পার্ক ইনস্টিটিউশন স্কুলে ২৫ ছাত্রী অসুস্থ, খাবার থেকে বিষক্রিয়া? রাতেই পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাঁদের প্রত্যেককেই তড়িঘড়ি কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থ ছাত্রীদের মধ্যে একাধিকজনের তীব্র জ্বর, পেটে যন্ত্রণা এবং বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের পার্ক ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস স্কুলে একসঙ্গে ২৫ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাঁদের প্রত্যেককেই তড়িঘড়ি কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থ ছাত্রীদের মধ্যে একাধিকজনের তীব্র জ্বর, পেটে যন্ত্রণা এবং বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পরেই স্কুলের ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একসঙ্গে এতজন ছাত্রী একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এর নেপথ্যে কি খাবার থেকে বিষক্রিয়া, নাকি কোনও সংক্রমণ? যদিও এখনও পর্যন্ত অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য দফতর।
জানা গিয়েছে, অসুস্থ ছাত্রীরা প্রত্যেকেই ওই স্কুলের হস্টেলে থাকত। সোমবার দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টার মধ্যে দফায় দফায় মোট ২৫ জন ছাত্রীকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যেককে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকেরা পৃথকভাবে পরীক্ষা করেন। উপসর্গ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অধিকাংশ ছাত্রীর শরীরে তীব্র জ্বর, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা এবং ঘন ঘন বমির উপসর্গ ছিল। একসঙ্গে এতজন পড়ুয়া প্রায় একই সময়ের মধ্যে একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক চিকিৎসকেরা। আপাতত প্রত্যেক ছাত্রীকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে হাসপাতালে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি চিকিৎসাধীন ছাত্রীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে অসুস্থতার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। স্কুলে দেওয়া মিড-ডে মিল বা অন্য কোনও খাবার খাওয়ার পরই কি ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? খাবার অথবা পানীয় জল থেকে কোনও ধরনের ফুড পয়জনিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
অভিভাবকদের একাংশের আশঙ্কা, যদি খাবার বা পানীয় জল থেকে সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে হস্টেলের আরও পড়ুয়া আক্রান্ত হতে পারেন। আবার সংক্রমণজনিত সমস্যা হলে সেটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে স্কুল ও হস্টেলের খাবার, পানীয় জল এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।
তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এখনই কোনও নির্দিষ্ট কারণের কথা বলা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে ২৫ জন ছাত্রীই চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্পষ্ট হবে, পার্ক ইনস্টিটিউশনের ছাত্রীদের অসুস্থতার নেপথ্যে খাবার থেকে বিষক্রিয়া, পানীয় জলের সমস্যা, নাকি কোনও সংক্রমণ রয়েছে। ফলে রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য দফতর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


