Goghat News: বিজেপি কর্মী কাকাকে না পেয়ে আক্রোশে খুন ভাইপো? মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে গোঘাটে উত্তেজনা
Goghat News: নিহত ঋতম কুশারীর বাবা অরূপ কুশারী এবং তাঁর কাকা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের স্পষ্ট বক্তব্য, কাকার এই রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে এলাকার একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আক্রোশ ছিল।
Goghat News: কাকা বিজেপি করেন—শুধুমাত্র সেই রাজনৈতিক আক্রোশের জেরেই কী ১৬ বছরের কিশোর ভাইপোকে প্রাণ দিতে হলো? হুগলির (Hooghly) গোঘাটে (Goghat) এমনই চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, কাকার উপর ক্ষোভ মেটাতে না পেরে তাঁর নিরীহ নাবালক ভাইপোকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম ঋতম কুশারী। ১৬ বছরের ওই মাধ্যমিক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোঘাটের খানাটি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে দুষ্কৃতীরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তাকে। এরপর তাকে জোরপূর্বক কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে কানাদিঘির জলে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি তাকে আরামবাগের প্রফুল্লচন্দ্র সেন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, সন্তানকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছেন মা। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে। কাকাকে মারতে না পেরে তাঁর ছেলেকে নিশানা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সন্তানহারা মায়ের কথায়, 'ওরা সবাই মিলে আমার ছেলেটাকে মেরে দিল। কাকাকে মারতে পারেনি, আমার ছেলেটাকে মেরে দিল। ওরা কিছুদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করছিল। সবাই মিলে প্ল্যান করে আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলল। আমি শাস্তি চাই। যারা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের সবাইকে এনকাউন্টার করা হোক।' তিনি আরও বলেন, 'এমএলএ, মন্ত্রী সবাই যেন ওদের শাস্তি দেয়। যে বন্ধুগুলো ডেকে ওকে নিয়ে গিয়েছিল, তাদেরও যেন শাস্তি হয়। সকালে ওদের ধরে রাতে এনকাউন্টার করে দিক। আমার যেমন কোল খালি হয়েছে, ঠিক তেমন করে সেই সমস্ত মায়েদেরও কোল খালি হোক। যেন কেউ বেঁচে না থাকে।' পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ঋতমের বাবা অরূপ কুশারী এবং তাঁর কাকা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের স্পষ্ট বক্তব্য, কাকার এই রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে এলাকার একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আক্রোশ ছিল। সেই পুরনো আক্রোশ থেকেই কাকাকে কিছু করতে না পেরে পড়াশোনা ও কম্পিউটারে দক্ষ ঋতমকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে।
কিশোরের মৃত্যুর নেপথ্যে রাজনৈতিক আক্রোশ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাকার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই কী এই ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ এবং মায়ের বক্তব্য ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিবরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
E-Paper

