পঞ্জিকা অনুযায়ী দশমী তিথি কখন? পুজোর শুভ মুহূর্ত, নিয়মকানুন ও তাৎপর্য জানুন
২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবে বিজয়া দশমীর সুনির্দিষ্ট তারিখ কোনটি, শুভ পূজাকাল ও বিসর্জনের মহেন্দ্রক্ষণ কখন, শাস্ত্রীয় পুজো বিধি ও নিয়মাবলী কী এবং মানবজীবনে এই তিথির গভীর মহিমা কী—জেনে নিন।
সনাতন ধর্ম ও বাঙালি সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজোর অন্তিম লগ্ন হলো শুভ বিজয়া দশমী। চার দিন ধরে চলা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর দশমীর সকালে ঘটিত হয় অসুরবিনাশিনী মা দুর্গার মর্ত্যধাম ত্যাগ করে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিষাদময় মুহূর্ত। হিন্দু শাস্ত্রীয় মানদণ্ড অনুযায়ী, বিজয়া দশমী কেবল মহিষাসুর বধের উৎসব নয়; এটি অধর্মের ওপর ধর্মের, অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের এবং অসত্যের ওপর সত্যের বিজয়ের মহামিলন উৎসব। একই দিনে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে পালিত হয় ‘দসেরা’ বা ‘রাবণ দহন’, যা শ্রী রামচন্দ্রের রাবণ বধের বিজয় গাঁথাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবে বিজয়া দশমীর সুনির্দিষ্ট তারিখ কোনটি, শুভ পূজাকাল ও বিসর্জনের মহেন্দ্রক্ষণ কখন, শাস্ত্রীয় পুজো বিধি ও নিয়মাবলী কী এবং মানবজীবনে এই তিথির গভীর মহিমা কী—জেনে নিন।
১. বিজয়া দশমী ২০২৬: শুভ তারিখ, দশমী তিথি ও শুভ মুহূর্ত (Date, Tithi & Muhurat)
বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী ২০২৬ সালের শুভ বিজয়া দশমী উদযাপনের তারিখ ও সময়সীমা নিচে উল্লেখ করা হলো:
- শুভ বিজয়া দশমীর তারিখ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ (বুধবার)।
- দশমী তিথি সূচনার সময়: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ( মঙ্গলবার) রাত ১১:৪৫ মিনিট থেকে দশমী তিথি শুরু।
- দশমী তিথি সমাপ্তির সময়: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ (বুধবার) রাত ১০:১৫ মিনিটে দশমী তিথি সমাপ্ত।
- দশমী বিহিত পুজো ও অপরাজিতা পুজোর শুভ মুহূর্ত: ২১ অক্টোবর সকালে সূর্যোদয়ের পর সকাল ০৬:২৫ মিনিট থেকে সকাল ০৮:৪০ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার দশমী বিহিত পুজো ও অপরাজিতা পুজো সম্পন্ন করা পরম শাস্ত্রীয়।
- বিসর্জন ও অপরাজিতা পুজো কাল: দুপুর ০১:১৫ মিনিট থেকে বিকাল ০৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অপরাহ্ন কালীন শুভ মুহূর্তে প্রতিমা নিরঞ্জন ও দর্পণ বিসর্জন করা শুভ।
২. বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় নিয়মকানুন ও পুজো পদ্ধতি (Rituals)
শাস্ত্র মতে বিজয়া দশমীর দিনে দেবী মণ্ডপ ও গৃহে একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠার সাথে পালন করা হয়:
- ১. দশমী বিহিত পুজো ও শান্তিজল গ্রহণ: বিজয়া দশমীর সকালে পুরোহিত শাস্ত্রীয় মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দশমী বিহিত পুজো শেষ করেন। পুজোর শেষে ভক্তদের ওপর ঘটের শান্তিজল ছিটানো হয়, যা সমস্ত আরোগ্য ও কল্যাণ এনে দেয়।
- ২. দর্পণ বিসর্জন (Mirror Ritual): প্রতিমার সামনে রাখা জলের পাত্রে দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব দেখে দর্পণ বিসর্জন করা হয়। এর মাধ্যমে দেবী মর্ত্যলোক ছেড়ে সূক্ষ্ম রূপে শিবালয়ে যাত্রা করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
- ৩. দেবীর বরন ও সিঁদুর খেলা: সধবা নারীরা বরন ডালায় প্রদীপ, মিষ্টি, পান, সুপুরি ও সিঁদুর নিয়ে মাকে বরন করেন। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করার পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা ও শুভ বিজয়ার মিষ্টি মুখ।
- ৪. অপরাজিতা পুজো ও নীলকণ্ঠ পাখি দর্শন: বিজয়া দশমীতে অপরাজিতা লতা হাতে বেঁধে অপরাজিতা দেবীর পুজো করা হয়, যা বছরভর যেকোনো কাজে জয়ের বার্তা আনে। উত্তর ভারতে এই দিনে নীলকণ্ঠ পাখি দর্শনের বিশেষ প্রথা রয়েছে।
- ৫. বিজয়ার প্রণাম ও কোলাকুলি: বিসর্জনের পর কনিষ্ঠরা জ্যেষ্ঠদের চরণে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন এবং সমবয়সীরা কোলাকুলি ও প্রীতি সম্ভাষণে মেতে ওঠেন।
৩. বিজয়া দশমীর গভীর আত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য (Significance)
বিজয়া দশমী উৎসবের পেছনে রয়েছে শাস্ত্রীয় ইতিহাস ও গভীর জীবন দর্শন:
- মহিষাসুর বধ ও ধর্ম সংস্থাপন: দেবী দুর্গা টানা নয় দিন নয় রাত যুদ্ধ করার পর আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে মহিষাসুরকে বধ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে সুরক্ষাদান করেছিলেন। তাই এটি অশুভ শক্তির ধ্বংস ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক।
- শ্রী রামচন্দ্রের বিজয় যাত্রা: রামায়ণ মতে, বিজয়া দশমীর এই পরম শুভ তিথিতেই ভগবান শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণকে বধ করে সীতা দেবীকে উদ্ধার করেছিলেন। সেই কারণেই এই দিনটিতে দসেরা উপলক্ষে রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
- সামাজিক প্রীতি ও সম্প্রীতির বার্তা: বিজয়া দশমী পুরোনো হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার ভুলে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে। মিষ্টি মুখ ও প্রণাম-আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে সমাজে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার বাতাবরণ তৈরি হয়।
২1 অক্টোবর ২০২৬-এর শুভ বিজয়া দশমী বাঙালির ঘরে ঘরে ও সমগ্র ভারতবর্ষে সুখ, শান্তি ও মঙ্গলের সুবাতাস বয়ে আনুক। মায়ের বিদায়ের সুরের সাথে সাথে দেবী দুর্গার আশীর্বাদে আমাদের ভেতরের সমস্ত আসুরিক ও নেতিবাচক চিন্তা বিনাশ হোক এবং শুভ শক্তির জয় হোক।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


