৬০ লাখ বিচারাধীনের মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র ৬ লাখ, ভিন রাজ্য থেকে বাংলায় ২০০ বিচারক
কিন্তু প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ থাকতে হল কেন? কমিশন সূত্রে কয়েকটি কারণ জানানো হচ্ছে।
রাজ্যে ভোট কবে? দিনক্ষণ জানা যাবেই বা কবে? ভোট কত দফায়? এই মুহূর্তে ভোটমুখী বাংলায় প্রশ্ন একাধিক। আর তারমধ্যেই রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। বর্তমানে চলছে ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া। জমা দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখছেন রাজ্যের বিচারকরা। এবার ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে ২০০ বিচারক সেই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নেবেন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ৭ মার্চ তাঁদের রাজ্যে পৌঁছনোর কথা। মূলত দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলাকে পাখির চোখ করেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতএব মতুয়াগড়ের দায়িত্ব থাকছে তাঁদের হাতে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৬ লক্ষ নাম খতিয়ে দেখার কাজ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিষ্পত্তির অর্থই চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠে আসা নয়। অর্থাৎ নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর যাঁদের দাবি বৈধ প্রমাণিত হবে, কেবল তাঁদেরই ঠাঁই হবে মূল তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যের বিচারকরা ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের তথ্য যাচাই করছেন। বর্তমানে রাজ্যে ৫০৫ জন বিচারক এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন। দেশের সবোর্চ্চ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছিল প্রয়োজনে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডের বিচারকদেরও বঙ্গ এসআইআরে নথি যাচাইয়ের কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। সেই মোতাবেকই ২০০ জন বিচারককে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়ার মতো মতুয়াগড়ে কাজে লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তার আগে দু’দিন তাঁদের প্রশিক্ষণ হবে। তারপর ৯ মার্চ থেকে তাঁরা কাজ শুরু করবেন। কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই তালিকার জট যতটা সম্ভব কাটিয়ে ফেলা।
ভিন রাজ্য থেকে আসা এই অফিসারদের মূলত আটটি জেলায় মোতায়েন করা হবে। জেলাগুলি হল, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলি, বীরভূম এবং নদিয়া। কিন্তু প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ থাকতে হল কেন? কমিশন সূত্রে কয়েকটি কারণ জানানো হচ্ছে। ৬০ লক্ষের মধ্যে ৫ লক্ষ শুনানিতে আসেননি। অনেকে কোনও নথিই দেননি। কিছু ভোটার এমন নথি দিয়েছেন যা গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে ইআরওরা ভোটারকে বাতিল হিসাবে মনে করেননি। এছাড়াও ৮-১০ লক্ষ ভোটার নোটিস পায়নি। তাঁরা আসেন। তাঁদের নামও বিচারধীন তালিকায় রয়েছে। এখন মূল লক্ষ দ্রুত ভোটারদের মামলা নিষ্পত্তি করে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা। তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি ভোটের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে কী এই বিপুল সংখ্যক ভোটার ‘সাইড লাইনে’ থাকবেন। সেই উত্তর মেলেনি।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোম ও মঙ্গলবার দফায় দফায় রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে বিএলওদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। তারপর দিল্লি ফিরে যাবেন। তারপরই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে বলেই অনুমান। এদিকে, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ধর্নায় বসতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে (এসপ্ল্যানেড) তিনি ধর্না-অবস্থানে বসবেন।
E-Paper











