রেবতী নক্ষত্রের প্রথম চরণে শনিদেবের মহা-গোচর! কৃপাদৃষ্টি বর্ষিত হবে ৩ রাশিতে, হবে বাম্পার উন্নতি ও বিপুল ধনলাভ
রেবতী হলো ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে শেষ নক্ষত্র, যার অধিপতি গ্রহ হলেন বুধ। শনি এবং বুধের মধ্যে পরম জ্যোতিষীয় মিত্রতা রয়েছে। ফলে বুধের এই শুভ নক্ষত্রে শনিদেবের প্রবেশ ৩টি বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে অভূতপূর্ব সাফল্য, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনের সূচনা করবে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা ও ন্যায়ের দেবতা হিসেবে গণ্য করা হয়। শনিদেবের গতিবিধি এবং নক্ষত্র পরিবর্তন মানবজীবন তথা সমগ্র জ্যোতিষ মণ্ডলে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলে। জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শনিদেব রেবতী নক্ষত্রের প্রথম চরণে (Revati Nakshatra 1st Stage) প্রবেশ করতে চলেছেন।

রেবতী হলো ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে শেষ নক্ষত্র, যার অধিপতি গ্রহ হলেন বুধ। শনি এবং বুধের মধ্যে পরম জ্যোতিষীয় মিত্রতা রয়েছে। ফলে বুধের এই শুভ নক্ষত্রে শনিদেবের প্রবেশ ৩টি বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে অভূতপূর্ব সাফল্য, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনের সূচনা করবে। রেবতী নক্ষত্রে শনির এই মহাসংযোগের প্রভাবে কোন কোন ৩ রাশির জীবনে সোনালী দিন আসতে চলেছে—তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. রেবতী নক্ষত্রে শনির গোচরের জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে রেবতী নক্ষত্রকে ধন-সম্পদ, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, মানসিক শান্তি এবং দূরযাত্রার নক্ষত্র হিসেবে দেখা হয়।
- শনি ও বুধের শুভ সমীকরণ: শনিদেব যখন বুধের নক্ষত্রে অবস্থান করেন, তখন শনির কাঠিন্য এবং ধীরগতি বুধের বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসায়ের বিচক্ষণতার সাথে মিশে যায়।
- কর্মফল প্রাপ্তি: যাঁদের শনি বা বুধ শুভ অবস্থানে রয়েছে, তাঁরা শনির এই নক্ষত্র গোচরের সময় নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের বহুগুণ শুভ ফল পাবেন। বিশেষ করে ব্যবসা, গবেষণা, অর্থ ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরণের লাভ হবে।
২. রেবতী নক্ষত্রে শনি গোচরে ভাগ্য উজ্জ্বল হবে যে ৩ রাশির
ক) বৃষ রাশি (Taurus): বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য রেবতী নক্ষত্রে শনিদেবের এই গোচর আয় ও লাভের স্থানকে শক্তিশালী করবে। এর ফলে আপনার আয়ের নতুন নতুন পথ খুলে যাবে। আপনি যদি পূর্বে কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে সেখান থেকে অপ্রত্যাশিত বড় ধরণের লাভজনক রিটার্ন পেতে পারেন। চাকরিজীবীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত পদে পদোন্নতির যোগ রয়েছে। শেয়ার বাজার বা রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা দ্বিগুণ মুনাফা তুলতে সক্ষম হবেন।
খ) মিথুন রাশি (Gemini): মিথুন রাশির জাতকদের জন্য শনিদেবের এই গোচর কর্মভাব বা দশম স্থানে প্রভাব বিস্তার করবে। যেহেতু মিথুন রাশির অধিপতি স্বয়ং বুধ এবং শনিদেব বুধের নক্ষত্র রেবতীতেই প্রবেশ করছেন, তাই এটি আপনার ক্যারিয়ারের জন্য এক জাদুকরী সময় নিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিদেশের সাথে যুক্ত ব্যবসায় বিপুল লাভ হবে। কর্মক্ষেত্রে বসের পাশাপাশি সহকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রজেক্ট বা সরকারি আটকে থাকা কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।
গ) মকর রাশি (Capricorn): মকর রাশির জাতকদের নিজস্ব রাশিপতি হলেন স্বয়ং শনিদেব। রেবতী নক্ষত্রের প্রথম চরণে শনির উপস্থিতি আপনার সাহস, মনোবল ও সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আর্থিক অনটন বা পারিবারিক সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে। নতুন কোনো গাড়ি, বাড়ি বা জমি কেনার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আপনার কৌশলের কাছে পরাজয় স্বীকার করবে।
৩. শনিদেবের পূর্ণ কৃপা ও আশীর্বাদ লাভের সহজ উপায়
শনির এই নক্ষত্র গোচরের সময় অতিরিক্ত শুভ ফল পেতে এবং অশুভ প্রভাব এড়াতে জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু বিশেষ প্রতিকারের উল্লেখ রয়েছে:
- শনিবার হনুমান চালিশা পাঠ: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শ্রী হনুমানজির সামনে চামেলির তেলের প্রদীপ জ্বেলে হনুমান চালিশা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।
- শনি মন্ত্র জপ: প্রতিদিন বা প্রতি শনিবার ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করুন।
- অসহায়দের সাহায্য ও দান: প্রতি শনিবার দুঃস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষদের কালো তিল, সরষের তেল বা কালো ছাতা দান করুন।
রেবতী নক্ষত্রের প্রথম চরণে শনিদেবের এই গোচর বৃষ, মিথুন ও মকর রাশির জাতকদের জন্য ভাগ্যের বন্ধ দরজাকে খুলে দেওয়ার এক অমূল্য সুযোগ। সঠিক কর্ম এবং সৎ চেষ্টার মাধ্যমে এই শুভ সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলে জীবনে সুখ ও অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


