Mandarmani Beach: নামতে পারবেন না সমুদ্রে! মন্দারমণি বিচে ২ কিমি এলাকা ‘রেড জোন’,পুজোয় দুর্ঘটনা এড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা
Mandarmani Beach Safety: প্রশাসন সূত্রে খবর, গত এক মাসে মন্দারমণিতে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পর্যটকদের এই লাগাতার প্রাণহানি ঠেকাতেই এবার কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও মন্দারমণি উপকূল থানা।
Mandarmani Beach Safety: দু-দিনের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার প্রিয় জায়গা দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুর। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে দুর্ঘটনার কারণে একাধিকবার শিরোণামে এসেছে এই সমুদ্র সৈকত। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন প্রশাসন। গত এক মাসে সমুদ্রে তলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ জন পর্যটক। একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মন্দারমণিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আরও কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। দুর্ঘটনা রুখতে মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতের (Mandarmani Beach) প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সমুদ্র স্নানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে মোহনা সংলগ্ন বিপজ্জনক এলাকাটিকে ‘রেড জোন’ (Red Zone) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কীভাবে চিহ্নিত করা হল ‘রেড জোন’?
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত এক মাসে মন্দারমণিতে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পর্যটকদের এই লাগাতার প্রাণহানি ঠেকাতেই এবার কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও মন্দারমণি উপকূল থানা। দুই থানার উদ্যোগে ৩ নম্বর ঘাট সংলগ্ন প্রায় দু’কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দড়ি ও লাল ফিতে দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘রেড জোন’ বা অতি বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে। কোনও পর্যটক যাতে নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে সমুদ্রের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নেমে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, সৈকতে দৃশ্যমান এই কড়াকড়ি এবং ‘রেড জোন’ চিহ্ন দেখে পর্যটকেরা আরও সতর্ক হবেন। সমুদ্রের বিপজ্জনক অংশে নামা এড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
দিঘায় বাড়ছে নিরাপত্তা
সামনেই দুর্গাপুজো। এই উৎসবের মরশুমে মন্দারমণি মতোই দিঘায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুজোয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এখন থেকেই অতিরিক্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত কয়েকমাসে দিঘার সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ ও মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পুজোর মরশুমে যাতে দুর্ঘটনা না বাড়ে তা নিশ্চিত করতেই তৎপরতা প্রশাসনের। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দিঘার সমুদ্র সৈকতে পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার, উদ্ধারকারী দল এবং নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, নতুন স্পিডবোটও দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, ‘মন্দারমণিতে দুর্ঘটনা কমাতে পর্যটকদের সচেতন করতে আমরা বেশ কিছু নিয়ম জারি করেছি। সেই সঙ্গে পর্যটকদের সচেতন থাকার কথা ঘোষণা করছি। পর্যটন কেন্দ্রের ঘাটগুলিতে পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার, নুলিয়া ও উদ্ধারকারী দল নিযুক্ত রয়েছে। পুজোয় সেই সংখ্যা বাড়ানো হবে। আগে যেখানে ৬০-৬৫ জন নিযুক্ত ছিল সেটি এখন বাড়িয়ে ১০০ জন করা হবে। ইতিমধ্যে তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পর্যটক যাতে সুন্দরভাবে মন্দারমণির পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন, তার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ পর্যটকেরা সমস্যায় পড়লে কী করণীয়, সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের কী ভাবে উদ্ধার করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারও জানিয়েছেন, 'আনন্দ যেন বিপদ না ডেকে আনে তা খেয়াল রাখতে হবে। পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। শুধু মাইকে প্রচার করে কিছু কাজ হবে না।' প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
E-Paper

