Bangladeshi Infiltration: বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ বাংলাদেশিকে মালদহে আনা হল, সীমান্ত দিয়ে পুশ ব্যাকের প্রস্তুতি

কর্ণাটক পুলিশ গত ৯ অগস্ট ‘অপারেশন মুক্ত’ নামে বিশেষ অভিযান চালায়। বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এবং ইলেকট্রনিক সিটি এলাকায় এই অভিযান হয়। সেখানে মোট ২ হাজার ৯৪৪ জনের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

Published on: Sep 2, 2026, 14:05:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কাজের খোঁজে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁরা ছড়িয়ে পড়েছিলেন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় কর্ণাটক পুলিশ। সেই অভিযানে আটক হওয়া ৩১ জন বাংলাদেশিকে এবার পশ্চিমবঙ্গের মালদহে আনা হল।

বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ বাংলাদেশিকে মালদহে আনা হল, সীমান্ত দিয়ে পুশ ব্যাকের প্রস্তুতি (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে এএফপি)
বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ বাংলাদেশিকে মালদহে আনা হল, সীমান্ত দিয়ে পুশ ব্যাকের প্রস্তুতি (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে এএফপি)

মঙ্গলবার রাতে মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছয় ওই ৩১ জনকে নিয়ে বিশেষ ট্রেন। নিরাপত্তার জন্য স্টেশনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ। কর্ণাটক পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল তাঁদের সঙ্গে ছিল। পরে রাতেই আটক ব্যক্তিদের মালদহ জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁদের একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। এরপর শুরু হবে তাঁদের দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া। মালদহের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

কর্ণাটক পুলিশ গত ৯ অগস্ট ‘অপারেশন মুক্ত’ নামে বিশেষ অভিযান চালায়। বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এবং ইলেকট্রনিক সিটি এলাকায় এই অভিযান হয়। সেখানে মোট ২ হাজার ৯৪৪ জনের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

তদন্তে ১০৫ জনকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বেঙ্গালুরু থেকে মালদহে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথি ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। ভারতে আসার পর বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হন তাঁরা। কেউ নির্মাণকাজে। কেউ অন্য ধরনের শ্রমিকের কাজ করছিলেন। এভাবে তাঁরা দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখন তাঁদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও দালাল বা পাচারচক্র তাঁদের ভারতে ঢুকতে সাহায্য করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের বেঙ্গালুরু থেকে মালদহে আনার ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রের নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আটক অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

এর আগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ জনকে মালদহে আনা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মালদহ সীমান্ত বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি। তাই সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে তাঁদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। শুধু সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের জন্য পৌঁছে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ অনুপ্রবেশকারীদের একাংশ। ফলে এক রাজ্যে ধরা পড়ার পর অন্য রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে মালদহের হোল্ডিং সেন্টারে। ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কীভাবে এগোয়, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় কী এবং শেষ পর্যন্ত কবে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়—সেদিকেই নজর প্রশাসনের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More