Adani Hospital in Newtown: নিউটাউনে ২০০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল আদানির, গরিবদের জন্য ফ্রি ১০০০ বেডের ঘোষণা

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবন থেকে এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হাসপাতালের অর্ধেক অর্থাৎ ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণভাবে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের ভূমিপুজো হবে বলেও জানান তিনি।

Published on: Jul 9, 2026, 14:30:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Adani Hospital in Newtown: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে আদানি গোষ্ঠী। নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে ২,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল। এই হাসপাতাল তৈরি করবে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবন থেকে এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হাসপাতালের অর্ধেক অর্থাৎ ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণভাবে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের ভূমিপুজো হবে বলেও জানান তিনি।

নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে ২,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল। এই হাসপাতাল তৈরি করবে আদানি গোষ্ঠী। (REUTERS)
নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে ২,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল। এই হাসপাতাল তৈরি করবে আদানি গোষ্ঠী। (REUTERS)

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই হাসপাতাল শুধু রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানই বাড়াবে না, সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসার সুযোগও অনেকটাই বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ যাতে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা বিনামূল্যে বা বিশেষ সুবিধার আওতায় রাখা হবে। বাকি ১,০০০টি শয্যা বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে, যার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচালন ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত শনিবার। ভবানীপুরে এক আলোচনাচক্রে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আদানি গোষ্ঠী রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। সেই ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকল্পের রূপরেখা আরও স্পষ্ট করলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশেও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিনিয়োগে আগ্রহীরা যেন শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেই আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর দাবি, শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার অন্যতম পথ।

দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প বিনিয়োগের অভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সিঙ্গুর প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর বহু শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে নতুন করে বড় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়নি বলে বিরোধীদের অভিযোগ। যদিও তৎকালীন সরকার একাধিকবার বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির দাবি করেছিল। তবে সেই সব ঘোষণার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছিল।

সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই দাদনপাত্রবারে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রকল্প নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এবার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একই শিল্পগোষ্ঠীর বড় বিনিয়োগের ঘোষণা রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউটাউনে এই ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি হলে শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা পূর্ব ভারতের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিপুল সংখ্যক শয্যার সুবিধা একসঙ্গে মিললে এই হাসপাতাল পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের জন্য ১,০০০টি শয্যা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবায়ও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More