আগামী বছরে কোন কোন রাশির ওপর শুরু হবে শনির সাড়ে সাতি? এখন থেকে জেনে নিন কেমন প্রভাব পড়বে জীবনে
২০২৭ সালে শনিদেবের রাশি পরিবর্তনের ফলে বেশ কিছু রাশির ভাগ্য ও জীবনে বিরাট পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। শনিদেব মীন রাশি থেকে বেরিয়ে মেষ রাশিতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই কয়েকটি বিশেষ রাশির ওপর সাড়ে সাতির নতুন পর্যায় শুরু হবে, আবার কিছু রাশি শনির প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা, বিচারক এবং সবচেয়ে ধীরগতির গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্যোতিষ মতে, শনিদেব সাড়ে সাত বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট রাশির ওপর প্রভাব ফেলেন, যাকে জ্যোতিষের ভাষায় 'শনির সাড়ে সাতি' (Shani Sade Sati) বলা হয়। শনিদেব এক একটি রাশিতে প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করেন। তাই যখন শনিদেব রাশি পরিবর্তন করেন, তখন কিছু রাশির ওপর থেকে সাড়ে সাতির প্রভাব শেষ হয়, আবার নতুন কিছু রাশির ওপর তা শুরু হয়।

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে শনিদেবের রাশি পরিবর্তনের ফলে বেশ কিছু রাশির ভাগ্য ও জীবনে বিরাট পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। শনিদেব মীন রাশি থেকে বেরিয়ে মেষ রাশিতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই কয়েকটি বিশেষ রাশির ওপর সাড়ে সাতির নতুন পর্যায় শুরু হবে, আবার কিছু রাশি শনির প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবে। ২০২৭ সালে শনির সাড়ে সাতির মুখে পড়তে চলা রাশিগুলো কী কী এবং মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেমন পড়বে—জেনে নিন।
২০২৭ সালে শনির রাশি পরিবর্তন ও সাড়ে সাতির নতুন সমীকরণ
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির গতিবিধি অত্যন্ত ধীর হওয়ার কারণে এর সাড়ে সাতির প্রভাব জাতকের জীবনে গভীর ও শিক্ষণীয় রূপান্তর আনে:
- সাড়ে সাতির ৩টি পর্যায়: সাড়ে সাতির প্রথম আড়াই বছর মানসিক অস্থিরতা ও অতিরিক্ত খরচ বাড়ায়, দ্বিতীয় আড়াই বছর আর্থিক ও কেরিয়ারের কঠিন পরীক্ষা নেয়, এবং শেষ আড়াই বছর মানসিক ও শারীরিক স্থিতিশীলতা ফেরায়।
- ২০২৭ সালে শনির সাড়ে সাতির স্থিতি: ২০২৭ সালে শনিদেব মেষ রাশিতে প্রবেশ করার ফলে কুম্ভ, মীন এবং মেষ—এই ৩টি রাশির ওপর শনির সাড়ে সাতির প্রভাব সচল থাকবে। এর মধ্যে মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর সাড়ে সাতির প্রথম পর্ব, মীন রাশির ওপর দ্বিতীয় পর্ব এবং কুম্ভ রাশির ওপর শেষ বা তৃতীয় পর্ব চলবে। অন্যদিকে, মকর রাশির জাতক-জাতিকারা সাড়ে সাতির প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাবেন।
যে ৩ রাশির ওপর প্রভাব ফেলবে ২০২৭-এর শনির সাড়ে সাতি
ক) মেষ রাশি (Aries): ২০২৭ সালে মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর শনির সাড়ে সাতির প্রথম ধাপ শুরু হবে। এর ফলে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মানসিক চঞ্চলতা দেখা দিতে পারে। অনাবশ্যক খরচ নিয়ন্ত্রণ না করলে আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। তবে ধৈর্য ধরে সততার সাথে কাজ করলে শনিদেব শুভ ফল প্রদান করবেন।
খ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ২০২৭ সালে সাড়ে সাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায় চলবে। শনিদেবে নিজ রাশির ওপর প্রভাব ফেলার কারণে কেরিয়ার ও ব্যবসায় কঠোর পরিশ্রমের পর সাফল্য আসবে। আর্থিক লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা আবশ্যক। পরিবারে গুরুজনদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
গ) কুম্ভ রাশি (Aquarius): কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সাড়ে সাতির শেষ বা তৃতীয় পর্ব চলবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মানসিক চাপ ও বাধা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরতে শুরু করবে। কাজের সূত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং সাড়ে সাতির অবসানলগ্নে শনিদেব শুভ অভিজ্ঞতা উপহার দেবেন।
সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব কাটাতে বিশেষ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
শনির সাড়ে সাতির সময় ভয় না পেয়ে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করলে শনিদেবের কোপ শান্ত হয় এবং শুভ আশীর্বাদ লাভ করা যায়:
- শনিবার সর্ষের তেলের প্রদীপ: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং শনি মন্দিরে সর্ষের তেল ও কালো তিল নিবেদন করুন।
- শনি চালিসা ও মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় 'ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করুন অথবা শনি চালিসা পাঠ করুন।
- দুঃস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাহায্য: অনাথ, অসহায়, দুঃস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কালো কম্বল, সর্ষের তেল, চামড়ার জুতো বা অন্ন দান করলে শনিদেব পরম প্রসন্ন হন।
- মহাদেব ও শ্রী হনুমানের আরাধনা: শনিদেব পরম শিবভক্ত ও হনুমানভক্ত। নিয়মিত হনুমান চালিসা পাঠ করলে সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব স্পর্শ করতে পারে না।
২০২৭ সালে শনির সাড়ে সাতি কুম্ভ, মীন ও মেষ রাশির জীবনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ আনলেও, শনিদেব মূলত কর্মফল অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান করেন। অসৎ পথ এড়িয়ে, পরিশ্রম ও ধৈর্যের সাথে সৎ পথে চললে এবং জ্যোতিষীয় প্রতিকার মেনে চললে এই সময়টিকে সফলতায় রূপান্তরিত করা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


