6th Pay Commission DA Issue Update: বেতন মিললেও পুজোর আগে বর্ধিত ডিএ নিয়ে চিন্তায় এই সরকারি কর্মীরা

 চলতি মাসের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনের ব্যাঙ্কে পাঠানো কর্মীদের তালিকাকেই কার্যত কাজে লাগানো হয়েছে। নতুন করে পে-স্কেল অনুযায়ী তথ্য আপডেট করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাঁদের বেতন কাঠামোয় সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও সেই বদলের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

Published on: Oct 2, 2026, 10:01:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

টানা কুড়ি দিন ধরে কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় সার্ভার বিকল। বৃহস্পতিবারও তার জেরে পুরোপুরি স্বাভাবিক হল না পুর পরিষেবা। সমস্যা শুধু নাগরিক পরিষেবাতেই আটকে নেই। সার্ভার অচল থাকায় বন্ধ ‘ই-কেএমসি ২.০’ পোর্টালও। মাসের শুরুতে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরসভার কর্মীদের বেতনে। বৃহস্পতিবার স্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও তা হয়েছে পুরনো হিসাবের ভিত্তিতে। ফলে যাঁদের পদোন্নতির কারণে বেতন বেড়েছে, তাঁরা সেই বর্ধিত প্রাপ্য পাননি।

যাঁদের বেতন কাঠামোয় সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও সেই বদলের প্রতিফলন দেখা যায়নি।
যাঁদের বেতন কাঠামোয় সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও সেই বদলের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনের ব্যাঙ্কে পাঠানো কর্মীদের তালিকাকেই কার্যত কাজে লাগানো হয়েছে। নতুন করে পে-স্কেল অনুযায়ী তথ্য আপডেট করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাঁদের বেতন কাঠামোয় সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও সেই বদলের প্রতিফলন দেখা যায়নি। কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, প্রাপ্য টাকা পরে মিললেও কবে সেই বকেয়া হিসাব মিটবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সরকারি কর্মীদের ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ এবং চলতি মাসের বেতন দেওয়ার কথা। কিন্তু ‘ই-কেএমসি ২.০’ পোর্টাল সক্রিয় না হলে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ডিএ প্রাপকদের তালিকা কী ভাবে তৈরি হবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুরকর্মীদের মধ্যে।

প্রায় ৩৩ হাজার পুরকর্মীর ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএর হিসাব কী ভাবে তৈরি হবে, তা নিয়েই সংশয় বাড়ছে। গত মাসে বিশেষ নির্দেশের ভিত্তিতে পুরনো তালিকা ধরে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। একই পদ্ধতি অক্টোবরে নেওয়া হলেও প্রত্যেক কর্মীর নতুন বেতন অনুযায়ী ডিএর সঠিক অঙ্ক কী ভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেটাই বড় সমস্যা।

সার্ভার বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে ১০০ দিনের কর্মীদের উপরও। আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের একটি বড় অংশ এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়নি। পুরসভার পে শিট তৈরি করতে না পারায় এই সমস্যার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবারও পুরসভার সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের বেতন মেলেনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরভবনের শীর্ষ আধিকারিকদের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে হাতে লেখা বা ম্যানুয়াল বেতন তালিকা। সেই ব্যবস্থায় ১০০ দিনের কর্মীদের একাংশের টাকা মেটানো সম্ভব হয়েছে। দুদিন আগে অনেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে বেতন এলেও স্বাস্থ্য এবং সাফাই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত বহু ১০০ দিনের কর্মী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টাকার অপেক্ষায় ছিলেন।

সব মিলিয়ে সার্ভার সমস্যা এখন পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি কর্মীদের বেতন ব্যবস্থাতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে পদোন্নতির পরে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া টাকা কবে মিলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন স্তরে। বর্ধিত ডিএ নিয়েও একই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পোর্টাল স্বাভাবিক না হলে নতুন হিসাব কতটা নির্ভুল ভাবে করা যাবে, তা নিয়েই মূল চিন্তা।

তবে এর মাঝেই পুরসভার তরফে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জনকল্যাণ শিবিরের জন্য আলাদা সার্ভারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুরসভা জানিয়েছে। ফলে ওই পরিষেবায় অনলাইন ব্যবস্থার সমস্যা হবে না বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু পুরসভার মূল সার্ভার কবে পুরোপুরি সচল হবে, আর কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ও বর্ধিত পাওনা কবে মিটবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More