকে রক্ষা করে শান্ত ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
  • মানসিক শান্তি ও ভয় বিনাশ: অহেতুক উদ্বেগ, অজানা ভয়, অবসাদ এবং শারীরিক ব্যাধি দূর করতে শনি চালিশা নিত্য পাঠ মহৌষধের মতো কাজ করে।
  • আর্থিক উন্নতি ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য: শনিদেবের কৃপায় ব্যবসা ও চাকরির বাধা কেটে যায়, আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হয় এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরে আসে।
  • পাপক্ষয় ও সৎ পথের প্রেরণা: শনি চালিশা পাঠ করলে মন থেকে কুচিন্তা দূর হয় এবং মানুষ সৎ পথে পরিচালিত হওয়ার প্রেরণা পায়।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

জ্যোতিষীদের মতে, শনিবারে কালো বস্ত্র, সর্ষের তেল, কালো তিল, অপরাজিতা ফুল এবং কালো বিউলির ডাল নিবেদন করে শনি চালিশা পাঠ করলে সূর্যপুত্র শনিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন। ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত নিঃস্ব ও দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করেন এবং শনি চালিশা পাঠ করেন, শনিদেব তাঁকে সর্বদা সুখে-শান্তিতে রাখেন।

শনি চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: শনিবার ভোরে বা সন্ধ্যায় স্নান সেরে পরিষ্কার গাঢ় নীল বা কালো/সাদা বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঘরের ঠাকুরঘরে বা শনি মন্দিরে অশ্বত্থ (পিপল) গাছের নিচে প্রদীপ জ্বালিয়ে শনিদেবের ধ্যান করুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: সর্ষের তেলের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। শনিদেবকে কালো তিল, সর্ষের তেল, অপরাজিতা ফুল ও গুড় অর্পণ করুন।

৪. একাগ্র পাঠ: পশ্চিম দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে শনি চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে আরতি করুন এবং অশ্বত্থ গাছে জল নিবেদন করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী শনি চালিশা (Bengali Script)

জয় গণেশ গিরিজা সুবন, মঙ্গল করণ কৃপাল।

দীন দয়াল দাস হিত, হরহু দেব সনModule।।

জয় জয় শ্রী শনিদেব প্রভু, সুনহু বিনয় মহি দাস।

করহু কৃপা হে রবি সুবন, পুরভহু মোরি আস।।

জয় জয় শ্রী শনিদেব দয়াল। করত সদা ভক্তন প্রতিপাল।।

চারি ভুজ ধারি শ্য়াম শরীর। মস্তক মুকুট বিশাল গম্ভীরা।।

উর মাল বিরাজে সোজে। খড়গ ত্রিশূল গদা কর সোজে।।

কমণ্ডলু অউর ধনুষ বিরাজে। রথ পর চঢ়ি শনিদেব বিরাজে।।

সোজে অঙ্গ অঞ্জন সমান। গজ বাহন শনিদেব সুজান।।

সিংহ বাহন আরূঢ় ভবানী। শনিদেব কহত সব বিজ্ঞানী।।

জব জব দেবন পর অতি পীরা। ধায় শনিদেব হরহু সধারা।।

সূর্য সুবন তুম পরম প্রধান। মহিমা অমিত না জাত বখান।।

ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ বিরাজে। তুমরো ধ্যাৱত সব জগ রাজে।।

রাবণ অতি অভিমানী ভারী। তাকে পদ তুম দীয় উখারী।।

বিক্রমাদিত্য নৃপ অতি গুণী। তুমরো কোপ ভয়ো দুখ পুনি।।

হরিশ্চন্দ্র নৃপ পরম উদারা। তুমরে কোপ ভয়ো দুখ ধারা।।

নল নৃপ অতি ধর্মী জানী। তুমরে কোপ বনহি অकुलানী।।

শ্রী রামচন্দ্র কে কাজ সংভারে। তুমরে ডর রাবণ সসংহারে।।

জো নর তুমরো ধ্যান লাগাবৈ। সো জন পরম পদহি সো পাবৈ।।

নির্ধন জো তুমকো ধ্যাৱৈ। সো জন পূর্ণ সম্পদ পাবৈ।।

রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।

সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।

শ্রী শনি চালীসা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।

পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।

পাঠ শনি চালীসা জো করৈ, প্রাতঃ কাল চিত লাই।

কৃপা করৈ শনিদেব প্রভু, সব সংকট মিটি জাই।।

ন্যায়ের দেবতা শনিদেব হলেন করুণার সাগর। কোনো অশুভ পাপ কর্ম না করে কেবল প্রতি শনিবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই চালিশা পাঠ করলেই সংসার থেকে যাবতীয় অশুভ প্রভাব ও দুঃখ দূর হয়ে পরম সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি লাভ হয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More