আগামী মঙ্গলবার শনি ও বৃহস্পতির মহা-নবপঞ্চম রাজযোগ! ৩ রাশির জন্য সোনায় সোহাগা সময়, দেখে নিন কী কী পাবেন
আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শনিদেব এবং দেবগুরু বৃহস্পতি একে অপরের থেকে ১২০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে মহাকাশে পরম প্রভাবশালী ‘নবপঞ্চম রাজযোগ’ (Navpancham Rajyog) তৈরি করতে চলেছেন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে কর্মফলদাতা শনিদেব এবং ধন, প্রজ্ঞা ও ভাগ্যোন্নতির প্রতীক দেবগুরু বৃহস্পতি-কে গ্রহমণ্ডলীর সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী দুই বলশালী গ্রহ হিসেবে মান্য করা হয়। এই দুই মহাজাগতিক গ্রহের মধ্যে যখন কোনো বিশেষ কোণ বা দৃষ্টি সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন মানবজীবনে ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শনিদেব এবং দেবগুরু বৃহস্পতি একে অপরের থেকে ১২০ ডিগ্রী কোণে অবস্থান করে মহাকাশে পরম প্রভাবশালী ‘নবপঞ্চম রাজযোগ’ (Navpancham Rajyog) তৈরি করতে চলেছেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে ১২০ ডিগ্রী কোণের এই ত্রিভুজীয় অবস্থানকে অত্যন্ত পবিত্র, ভারসাম্যপূর্ণ এবং কল্যাণকর মনে করা হয়। ১ সেপ্টেম্বরের এই বিশেষ নবপঞ্চম রাজযোগের সুপ্রভাবে বিশেষ ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে আকস্মিক অর্থলাভ, বহু প্রতীক্ষিত প্রমোশন, ব্যবসায় নতুন মাইলফলক অর্জন এবং স্থায়ী সম্পদ বৃদ্ধির রাজকীয় সুযোগ আসতে চলেছে। ১ সেপ্টেম্বর শনি ও বৃহস্পতির এই মহাযোগে কোন ৩ রাশির ভাগ্যে সোনালী দিন আসবে—জেনে নিন।
১. শনি ও বৃহস্পতির নবপঞ্চম রাজযোগের বৈদিক গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির ন্যায়বিচার ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে বৃহস্পতির কৃপা ও ভাগ্যের মিলনকে স্থায়িত্ব ও উচ্চ সাফল্যের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুঘটক মনে করা হয়:
- পরিশ্রম ও ভাগ্যের সঠিক সমন্বয়: নবপঞ্চম রাজযোগ গঠিত হলে জাতকের বিগত দিনের কঠোর পরিশ্রম ব্যর্থ হয় না, বরং দেবগুরু বৃহস্পতির কৃপায় তা দ্রুত পদোন্নতি ও আর্থিক লাভে রূপান্তরিত হয়।
- স্থায়ী অর্থ ও সামাজিক সুনাম: এই যোগের প্রভাবে রিয়েল এস্টেট, ব্যাঙ্কিং, শিক্ষা, বিচার বিভাগ, আইটি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা রাতারাতি উচ্চ পদে উন্নীত হন।
২. ১ সেপ্টেম্বরের পর নবপঞ্চম রাজযোগে কপাল খুলবে যে ৩ রাশির
ক) কর্কট রাশি (Cancer): কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য শনি ও বৃহস্পতির এই নবপঞ্চম রাজযোগ পরম বরদানস্বরূপ। আপনার ভাগ্যস্থান ও আয়ভাব রাজকীয় শক্তিতে বলীয়ান হবে। কাজের জায়গায় আপনার সুচিন্তিত ভাবনার প্রশংসা করবেন বস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধির সুসংবাদ মিলতে পারে। ব্যবসায়ীরা নতুন বড় চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
খ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতকদের জন্য এই রাজযোগ লগ্ন ও পঞ্চম ভাব স্পর্শ করে বিদ্যার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জীবনে দারুণ ইতিবাচক মোড় নিয়ে আসবে। আপনার ব্যক্তিত্বে এক অভূতপূর্ব তেজ ও আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠবে। পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি বিবাদে আপনার জয় হতে পারে। যৌথ ব্যবসায় নতুন পার্টনারশিপের লাভজনক সুযোগ তৈরি হবে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে।
গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই রাজযোগ আর্থিক দিক দিয়ে সেরা ফল প্রদান করবে। আপনি যদি শেয়ার বাজার, প্রপার্টি বা রিয়েল এস্টেটের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে ১ সেপ্টেম্বরের পর সুচিন্তিত বড় বিনিয়োগ থেকে বাম্পার রিটার্ন হাতে আসতে পারে। অফিসে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আপনার প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করবে। দূরবর্তী বা বৈদেশিক ভ্রমণের মাধ্যমে ভালো উপার্জনের যোগ স্পষ্ট।
৩. শনি ও দেবগুরু বৃহস্পতির পূর্ণ কৃপা লাভের সহজ প্রতিকার
নবপঞ্চম রাজযোগের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং গ্রহরাজদের আশীর্বাদ বজায় রাখতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করতে পারেন:
- শ্রী হরি বিষ্ণু ও শনিদেবের আরাধনা: প্রতি বৃহস্পতিবারে দেবগুরু বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে ছোলার ডাল ও হলুদ মিষ্টি অর্পণ করুন এবং শনিবারে শনি মন্দিরে সর্ষের তেলের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করুন।
- মন্ত্র জপ: প্রতিদিন ‘ওঁ ব্রং বৃহস্পতয়ে নমঃ’ এবং ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করলে মানসিক স্থিরতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- দান-ধ্যান: দুঃস্থ বা অসহায় মানুষদের ছোলার ডাল, কালো তিল, সর্ষের তেল বা হলুদ রঙের বস্ত্র দান করা অত্যন্ত কল্যাণকর।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ গঠিত শনি ও বৃহস্পতির এই ‘নবপঞ্চম রাজযোগ’ কর্কট, মীন ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে উন্নতির এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসছে। সঠিক লক্ষ্য, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সাথে সুযোগগুলো কাজে লাগালে জীবনে স্থায়ী সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


