৩ রাশির ওপর শনিদেবের কড়া নজর! রেবতী নক্ষত্রে অবস্থান ও বক্রি চালের কারণে আগামী ৪০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে গ্রহরাজ শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন এবং গত ২০ আগস্ট থেকে বুদ্ধির কারক গ্রহ বুধের স্বক্ষেত্র রেবতী নক্ষত্রে (Revati Nakshatra) গোচর করছেন। এই রেবতী নক্ষত্রে শনিদেব আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অবস্থান করবেন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা, বিচারক এবং সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। শনিদেবের ধীর গতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের ফলে জাতকদের জীবনে যে বিশেষ প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত হলো ‘শনির সাড়ে সাতি’ (Shani Sade Sati)।

বর্তমানে গ্রহরাজ শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন এবং গত ২০ আগস্ট থেকে বুদ্ধির কারক গ্রহ বুধের স্বক্ষেত্র রেবতী নক্ষত্রে (Revati Nakshatra) গোচর করছেন। এই রেবতী নক্ষত্রে শনিদেব আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এর পাশাপাশি শনিদেবের বক্রি (উল্টো) চলন চলমান থাকায় আগামী প্রায় ৪০ দিনের সময়কাল সাড়ে সাতির কবলে থাকা বিশেষ ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অত্যন্ত সতর্কতামূলক ও নির্ণায়ক হতে চলেছে। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত শনিদেবের এই কড়া নজরে কোন ৩ রাশি রয়েছে, কার জীবনে কী প্রভাব পড়বে এবং কী কী করণীয়—জেনে নিন।
১. রেবতী নক্ষত্রে শনি ও বক্রি চালের জ্যোতিষীয় গুরুত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির কঠোর শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সাথে বুধের রেবতী নক্ষত্রের মেলবন্ধন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ:
- বুদ্ধি ও কাগজের কাজের পরীক্ষা: বুধ হলেন বুদ্ধি, লেনদেন, বাচনিক তেজ এবং নথিপত্রের কারক গ্রহ। শনিদেব বুধের রেবতী নক্ষত্রে অবস্থান করার ফলে সাড়ে সাতি চলা জাতকদের নথিপত্র, চুক্তিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সজাগ থাকতে হবে।
- বক্রি শনির প্রভাব: বক্রি শনিদেব অতীত বা পুরনো মুলতুবি কাজের ওপর বেশি নজর দিতে বাধ্য করেন। ফলে বিগত দিনে নেওয়া কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা অসম্পূর্ণ কাজ এই সময় সামনে এসে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
২. ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে সাতির কবলে থাকা ৩ রাশির বিশেষ পর্যবেক্ষণ
ক) মেষ রাশি (Aries) - প্রথম ধাপ (আরোহী ঢৈয়া): মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা বর্তমানে শনির সাড়ে সাতির প্রথম ধাপে রয়েছেন। ১২তম ভাবে শনির অবস্থানের কারণে আগামী ৪০ দিন হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। চাকরি বা ব্যবসায় তাড়াহুড়ো করে চুক্তি সই করা বা বড় বিনিয়োগ করা একদমই উচিত হবে না। তবে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাঁদের ধৈর্য ও সততা এই সময় ব্যর্থ হবে না; আটকে থাকা কাজ ধীরে ধীরে গতি পাবে।
খ) মীন রাশি (Pisces) - মধ্য ধাপ (উচ্চ ও কঠিন সময়): মীন রাশির জাতকদের জন্য সাড়ে সাতির সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম ধাপ চলছে, কারণ শনিদেব স্বয়ং মীন রাশিতেই বিচরণ করছেন। আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত আপনার ওপর কাজের মানসিক চাপ ও দায়িত্ব বহুগুণ বাড়বে। যেকোনো পারিবারিক বা আর্থিক সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আপনাকেই বহন করতে হবে। আবেগপ্রবণ হয়ে চাকরি বদলানো বা ব্যবসায়িক পার্টনারশিপে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
গ) কুম্ভ রাশি (Aquarius) - শেষ ধাপ (অবরোহী ঢৈয়া): কুম্ভ রাশির জাতকরা সাড়ে সাতির শেষ অর্থাৎ তৃতীয় ধাপে রয়েছেন। আগামী ৪০ দিনের মধ্যে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া জটিলতা ও সমস্যাগুলো গুটিয়ে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ মিলবে। আর্থিক ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আসলেও অসাবধানতার কারণে ক্ষতি হতে পারে। কাজ ও পরিবারের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চললে ভালো ফল মিলবে।
৩. শনিদেবের কৃপা পেতে ও অশুভ প্রভাব কমাতে সহজ প্রতিকার
আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব কাটাতে এই সহজ শাস্ত্রীয় নিয়মগুলো পালন করতে পারেন:
- সর্ষের তেলের প্রদীপ ও ছায়াদান: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান। সর্ষের তেলে নিজের মুখ দেখে তা দান করা অত্যন্ত ফলদায়ী।
- শ্রী হনুমান চালিশা পাঠ: প্রতিদিন বা প্রতি শনিবার নিষ্ঠার সাথে হনুমান চালিশা বা সুন্দরকাণ্ড পাঠ করুন, কারণ হনুমান ভক্তদের শনিদেব কষ্ট দেন না।
- শনির বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন রাতে ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করলে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৯ অক্টোবর পর্যন্ত শনিদেবের রেবতী নক্ষত্রে অবস্থান মেষ, মীন ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কর্ম, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের এক বড় পরীক্ষা। ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য ও সততার সাথে পরিস্থিতি সামলালে এই ৪০ দিনের কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠাও সহজ হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


