Mahabharata unseen facts: সত্যি কি অর্জুনের চেয়েও বড় বীর ছিলেন কর্ণ? জানুন মহাভারতের সবচেয়ে সাহসী যোদ্ধার অজানা কথা
Karna Arjuna rivalry stories: কর্ণের জীবন ছিল সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির। অর্জুনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও কেন তাঁকে ‘দানবীর কর্ণ’ বলা হতো এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চোখেও তিনি কেন বীরত্বের শিখরে অবস্থান করছিলেন—তা জেনে নিন।
Danveer Karna kavach kundal sacrifice: মহাকাব্য মহাভারতের পাতায় পাতায় লুকিয়ে রয়েছে অগুনতি বীরত্ব, ত্যাগ ও করুণার গল্প। তবে সমগ্র মহাভারতের সবচেয়ে ট্র্যাজিক, মহৎ এবং অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে যাঁকে গণ্য করা হয়, তিনি হলেন সূর্যপুত্র কর্ণ। কুন্তীর জ্যেষ্ঠ সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজকীয় পরিচয় থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন এবং আজীবন ‘সূতপুত্র’ হিসেবেই সমাজে অবহেলিত ও লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল তাঁকে। তবুও নিজের অতুলনীয় বীরত্ব, ধনুর্বিদ্যা এবং দানশীলতার গুণাবলীতে তিনি মহাভারতের ইতিহাসে এক অমর স্থান অর্জন করে নিয়েছেন।

কর্ণের জীবন ছিল সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির। অর্জুনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও কেন তাঁকে ‘দানবীর কর্ণ’ বলা হতো এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চোখেও তিনি কেন বীরত্বের শিখরে অবস্থান করছিলেন—তা জেনে নিন।
মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে কর্ণের মতো ট্র্যাজিক ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব খুব কমই দেখা গেছে। জন্ম থেকেই ভাগ্যের সাথে নিরন্তর লড়াই করেও তিনি কখনো নিজের আদর্শ, মূল্যবোধ ও দানশীলতা থেকে চ্যুত হননি।
১. কবচ-কুণ্ডল এবং জন্মপরিচয়ের ট্র্যাজেডি
কর্ণের জন্ম হয়েছিল মাতা কুন্তীর গর্ভে সূর্যদেবের আশীর্বাদে। তিনি জন্ম থেকেই শরীরে এক স্বর্গীয় কবচ ও কুণ্ডল নিয়ে এসেছিলেন, যা তাঁকে যেকোনো শত্রুর হাত থেকে অমরত্ব প্রদান করত। কিন্তু সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে কুন্তী তাঁকে নদীতে ভাসিয়ে দেন। পরবর্তীতে রথচালক অধিরথ ও তাঁর স্ত্রী রাধা কর্ণকে লালন-পালন করেন। ফলে তিনি রাধেয় এবং সূতপুত্র নামে পরিচিত হন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে দেবতাদের রাজা ইন্দ্র ব্রাহ্মণ ছদ্মবেশে এসে কর্ণের কাছে তাঁর জীবন রক্ষাকারী সেই কবচ ও কুণ্ডল দান হিসেবে চেয়ে নেন। কর্ণ জানতেন যে এটি দিলে তাঁর মৃত্যু সুনিশ্চিত, তবুও তিনি হাসিমুখে নিজের শরীর থেকে কেটে কবচ-কুণ্ডল দান করে দেন। এই অবিশ্বাস্য ত্যাগের জন্যই তিনি ‘দানবীর কর্ণ’ নামে খ্যাত হন।
২. অর্জুনের শ্রেষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী ও গুরু পরশুরামের অভিশাপ
কর্ণ ছিলেন অপরাজেয় এক ধনুর্ধর। গুরুদেব দ্রোণাচার্য যখন সূতপুত্র বলে তাঁকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন, তখন তিনি ভগবান পরশুরামের কাছে নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে বিদ্যা শিক্ষা অর্জন করেন। কিন্তু সত্যি প্রকাশিত হওয়ার পর পরশুরাম তাঁকে অভিশাপ দেন যে, চরম সংকটের মুহূর্তে বা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্রবিদ্যা ভুলে যাবেন। এই অভিশাপই পরবর্তীতে মহাভারতের যুদ্ধে তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. দুর্যোধনের প্রতি নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব
সমগ্র কুরুসভা যখন কর্ণকে সূতপুত্র বলে অপমান করেছিল, তখন কেবল দুর্যোধনই তাঁকে অঙ্গদেশের রাজা বানিয়ে সম্মান দিয়েছিলেন। কর্ণ জানতেন যে দুর্যোধন অধর্মের পথে হাঁটছেন, তবুও তিনি আজীবন দুর্যোধনের প্রতি বন্ধুর বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিলেন। পঞ্চপান্ডব যে তাঁর আপন ভাই—এই সত্যি শ্রীকৃষ্ণ ও কুন্তী জানানোর পরও কর্ণ পাণ্ডবদের পক্ষে যাননি, কারণ তিনি বন্ধুকে প্রতারণা করতে চাননি।
৪. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চোখে কর্ণের স্থান
মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুন যখন রথচক্র কাদা থেকে তোলার সময় নিরস্ত্র কর্ণের ওপর বাণ চালিয়েছিলেন, তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, কর্ণের মতো বীর ও দানবীর পৃথিবীতে বিরল। কর্ণ নিজের বীরত্ব ও মেধা দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, মানুষ তার জন্ম দিয়ে নয়, বরং নিজের কর্ম ও ত্যাগ দিয়েই মহান হয়ে ওঠে।
সূর্যপুত্র কর্ণের জীবন আমাদের শেখায় যে, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের নীতি ও প্রতিশ্রুতিতে কীভাবে অটল থাকতে হয়। মহাভারতের ইতিবৃত্তে অর্জুনের নাম যদি বিজয়ী হিসেবে লেখা থাকে, তবে কর্ণের নাম অমর হয়ে রয়েছে আত্মত্যাগ, দানশীলতা ও অপরিসীম বীরত্বের প্রতীক হিসেবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


