Shani Gochar: শনিদেবের নজরে ৩ রাশি! আগামী কিছু মাস পদে পদে সতর্ক থাকতে হবে, বাড়বে বহু চাপ
শনিদেব রাশি পরিবর্তন করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করতে চলেছেন। চূড়ান্ত গোচরের আগে পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জন্য বিশেষ সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জের হতে চলেছে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা ও বিচারের দেবতা বলা হয়ে থাকে। শনিদেব অত্যন্ত ধীর গতিতে এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে সঞ্চার করেন এবং প্রায় আড়াই বছর একটি রাশিতে অবস্থান করেন। শনিদেবের এই ঢাইয়া, সাড়ে সাতি কিংবা রাশিতে স্থান পরিবর্তন বা গোচর মানবজীবনের অর্থ, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা ও বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালে শনিদেব রাশি পরিবর্তন করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করতে চলেছেন। কিন্তু ২০২৭ সালে মেষ রাশিতে শনির চূড়ান্ত গোচরের আগে পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জন্য বিশেষ সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জের হতে চলেছে। এই সময়ে মানসিক চাপ, কর্মক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত বাধা, পারিবারিক কলহ এবং আকস্মিক খরচ বৃদ্ধির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ২০২৭ পর্যন্ত শনির এই বিশেষ প্রভাবকালে কোন ৩ রাশিকে পদে পদে সাবধানে চলতে হবে এবং কী কী প্রতিকার মেনে চলা দরকার—জেনে নিন।
২০২৭-এ শনির মেষ গোচর পর্যন্ত যে ৩ রাশিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে
ক) সিংহ রাশি (Leo): সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়টি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষা নিয়ে আসতে পারে। চাকুরিজীবীদের কর্মক্ষেত্রে কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং সহকর্মীদের সাথে অনভিপ্রেত মতবিরোধ এড়িয়ে চলা দরকার। কর্মক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে চোখ-কান খোলা রাখা জরুরি; বড় বিনিয়োগ বা কাউকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
খ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময়কাল স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনের দিক থেকে বেশ সংবেদনশীল হতে পারে। দীর্ঘদিনের পুরোনো কোনো শারীরিক সমস্যা বা মানসিক উদ্বেগ পুনরায় দেখা দিতে পারে। গাড়ি চালানো বা দূরবর্তী ভ্রমণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। আর্থিক ক্ষেত্রে অনাবশ্যক বা হঠকারী খরচ আপনার জমানো সঞ্চয়ে টান ফেলতে পারে, তাই বাজেট মেনে চলাই শ্রেয়।
গ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর শনির ঢাইয়া ও বিশেষ প্রভাবের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। পার্টনারশিপ ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নথিপত্রে সই করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আয়ের উৎস সচল থাকলেও আয়ের চেয়ে খরচের মাত্রা বেশি হওয়ার যোগ রয়েছে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এই সময়ে যেসব বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়ানো: শেয়ার বাজার, ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ক্রিপ্টো বা ফটকা ব্যবসায় বড় অঙ্কের টাকা খাটানো থেকে বিরত থাকুন।
- কথা বলা ও ব্যবহারে সংযম: শনিদেবের অশুভ বা কঠিন দশা চলার সময় অহংকার এড়িয়ে চলা এবং কর্মক্ষেত্রে ও পরিবারে নম্র ভাব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- আইনি বা প্রপার্টি বিবাদ এড়ানো: জমি-জমা বা আইনি বিষয়ে কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে এগোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
শনিদেবের কষ্ট দূর করতে ও শুভ ফল পেতে সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
শনির গোচরকালের অশুভ প্রভাব কাটাতে এবং শনিদেবের আশীর্বাদ পেতে কিছু সহজ ও কার্যকরী শাস্ত্রীয় প্রতিকার মেনে চলতে পারেন:
- শনিবারে প্রদীপ প্রজ্বলন: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং ওয়ান-ওয়ে পরিক্রমা করুন।
- শনি চালিসা ও বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন বা বিশেষ করে শনিবারে নিষ্ঠার সাথে 'ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ এবং শনি চালিসা পাঠ করা অত্যন্ত কল্যাণকর।
- কালো তিল ও সর্ষের তেল দান: শনিবার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষকে কালো তিল, কম্বল, ছাতা, চামড়ার জুতো বা সর্ষের তেল দান করলে শনিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
- হনুমান জির আরাধনা: শনিদেবের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো হনুমান জির পুজো। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবারে হনুমান চালিসা বা সুন্দরকান্ড পাঠ করুন।
২০২৭ সালে শনিদেবের মেষ রাশিতে গোচরের সময় পর্যন্ত সিংহ, বৃশ্চিক ও মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এটি ধৈর্য, সংযম ও সুচিন্তিত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার সময়। বৈদিক নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সততা, পরিশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিকার বজায় রাখলে শনিদেবের কঠিন প্রভাবেও জীবনে শুভ ফল লাভ করা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


