'এক মাসের মধ্যে ৮০ কোটি...,' বেলডাঙায় 'বাবরি' নির্মাণে বড় অনুদান হুমায়ুনকে, কে তিনি?
মসজিদ নির্মাণের জন্য মোট বাজেট ৩০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু এত টাকার জোগান কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন ওঠার পরপরই অনুদানের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একটি নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য। আর তা হল - মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। পূর্বঘোষণা মতোই রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে নিয়েই শনিবার বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে তাঁর এই কর্মসূচি ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলতেই মহা সমারোহে সেই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। এই বাবরি মসজিদ তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তবে এই টাকার একটা পয়সাও তিনি সরকারের থেকে নেবেন না বলে জানিয়ে দিলেন হুমায়ুন। পুরোটাই সংখ্যালঘুদের অনুদানে। সেই সঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এক ব্যক্তিই বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য ৮০ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছেন।

শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় দেখা যায় চোখে পড়ার মতো ভিড়। সারি সারি ইট নিয়ে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রস্তুতি করছেন স্থানীয়রা। এরপর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে খোদ হুমায়ুন সেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকেই হাতিয়ার করে বলেন, 'মসজিদের ইট কাউকে খুলতে দেব না।' মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক বলেন, 'আমরা ধর্মের প্রতি আমি আস্থাশীল, অন্য ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। তবে কেউ যদি এই মসজিদের ইট খুলতে আসে... শহিদ হব তাও এর একটা ইটও খুলতে দেব না। মুর্শিদাবাদের মাটিতে উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশ থেকে এসে কেউ ইট খোলার চেষ্টা করবে, হতে দেব না।' মসজিদ নির্মাণের জন্য মোট বাজেট ৩০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু এত টাকার জোগান কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন ওঠার পরপরই অনুদানের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এদিন ভিত্তিস্থাপনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে হুমায়ুন ফের জানান, 'একজন রয়েছেন, তিনি নাম করতে বারণ করেছেন। আগামী ১ মাসের মধ্যে ৮০ কোটি টাকা আমার সংস্থাকে দেবে। কোম্পানি থেকে দেবে। টাকার কোনও অভাব হবে না। সরকারের টাকায় মসজিদ করব না। তাতে পবিত্রতা নষ্ট হবে।'
অযোধ্যা থেকে প্রায় ৮৬৮ কিলোমিটার দূরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ২৫ বিঘার জমি হাতে রয়েছে হুমায়ুনের। তারমধ্যে আপাতত ৩ কাঠা জমির ওপরেই মসজিদের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি হয়েছে। কেবল মসজিদ নয়, হুমায়ুন জানান, ২৫ বিঘা জায়গার মধ্যে ইসলামিক হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, হেলিপ্যাড, মুসাফিরখানা হবে। সেই জায়গাটি বাছা হয়েছে, জাতীয় সড়ক থেকে খুব বেশি দূরে নয়। মেরেকেটে ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার। এই মসজিদ নির্মাণের ইস্যুকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও এই অস্বস্তি দলকে বহুদূরে বয়ে নিয়ে যেতে হতে পারে, তেমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সংখ্যালঘু কার্ড খেলছেন হুমায়ুন কবীর। আর তৃণমূলের দাবি, সংখ্যালঘু প্রার্থীর বিষয়ে মিথ্যে তথ্য দিচ্ছেন হুমায়ুন।












