সিংহে সূর্য-কেতুর বিপজ্জনক যুতি! চরম বিপদের মুখে ৪ রাশি, জানুন অমঙ্গল কাটানোর জ্যোতিষীয় উপায়
সিংহ রাশিতে সূর্য ও কেতুর এই যৌথ অবস্থান বেশ কিছু রাশির জন্য অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহের রাজা সূর্য এবং ছায়া গ্রহ কেতুর মধ্যে সংযোগ বা যুতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সংঘাতপূর্ণ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যকে আত্মা, পিতা, আত্মবিশ্বাস, মান-সম্মান ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারক গ্রহ বলে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, কেতু হলো মুক্তি, বৈরাগ্য, বিভ্রান্তি ও আকস্মিক দুর্ঘটনার গ্রহ। যখন স্বরাশি সিংহ রাশিতে সূর্য ও কেতু একত্রিত হয়, তখন তৈরি হয় ‘গ্রহণ দোষ’ (Grahan Dosha)।

সিংহ রাশিতে সূর্য ও কেতুর এই যৌথ অবস্থান বেশ কিছু রাশির জন্য অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্র, আর্থিক দিক ও স্বাস্থ্যে চরম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কোন ৪টি রাশির ওপর এই জ্যোতিষীয় সংযোগের কুপ্রভাব পড়তে পারে এবং এর প্রতিকার কী, জেনে নিন।
১. সিংহ রাশিতে সূর্য-কেতু যুতি: বিপদের মুখে যে ৪টি রাশি
ক) সিংহ রাশি (Leo):
সিংহ রাশি হলো সূর্যের নিজস্ব রাশি এবং এই রাশিতেই সূর্য ও কেতুর মিলন ঘটছে। ফলে সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর এই যুতির সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে।
- শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি: অহংকার বা রাগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন। স্বাস্থ্যের দিক থেকে রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা চোখের কষ্টে ভুগতে হতে পারে। অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অযথা বিবাদে জড়াবেন না।
- প্রতিকার: প্রতিদিন সকালে উদীয়মান সূর্যদেবকে তামার পাত্রে জল অর্পণ করুন এবং আদিত্য হৃদয় স্তোত্র পাঠ করুন।
খ) কর্কট রাশি (Cancer):
কর্কট রাশির জাতকদের জন্য সূর্য-কেতুর এই যুতি দ্বিতীয় অর্থাৎ ধন ও বাণী ভাবকে প্রভাবিত করবে।
- আর্থিক সংকট ও বাণীর কটুতা: কথাবার্তায় কঠোরতা আসার কারণে পরিবারে অনাবশ্যক বিবাদ বা দূরত্বের সৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। সঞ্চিত অর্থ হঠাৎ কোনো কাজে খরচ হয়ে যেতে পারে।
- প্রতিকার: মঙ্গলবার বা রবিবারে পথকুকুরকে রুটি বা দুধ খাওয়ান এবং 'ওঁ কেতবে নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।
গ) কুম্ভ রাশি (Aquarius):
কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের সপ্তম ভাবে (দাম্পত্য ও অংশীদারিত্ব ভাব) এই সূর্য-কেতু যুতি তৈরি হচ্ছে।
- সম্পর্ক ও ব্যবসার মন্দা: বিবাহিত জীবনে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা তিক্ততা দেখা দিতে পারে। অংশীদারিত্বের ব্যবসায় সঙ্গীর সাথে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখুন, নতুবা মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।
- প্রতিকার: শনিবার ও রবিবারে কাঁচা দুধ ও জল শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন এবং শিব উপাসনা করুন।
ঘ) মকর রাশি (Capricorn):
মকর রাশির অষ্টম ভাব অর্থাৎ দুর্ঘটনা, হঠাৎ বাধা ও গুপ্ত শত্রুর ঘরে সূর্য ও কেতুর এই গ্রহ-সংযোগ ঘটছে।
- দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রে বাধা: গাড়ি চালানো বা ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলতে হবে। কর্মক্ষেত্রে গুপ্ত শত্রুরা আপনার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে পারে বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করতে পারে। হঠাৎ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- প্রতিকার: অনাথ বা দুস্থ মানুষকে কম্বল বা তিলের তৈরি মিষ্টি দান করুন।
২. সূর্য-কেতু যুতির কুপ্রভাব কাটাতে সর্বজনীন কিছু নির্দেশাবলী
- অভিমান ও অহংকার ত্যাগ: এই যুতির সময় মানুষের মধ্যে অনাবশ্যক জেদ বা রাগ তৈরি হয়। নিজেকে শান্ত রাখা এবং নম্র আচরণ করাই সবচেয়ে বড় প্রতিকার।
- বিষ্ণু ও সূর্য উপাসনা: সূর্যদেবের গায়ত্রী মন্ত্র এবং ভগবান শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করলে গ্রহের অশুভ তেজ প্রশমিত হয়।
- শুভ কাজ এড়িয়ে চলা: সূর্য-কেতুর গ্রহণের সময়কালে বড় কোনো জমি-বাড়ি কেনাবেচা বা নতুন ব্যবসা শুরু করা থেকে বিরত থাকা ভালো।
গ্রহের অবস্থান সাময়িক অস্থিরতা নিয়ে এলেও ভয় না পেয়ে সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চললে সূর্য-কেতুর এই কঠিন জ্যোতিষীয় যোগের প্রতিকূল প্রভাব কাটিয়ে শান্তিময় জীবন বজায় রাখা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


