Bangladeshi Infiltrators: আঁধারে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশ, বাংলাদেশি হিন্দুদের ধরল কোস্ট গার্ড
ধৃত মৎস্যজীবী বিধান দাসের দাবি, 'আমরা সকালে মাছ ধরতে এসেছিলাম। অজান্তেই ভারতীয় জলসীমার কাছে চলে আসি। তখন উপকূলরক্ষী বাহিনী আমাদের আটক করে। রবীন্দ্রনাথ দাসকে স্বজাতির মানুষ বলেই সঙ্গে নিয়ে আসছিলাম।'
অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা। তবে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় ধরা পড়ল সেই সব বাংলাদেশিরা। ঘটনাটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায়। ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়া বাংলাদেশি ট্রলারটিকে তাড়া করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। পরে সেটিকে আটক করা হয়। তাতে ছিল ২৮ জন বাংলাদেশি। ১৬ ফেব্রুয়ারি এই ২৮ জনকে আটক করে নিয়ে আসা হয় ফ্রেজারগঞ্জে। সেখানে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই অনুপ্রবেশকারীদের। এদিকে আটক হওয়া ট্রলারটির নাম - 'সাগর ৩'।

জানা গিয়েছে, আটক হওয়া মৎস্যজীবীরা অধিকাংশই বাংলাদেশের চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার বাসিন্দা। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে এই বাংলাদেশিদের গ্রেফতার করেছে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ। এদিকে জেরায় এই বাংলাদেশিরা দাবি করেছেন, পথ ভুলেই ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছিল তারা। তবে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিকে কীভাবে পথ ভুলে তারা এল, আদৌ পথ ভুলেই তারা এসেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে পুলিশ। পরে পুলিশ জানতে পারে, একজনকে ভারতে অনুপ্রবেশ করাতে সাহায্য করার লক্ষ্যেই ভারতের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল বাংলাদেশি ট্রলারটি। ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ধৃত বাংলাদেশিদের কাকদ্বীপ আদালতে পেশ করে পুলিশ।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, মাছ ধরার আড়ালে রবীন্দ্রনাথ দাস নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় জলসীমায় আনার পরিকল্পনা ছিল। তাঁকে ট্রলারে করে সীমান্ত পেরিয়ে আনা হচ্ছিল বলেই অভিযোগ। ঠিক সেই সময়েই টহলরত উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরে পড়ে ট্রলারটি এবং অভিযান চালানো হয়। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, 'ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এটি কোনও বড় অনুপ্রবেশ চক্রের অংশ কি না। অতীতে একইভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা হয়েছে কি না, তাও তদন্তে দেখা হচ্ছে।' অন্যদিকে, ধৃত মৎস্যজীবী বিধান দাসের দাবি, 'আমরা সকালে মাছ ধরতে এসেছিলাম। অজান্তেই ভারতীয় জলসীমার কাছে চলে আসি। তখন উপকূলরক্ষী বাহিনী আমাদের আটক করে। রবীন্দ্রনাথ দাসকে স্বজাতির মানুষ বলেই সঙ্গে নিয়ে আসছিলাম।' আটক হওয়া মৎস্যজীবী রতন দাস বলেন, 'আমরা মাছ ধরতে এসেছিলাম। বাংলাদেশের বাসিন্দা। বুঝতে পারিনি ভারতের জলসীমায় এসে গিয়েছি।' তিনি আবার দাবি করেন, অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা রবীন্দ্র দাস আদতে ভারতীয়। তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরতে এই বোটে চেপেছিলেন।
E-Paper












