সিদ্ধি যোগের মহালগ্নে মহাদেবের আশীর্বাদ! ভাগ্য ফেরাতে শনি প্রদোষ ব্রতে কীভাবে পুজো করবেন
২০২৬ সালের ফাল্গুন মাসের এই বিশেষ শনি প্রদোষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দিনটিতে 'সিদ্ধি যোগ'-এর এক দুর্লভ সংযোগ তৈরি হচ্ছে।
সনাতন ধর্মে প্রদোষ ব্রতকে দেবাদিদেব মহাদেবের পরম প্রিয় তিথি বলে মনে করা হয়। যখন ত্রয়োদশী তিথি শনিবার দিনে পড়ে, তখন তাকে বলা হয় 'শনি প্রদোষ'। ২০২৬ সালের ফাল্গুন মাসের এই বিশেষ শনি প্রদোষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দিনটিতে 'সিদ্ধি যোগ'-এর এক দুর্লভ সংযোগ তৈরি হচ্ছে।

শাস্ত্র মতে, শনি প্রদোষ ব্রত পালন করলে কেবল মহাদেব নন, বরং কর্মফল দাতা শনিদেবেরও বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়। যাদের জীবনে শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়া চলছে, তাদের জন্য এই দিনটি আশীর্বাদের মতো।
শনি প্রদোষ ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহূর্ত
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি অর্থাৎ শনি প্রদোষ পালিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার।
- ত্রয়োদশী তিথি শুরু: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - রাত ০৯:১০ মিনিটে।
- ত্রয়োদশী তিথি সমাপ্ত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - রাত ০৮:০১ মিনিটে।
- প্রদোষ পুজো মুহূর্ত: ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ০৬:১০ মিনিট থেকে রাত ০৮:০১ মিনিট পর্যন্ত।
সিদ্ধি যোগের বিশেষ গুরুত্ব
২০২৬ সালের এই শনি প্রদোষে 'সিদ্ধি যোগ' তৈরি হচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই যোগে করা যেকোনো ধর্মীয় কাজ বা নতুন উদ্যোগ দ্রুত সফল হয়। এই সময়ে শিবের আরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং কাজে আসা দীর্ঘদিনের বাধা দূর হয়।
শনি প্রদোষে শিব ও শনি আরাধনার সুফল
১. শনির দশা থেকে মুক্তি: শনিদেব ভগবান শিবকে নিজের গুরু মানেন। তাই এই দিনে শিবের পূজা করলে শনিদেব প্রসন্ন হন এবং সাড়ে সাতির কষ্ট লাঘব করেন।
২. সন্তান সুখ ও সমৃদ্ধি: এই ব্রত পালনে বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
৩. পাপ ক্ষালন: বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে শনি প্রদোষ ব্রত কথা শুনলে বা পাঠ করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পুজোর সঠিক নিয়ম
- এদিন সকালে স্নান সেরে শিব মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করুন।
- প্রদোষ কালে অর্থাৎ সূর্যাস্তের সময় মহাদেবকে বেলপাতা, ধুতুরা এবং গঙ্গাজল অর্পণ করুন।
- শনিদেবের কুপ্রভাব কাটাতে অশ্বত্থ গাছের নিচে সরষের তেলের প্রদীপ জ্বালান।
- 'ওঁ নমঃ শিবায়' এবং শনি মন্ত্র জপ করা এই দিনে অত্যন্ত ফলদায়ক।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


