বাংলায় নয়া সমীকরণ! হুমায়ুনের দলেই ভরসা রাখল মিম, সমালোচনায়...
হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল একাই ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০টির বেশি আসনে প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট গড়ছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। সুদূর হায়দরাবাদ থেকে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। আর এই জোট ঘোষণা হতেই সমালোচনায় সরব হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়েরই একাংশ। সুশীল সমাজের সদস্য এবং ধর্মীয় নেতারা ভোটারদের এই জোটকে সমর্থন না করার আবেদন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এমন একটি রাজ্যে যেখানে ১০০টিরও বেশি বিধানসভা আসনে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব রয়েছে, সেখানে এই জোট মুসলিম ভোট ভোট কাটাকাটি বা ভাগাভাগি করতে পারে।

মিল্লি ইত্তেহাদ পরিষদের ফোরাম ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড কমিউনাল অ্যামিটির সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ বলেন, 'এই জোট সাম্প্রদায়িক এবং অশুভ। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং হুমায়ুন কবীর দুজনেই বিজেপির বি এবং সি টিম। ভোটারদের অবশ্যই এমন দলগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে, যারা রাজ্যের পরিবেশকে কলুষিত করার এবং বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। হুমায়ুন কবীর ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। অন্যান্য অনেক রাজ্যে ওয়েইসির দলের পারফরম্যান্স বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।' কলকাতার একটি ইমাম সংগঠনের সদস্য সৈয়দ সাকিব মোল্লা বলেন, 'ওদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল মুসলিম ভোট ভাগাভাগি এবং বিজেপিকে সাহায্য করা। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে বাংলার মুসলিমরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা স্বঘোষিত মুসলিম দলগুলোকে ভোট দেন না।'
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, 'বিজেপি-বিরোধী যে ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলকে শক্তিশালী করবে না, তা বৃথা যাবে।' এদিকে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, 'আগামী দিনগুলিতে নির্বাচন শেষ হলে এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হলে তা দেখা যাবে; আমরা তখন দেখব।' এখন দেখার, এই নতুন জোট বাংলার ভোট-রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং কতগুলি আসনে মিম প্রার্থী দেয়। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। দল গঠনের পর থেকেই তিনি তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই লক্ষ্যেই মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠকও করেন। তবে বামফ্রন্ট বা আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়া সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় হুমায়ুন ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল একাই ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০টির বেশি আসনে প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর রবিবার হায়দরাবাদের এক সভা থেকে ওয়েইসি জানান, বাংলায় হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট বেঁধেই লড়বে মিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েক বছরে বাংলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে মিম। বিশেষ করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় তাদের প্রভাব বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মতে।
E-Paper

