21 July Row Congress Vs TMC: ২১ জুলাই নিয়ে নয়া রাজনৈতিক তরজা, শহিদ মিনারের মঞ্চে মমতাকে আমন্ত্রণ প্রদেশ কংগ্রেসের
মঙ্গলবার শহিদ মিনারে সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যান শুভঙ্কর সরকার-সহ প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যিই 'সৎ সাহস' থাকে, তবে তিনি যেন ইতিহাস বিকৃত না করে শহিদ মিনারের মঞ্চে এসে অতীতের ভুল স্বীকার করেন।
21 July Row Congress Vs TMC: ২১ জুলাই শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছরের মতো ধর্মতলায় তাদের শহিদ দিবসের সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ কয়েক দশক পর এবার শহিদ মিনারে আলাদা করে শহিদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। আর সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি পর্ব থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে কার্যত খোঁচা মারলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

মঙ্গলবার শহিদ মিনারে সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যান শুভঙ্কর সরকার-সহ প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যিই 'সৎ সাহস' থাকে, তবে তিনি যেন ইতিহাস বিকৃত না করে শহিদ মিনারের মঞ্চে এসে অতীতের ভুল স্বীকার করেন।
শুভঙ্কর সরকারের দাবি, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যে আন্দোলন হয়েছিল, তা ছিল যুব কংগ্রেসের কর্মসূচি। সেই সময় ব্যবহৃত পতাকাও ছিল যুব কংগ্রেসের, কংগ্রেসের প্রতীক-সম্বলিত পতাকা। তাঁর বক্তব্য, সেই ইতিহাস অস্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই মঞ্চে আসেন এবং অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন, তবে সেটাই হবে শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
তিনি আরও বলেন, 'ভুল স্বীকার করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে শান্তি আসবে। আজও ২১ জুলাইয়ের ঘটনার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি যদি স্বীকার করেন যে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এই মঞ্চে এসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, তাহলে অন্তত কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত হবে। এই মঞ্চে তাঁকে স্বাগত।'
প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের পর থেকেই ২১ জুলাই শহিদ স্মরণের মূল উদ্দেশ্য বদলে গিয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, শহিদ দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রাজনৈতিকভাবে অন্য খাতে প্রবাহিত হয়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়টি তুলে ধরে একটি পোস্টারও প্রকাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। সেই পোস্টারে ২১ জুলাইয়ের আন্দোলনের ইতিহাস এবং কংগ্রেসের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, ১৯৯৩ সালের গুলিচালনার সময় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত, যিনি পরে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রীও হন। সেই সময়কার প্রশাসনিক ফাইল প্রকাশ করে সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের মতে, ওই নথি প্রকাশ হলে গুলিচালনার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট হবে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মতলায় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে শহিদ দিবস পালন করে। অন্যদিকে, বহু বছর পর এবার শহিদ মিনারে আলাদা কর্মসূচি আয়োজন করছে প্রদেশ কংগ্রেস। ফলে একই দিনে দুই রাজনৈতিক শিবিরের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। তার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইল, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


