শনিদেবের রাগ নিয়ে চিন্তায়, শনিবারে এই কাজগুলি করলেই সাড়ে সাতির প্রভাব কমবে
শনিদেবের 'সাড়ে সাতি' মানেই যে শুধু দুর্যোগ, তা কিন্তু নয়; এটি আসলে আত্মশুদ্ধি এবং শৃঙ্খলার সময়। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, শনিদেব হলেন কর্মফলদাতা—যিনি কর্ম অনুযায়ী ফল দান করেন।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে নিয়ে ভীতি অলীক নয়, তবে সঠিক জ্ঞান থাকলে এই ভীতিকে ভক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। শনিদেবের 'সাড়ে সাতি' মানেই যে শুধু দুর্যোগ, তা কিন্তু নয়; এটি আসলে আত্মশুদ্ধি এবং শৃঙ্খলার সময়। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, শনিদেব হলেন কর্মফলদাতা—যিনি কর্ম অনুযায়ী ফল দান করেন। যদি আপনি সাড়ে সাতির প্রভাবে মানসিক বা শারীরিক উদ্বেগে থাকেন, তবে শনিবারের কিছু বিশেষ নিয়ম আপনার কষ্টের তীব্রতা অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।

শনিদেবের সাড়ে সাতির প্রভাব লাঘব করার শাস্ত্রীয় উপায় জেনে নিন।
শনির সাড়ে সাতি: ভয়ের বদলে ভক্তি ও ধৈর্যই পথ
শনিদেব যখন কোনো রাশির দ্বাদশ, প্রথম এবং দ্বিতীয় ঘরে অবস্থান করেন, তখন সেই সাড়ে সাত বছরের সময়কালকে 'সাড়ে সাতি' বলা হয়। এই সময়ে শনিদেব মানুষকে ধৈর্য এবং পরিশ্রমের পাঠ শেখান। শাস্ত্র বলছে, নিচের কাজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে করলে শনিদেবের কুনজর থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
১. শনিবার পিপল (অশ্বত্থ) গাছের পূজা
শনিবার সূর্যাস্তের পর অশ্বত্থ গাছের নিচে সরিষার তেলের প্রদীপ (দিয়া) জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কথিত আছে, অশ্বত্থ গাছে শনিদেবের অধিষ্ঠান থাকে। প্রদীপ জ্বালানোর সময় মনে মনে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে শনির দশা লাঘব হয়।
২. হনুমান চালিসা পাঠ
পুরাণ অনুযায়ী, শনিদেব পবনপুত্র হনুমানকে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁর ভক্তদের ওপর শনি কখনও অশুভ প্রভাব ফেলবেন না। তাই সাড়ে সাতির প্রকোপ থেকে বাঁচতে প্রতি শনিবার (এবং মঙ্গলবার) হনুমান চালিসা পাঠ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
৩. সেবামূলক কাজ ও দান (Karma and Charity)
শনিদেব শ্রমজীবী মানুষ এবং অসহায়দের প্রতিনিধি। তাই অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করলে শনিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
- কী দান করবেন: কালো তিল, কালো মাসকলাই ডাল, সরিষার তেল বা লোহার সামগ্রী কোনো দুস্থ ব্যক্তিকে দান করুন।
- পশুপাখির সেবা: কালো কুকুর বা কালো কাককে খাবার দিলে শনির অশুভ দৃষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৪. শনি মন্ত্র জপ
শনিবার সন্ধ্যায় নির্জনে বসে শনিদেবের বীজ মন্ত্র জপ করুন।
- মন্ত্র: "ওঁ প্রাং প্রিঁ প্রৌঁ সঃ শনিশ্চরায় নমঃ" অথবা সহজ মন্ত্র "ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ" ১০৮ বার জপ করলে মানসিক শান্তি ফেরে।
৫. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
শনিদেব শৃঙ্খলা পছন্দ করেন। তাই সাড়ে সাতি চলাকালীন মিথ্যে কথা বলা, অন্যকে ঠকানো বা মদ্যপান ও আমিষ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কর্মক্ষেত্রে অধস্তন কর্মচারী বা শ্রমিকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে শনিদেবের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
শেষ কথা
সাড়ে সাতি মানেই ধ্বংস নয়, বরং এটি আপনার চরিত্রের দৃঢ়তা পরীক্ষার সময়। আপনি যদি সৎ পথে চলেন এবং শনিবারের এই শাস্ত্রীয় নিয়মগুলো ভক্তিভরে পালন করেন, তবে শনিদেব আপনাকে কঠোর দণ্ডের বদলে রাজকীয় সাফল্যও দিতে পারেন। মনে রাখবেন, শনিদেব নিষ্ঠুর নন, তিনি কেবল ন্যায়ের বিচারক।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


