Baruipur Case: 'যাঁরা ভোটে...,' মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই বারুইপুর গণপিটুনিকাণ্ডে ধৃত আরও ২, এখনও পর্যন্ত সংখ্যা সাত
Baruipur Case: ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। রবিবার সকালে তার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায়।
Baruipur Case: বারুইপুরের গণপিটুনিকাণ্ড ঘিরে তদন্তে বড় অগ্রগতি। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবককে হত্যার ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন। আর তার পরেই বারুইপুরে গণপিটুনিতে ৩৫ বছরের যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। রবিবার সকালে তার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায়। তবে উত্তেজনা থামেনি। দেহ নিয়ে বিক্ষোভের সময় উন্মত্ত জনতা সম্পূর্ণ সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই পাঁচ জনই আদালতের নির্দেশে আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে আসার পরই শনিবার আরও দু’জন ধরা পড়েন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতেরা হলেন, ফারুক সর্দার, রাজেশ সর্দার, শরিফুল মল্লিক, সাবিউদ্দীন বৈদ্য, ফরিদ শেখ, আবু সিদ্দিক সর্দার এবং শামিম আলি খান।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বেআইনি জমায়েত, অশান্তি বাধানো, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে জনসাধারণকে আঘাত এবং গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন, তা আগেই জানান শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২৫ লক্ষ টাকার চেক। এছাড়া, যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিওয় যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’ ইন্দ্রজিতের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বাড়িও প্রশাসনের উদ্যোগে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়বার বদলানো হল তদন্তকারী অফিসার
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের বদলানো হল তদন্তকারী অফিসার (আইও)। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তদন্তকারী অফিসার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল। এবার মামলার ভার দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশের ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের হাতে। এর আগে এই মামলার তদন্তভার ছিল জেলা পুলিশের আধিকারিক দিগন্ত মণ্ডলের ওপর। পরে সেই দায়িত্ব পান বারুইপুর থানার প্রাক্তন আইসি জয়ন্ত পোদ্দার। এবার শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রাখল জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মামলার প্রতিটি দিক নতুন করে খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, এই নারকীয় ঘটনায় ইতিমধ্যে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল অভিযুক্তদের একজন পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন, যার পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
E-Paper

