সূর্যগ্রহণ ১২ অগস্ট! জানুন গ্রহণের সঠিক সময়সূচী এবং ১২টি রাশির ওপর এর জ্যোতিষীয় প্রভাব
জ্যোতিষ মতে, সূর্য হলেন আত্মার কারক, পিতা, মান-সম্মান এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতীক। তাই সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যালোকের ওপর প্রভাব পড়লে মানসিকভাবে অস্থিরতা এবং সিদ্ধান্তহীনতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র এবং মহাজাগতিক বিজ্ঞানে ‘সূর্যগ্রহণ’ (Solar Eclipse)-কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈদিক মত অনুযায়ী, সূর্যালোক যখন ছায়া গ্রহ দ্বারা আবৃত হয়, তখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শক্তি তথা প্রতিটি মানুষের ওপর এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে কুণ্ডলীতে গ্রহের অবস্থান, মানসিক সুস্থতা, শরীর ও আর্থিক পরিস্থিতিতে সূর্যগ্রহণের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বছরের অন্যতম প্রধান ও অলৌকিক সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হতে চলেছে। এই সূর্যগ্রহণের সূতক কাল, গ্রহণ লাগার সুনির্দিষ্ট সময় এবং সমস্ত ১২টি রাশির ওপর এর জ্যোতিষীয় প্রভাব নিয়ে একটি বিস্তারিত বর্ণনা নিচে তুলে ধরা হলো।
জ্যোতিষ মতে, সূর্য হলেন আত্মার কারক, পিতা, মান-সম্মান এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতীক। তাই সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যালোকের ওপর প্রভাব পড়লে মানসিকভাবে অস্থিরতা এবং সিদ্ধান্তহীনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সঠিক সতর্কতা মেনে চললে এই গ্রহীয় দশাকে সহজভাবে সামলে নেওয়া সম্ভব।
সূর্যগ্রহণের তারিখ ও সঠিক সময়সূচী
আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই সূর্যগ্রহণ হবে।
- গ্রহণ শুরুর সময়: ভারতীয় সময় অনুযায়ী ১২ আগস্ট বিকেলে/সন্ধ্যায় সূর্যগ্রহণ শুরু হতে চলেছে।
- সূতক কালের নিয়ম: শাস্ত্র মতে, সূর্যগ্রহণের সূতক কাল (Sutak Kaal) গ্রহণ শুরুর ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। তবে ভারতে যদি গ্রহণ দৃশ্যমান না হয়, তবে ধর্মানুষ্ঠানে সূতক কালের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জ্যোতিষীরা জানিয়েছেন।
১২টি রাশির ওপর সূর্যগ্রহণের জ্যোতিষীয় প্রভাব
গ্রহের এই মহাজাগতিক আন্দোলনের ফলে বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরণের প্রভাবই দেখা যাবে:
- শুভ ফল প্রাপ্ত রাশি (মেষ, সিংহ, ধনু): এই গ্রহণের প্রভাবে মেষ, সিংহ ও ধনু রাশির জাতক-জাতিকারা আকস্মিক ভালো খবর পেতে পারেন। আটকে থাকা কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। চাকরির সূত্রে নতুন যোগাযোগ বা পদোন্নতির যোগ তৈরি হতে পারে।
- সতর্ক থাকতে হবে যেসব রাশিকে (বৃষ, কন্যা, মকর): বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির জাতকদের আর্থিক বিষয়ে লেনদেনে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। অপ্রয়োজনীয় আইনি ঝামেলা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- মিশ্র প্রভাবযুক্ত রাশি (মিথুন, কর্কট, তুলা, বৃশ্চিক, কুম্ভ, মীন): এই রাশির জাতকদের আবেগ ও আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সাথে অহেতুক বিবাদে না জড়িয়ে নিজের কাজে মন দেওয়াই শ্রেয় হবে।
সূর্যগ্রহণের সময় কী করবেন এবং কী করবেন না?
গ্রহণকালীন সময়ে অশুভ প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে শাস্ত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. গ্রহণের সময় করণীয়: গ্রহণের পুরো সময়জুড়ে ধ্যাণে বসা, ইষ্টদেবের জপ করা বা 'ওঁ সূর্যোয় নমঃ' এবং গায়েত্রী মন্ত্র পাঠ করা অত্যন্ত শুভ। গ্রহণ শেষ হলে স্নান সেরে দান-ধ্যান করা উচিত।
২. যা করা নিষেধ: গ্রহণের সময় কোনো নতুন কাজের শুভ সূচনা বা বড় আর্থিক চুক্তি এড়িয়ে চলা ভালো। এ ছাড়া গর্ভবতী নারীদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং ধারালো বস্তু ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণ প্রাকৃতিক ও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। তবে আতঙ্কিত না হয়ে মন্ত্র জপ, ঈশ্বর ভক্তি এবং শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চললে এই সূর্যগ্রহণের সমস্ত অশুভ প্রভাব কাটিয়ে জীবনকে ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


